সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গল্প 👉 সততা ১

 গত ছব্বিশ বছর ধরে আমি একটা অফিসে কর্মরত আছি, আমার সত্তা ও দক্ষতায় ভিআইপি সোয়েটার থেকে ভিআইপি ক্যানটিনের ইনচার্জ ছিলাম কিন্তু কোম্পানির ম্যানেজার সুপারভাইজার ও আশেপাশের মানুষদের অনৈতিক সুবিধা দিতে আমার বিবেক বাধা দিতে থাকে যদিও ঐ মানুষ গুলো আমার কাছে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিতে চাইতো যে ভাবে আমার আগে থাকা ইনচার্জ দিয়েছিলো। আর আমি তা না দিলে ওরা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ নিতো তাই আমি ইনচার্জ এর দায়িত্ব পালন থেকে নিজেকে দূরে রাখি। 

কোম্পানির সুপারভাইজার তার নিজের লোক বসিয়ে ইচ্ছে মতো অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যাচ্ছে, 

নিজেদের লোক দিয়ে মিটিং পেপার বানিয়ে ইচ্ছে মতো এমাউন্ট বসিয়ে 

চা কপি বিস্কুট চকলেট পানি সহ 

সব মালামাল নিয়ে যাচ্ছে যা দেখার কেউ নাই। 

প্রতি মাসে বসের নামে যে টাকা সরকার থেকে আসে তা অফিসের একজন নিম্নমানের কর্মচারী মেরে খাচ্ছে বস তা জানেই না। 

এই অফিসের এমন কিছু কর্মী ও কোম্পানির সুপারভাইজার ম্যানেজারের সাথে জড়িত আছে। 

আমি এই বিষয়ে আমার বসকে একটা সুন্দর গল্পের মতো করে জানাতে চাই যেন কেউ বুজতে না পারে ।

তুমি কি আমাকে একটা গল্প লিখে দিতে পারবে?

যদি পারো তবে লিখে দাও বন্ধু ।

----:----

আপনি খুবই কঠিন একটি পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, এবং আপনার সততা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। এত বছরের কর্মজীবনে নিজের বিবেককে ধরে রাখা সহজ কথা নয়।

​আপনার বসের কাছে বিষয়টা তুলে ধরার জন্য আমি একটা রূপক গল্প লিখে দিচ্ছি। এই গল্পে অফিসের দুর্নীতিকে অন্য একটি উপায়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে শুধু আপনার বসই এর ভেতরের আসল অর্থটা বুঝতে পারেন। এটি আপনার অভিজ্ঞতাগুলোকেই তুলে ধরবে, কিন্তু সরাসরি কোনো নাম বা ঘটনা উল্লেখ করবে না।

👇

​রাজার বাগানের গল্প

​অনেককাল আগে এক রাজ্যে এক সুবিশাল বাগান ছিল। সেই বাগানটি ছিল রাজ্যের ঐশ্বর্য ও আনন্দের উৎস। এই বাগানের মালী (আপনার বস) দিনরাত পরিশ্রম করে একে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন।

​সেই বাগানে ছিল বহুমূল্যবান ফলের গাছ (কোম্পানির সম্পদ/প্রজেক্ট) আর দুর্লভ ফুল (কোম্পানির সুনাম/গুণমান)। বাগানের দেখাশোনার জন্য মালী একজন বিশ্বস্ত পরিদর্শককে (আপনার মতো অভিজ্ঞ কর্মী) নিযুক্ত করেছিলেন। পরিদর্শক ছিলেন অভিজ্ঞ, বাগানকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। বহু বছর ধরে তিনি বাগানের বিশেষ জায়গাগুলোর যত্ন নিয়েছেন, যেখানে সবচেয়ে সেরা ফল ও বীজ রাখা হতো।

​কিন্তু বাগানের একদল ছোট পাহারাদার (সুপারভাইজার, ম্যানেজার) এবং তাদের বিশেষ বন্ধুরা (অনৈতিক সুবিধা গ্রহণকারীরা) সবসময় পরিদর্শকের কাছে আসত। তারা চাইত—বাগান থেকে কিছু বিশেষ ফল (অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা) চুরি করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।

​আগের পরিদর্শক হয়তো তাদের ইচ্ছাপূরণ করতেন, কিন্তু এই পরিদর্শকের বিবেক ছিল স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ। তিনি মনে করতেন, ফলগুলো চুরি করা মানে বাগানের মালিক, অর্থাৎ মালীকে, ঠকানো। তিনি রাজি হলেন না।

​এই সততার কারণে পাহারাদাররা তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হলো। তারা তাঁর কাজে নানাভাবে বাধা দিতে লাগল, খারাপ ব্যবহার করতে লাগল। পরিদর্শক বুঝলেন—তিনি যদি সততার পথে থাকেন, তবে এই বাগানে শান্তি পাবেন না। তাই তিনি সেই বিশেষ দায়িত্ব (ইনচার্জের দায়িত্ব) থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেন।

​তিনি সরে যেতেই, পাহারাদাররা দ্রুত তাদের চেনা এক লোককে (সুপারভাইজারের লোক) সেই বিশেষ জায়গার দায়িত্বে বসাল।

​এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে:

​১. পাহারাদার এবং নতুন লোকটি মিলে: তারা বাগানের হিসাব খাতায় (মিটিং পেপার) ইচ্ছামতো লিখে রাখছে—প্রতিদিন নাকি অনেক খাবার ও পানীয় (চা, কফি, বিস্কুট, অন্যান্য মালামাল) বাগানের কাজে লাগছে। অথচ, এর একটা বড় অংশ তাদের নিজেদের ঘরে চলে যাচ্ছে। বাগানের সত্যিকারের প্রয়োজন মেটানো হচ্ছে না, কিন্তু খাতায় লেখা হচ্ছে সব খরচ হয়ে গেছে।

​২. সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো—মালী জানেন না যে, রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রতি মাসে বাগানের উন্নতির জন্য যে বিশেষ 'জল' (সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা) আসে, তা বাগানের একজন সাধারণ কর্মী (নিম্নমানের কর্মচারী) আর সেই পাহারাদারদের যোগসাজশে চুরি করে নিচ্ছে। মালী সরল মনে ভাবছেন—সব ঠিক আছে।

​বাগানের আসল পরিদর্শক তাই নীরব থাকতে পারলেন না। তিনি এখন শুধু একজন অভিজ্ঞ কর্মী হিসেবে মালীকে বলতে চান:

​"মালীমশাই, আপনার এই সুন্দর বাগানের ভেতরের মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে, আর ফলগুলোতে পচন ধরছে। দয়া করে একবার ভালো করে দেখুন—আপনার বাগানের বিশেষ ফলগুলো কারা চুরি করছে এবং যে 'জল' বাগানে আসার কথা, তা সত্যি সত্যি বাগানের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে কি না।"

​আমি আশা করি, এই গল্পটি আপনার বসকে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে এবং তিনি এর গভীরে অনুসন্ধান করার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন। আপনার সৎ প্রচেষ্টা সফল হোক।

আপনার যদি আরও কোনো পরিবর্তন বা অন্য কোনো ধরণের সাহায্যের প্রয়োজন হয়, আমাকে জানাবেন।

✍️ মোহাম্মদ মিজান 

ধন্যবাদ এআই

২৪ /০৯ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...