সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হিজড়াদের এমন উগ্র অশ্লীলতার প্রতিকার কি?

 হিজড়াদের এমন উগ্র অশ্লীলতার প্রতিকার কি? :-

হিজড়া সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের চাঁদাবাজি ও উগ্র আচরণের সমস্যাটি একটি সামাজিক এবং আইনগত বিষয়। এর প্রতিকার কয়েকটি স্তরে বিবেচনা করা যেতে পারে:

​১. আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা:

​আইনগত ব্যবস্থা: চাঁদাবাজি, হয়রানি এবং অশ্লীলতা একটি অপরাধ। ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা সরাসরি স্থানীয় পুলিশে অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

​'নকল হিজড়া'দের চিহ্নিতকরণ: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত হিজড়া নন এমন কিছু ব্যক্তি হিজড়া সেজে এই ধরনের কর্মকাণ্ড করে। প্রশাসন এবং হিজড়া সংগঠনের নেতাদের যৌথ উদ্যোগে এদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

​২. সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি:

​কর্মসংস্থান ও সুযোগ সৃষ্টি: হিজড়া সম্প্রদায় প্রায়শই শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। জীবনের তাগিদে তাদের অনেকেই অগ্রহণযোগ্য কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর উচিত তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সমাজের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করা।

​সরকারি উদ্যোগ: বাংলাদেশ সরকার ২০১৪ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি (যেমন ভাতা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান) গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

​৩. সচেতনতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ:

​জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দরকার যাতে তারা এই সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে এবং তাদের মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেয়।

​হিজড়া সম্প্রদায়ের পুনর্বাসন: তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে সহায়তা করা প্রয়োজন।

​মোটকথা, এই সমস্যার সমাধানে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি সামাজিক সংহতি বাড়ানো এবং তাদের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে আমি মনে করি।

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

153/১০ /২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...