সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আপসহীন নেত্রী’র অশ্রুসজল প্রতিচ্ছবি:

 💔 ‘আপসহীন নেত্রী’র অশ্রুসজল প্রতিচ্ছবি: এক দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর

​প্রিয় মানুষটির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে এক নীরব কথোপকথন হয়েছে আমার। তিনি মুখে কোনো কথা বলেননি , কিন্তু আমার চোখ আর হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা সব অনুভূতি দিয়ে আমি বলেছি.. শুনেছি প্রিয় মানুষের না বলা আত্মচিৎকার।

কত সময় পেরিয়েছে জানি না,   

তবে চোখের কোণে ঝমে থাল জল গড়াতে শুরু করলেই সংবিৎ ফিরে আসে, আর সেই মুহূর্তে মনে হয়, এই জল শুধু ব্যক্তিগত কষ্টের নয়, এই জল একটি জাতির রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অবিচার দেখার যন্ত্রণা।

​দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজ যেন এক ভিন্ন, মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। যে নেত্রী একসময় রাজপথ কাঁপিয়েছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আজ তিনিই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কার্যত গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। 


বন্দি জীবনের কঠিন সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আকুতি বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। স্বৈরশাসকের পক্ষ থেকে দণ্ডাদেশ স্থগিত করে সাময়িক মুক্তির যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার আইনি শর্তাবলীই তখন যেন চিকিৎসার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় ।

​প্রশ্ন ওঠে – কতটা পাষাণ হৃদয়ের হলে...ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে! ​রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবেই, কিন্তু একজন বয়োবৃদ্ধ, গুরুতর অসুস্থ নেত্রীর প্রতি ন্যূনতম মানবিকতা দেখাতে এত কুণ্ঠা কেন দেখালো? যেখানে তাঁর দলের নেতাকর্মীরা ও পরিবার বারবার দাবি জানাচ্ছেন, দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে বাঁচাতে হলে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিকল্প নেই, সেখানে আইন ও রাজনীতির জটিল বেড়াজালে আটকে দেওয়া হয়েছিলো তাঁর শেষ ভরসাটুকু। 

সচেতন নাগরিক মহল ও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় , এটি শুধুমাত্র রাজনীতির খেলা নয়, এটি যেন তিলে তিলে নিঃশেষ করার এক অমানবিক কৌশল।


​রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কেবল বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নয়, এটি সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতি, আইনের শাসন, এবং মানবিকতার এক বড় পরীক্ষা। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে নিয়ে যাচ্ছে, তখনো তাঁকে বিদেশে যেতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শাসকদলের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুললেও কোনো কাজ হয়নি। 

প্রশ্ন উঠেছে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতীক, তাঁর প্রতি এমন কঠোর ও শর্তাধীন মনোভাব কেন?

​আমার মতো লাখো মানুষের চোখে জমে থাকা জল এই প্রশ্নই তুলে ধরে:


ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেও কি মানবিকতা, সহমর্মিতা, এবং মহানুভবতার স্থান এতই সংকীর্ণ হয়ে যায়? রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কি সবকিছুর ঊর্ধ্বে?

​এই দীর্ঘ ও কঠিন সময়ে প্রিয় নেত্রী তাঁর লক্ষ লক্ষ কর্মী ও সমর্থকের হৃদয়ের গভীরে এক অদম্য প্রেরণার নাম হয়ে বেঁচে আছেন। তাঁদের নীরব অশ্রু আর আর্তি এবং জুলাই বিপ্লবীদের রক্ত ঘাম জীবনের বিনিময়ে 

প্রিয় মানুষেরা আজ মুক্ত, আলহামদুলিল্লাহ 

তিনি আবারো রাজনীতির ময়দানে, স্বৈরাচার হাসিনা দাদাদের দেশে পালিয়ে গেছে।

সবচেয়ে বড় শান্তনা হলো হাসিনার ফাঁসির রায়, দুআ করি বেগম খালেদা জিয়া যেন ফ্যাসিস্টেদের ফাঁসি দেখে যেতে পারে।

পরিশেষে প্রিয় নেত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

২৩ /১১/২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...