সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আটটি নীরব চিৎকার /একটি মানবিক লেখা

 ​৮টি নীরব চিৎকার, এক মা'য়ের বুকফাটা কান্না 😢

​পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরের সেই পুকুরপাড়ের ঘটনাটি কেবল একটি সংবাদ নয়—এটি সভ্যতার মুখে এক নির্মম কালো চুনকালি। যে মাটিতে আমরা মানবিকতার বীজ বুনি, সেখানেই বস্তাবন্দি অবস্থায় পাওয়া গেল আটটি সদ্যোজাত কুকুরছানার নিথর দেহ। তাদের অপরাধ কী ছিল? হয়তো কোনো সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনের আঙিনায় ভূমিষ্ঠ হওয়াই ছিল তাদের 'অপরাধ'।

​এক সপ্তাহ আগে মা কুকুর 'টম' সেখানে জন্ম দিয়েছিল তার আটটি প্রাণ। সেই ছোট্ট প্রাণগুলো হয়তো কেবলই পৃথিবীর রূপ দেখছিল, পরিচিত হচ্ছিল মায়ের আদর আর খেলার আনন্দটুকুর সঙ্গে। কিন্তু নিষ্ঠুর মানবতা তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অন্ধকার জলাধারের ভেতরে।


​💔🦮 মা কুকুরের আর্তনাদ: এক অসহায় সাক্ষী 👇

​সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যটি ছিল সেই মা কুকুরটির। ছানাগুলোকে না পেয়ে সে নাকি সারা চত্বর ঘুরে ঘুরে আর্তনাদ করছিল—এক বুকফাটা কান্না, যা শুনতে পেলেও আমরা বুঝতে পারিনি। তার ডাক অনুসরণ করেই একসময় উদ্ধার হলো সেই ভেজা বস্তা, যার ভেতর ছিল তার না-বলা স্বপ্নগুলোর মৃত শরীর।

​বস্তার ভেতর দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সেই শেষ মুহূর্তগুলো কেমন ছিল? বাঁচার জন্য তাদের ছোট্ট হাত-পায়ের ব্যর্থ চেষ্টা, আর জলের নিচে তাদের নীরব আত্মসমর্পণ—এই দৃশ্য কল্পনা করাও কষ্টকর। সেই মা কুকুরটি আজও নাকি তার সন্তানহারা বেদনায় ইউএনও'র কক্ষের সামনে, চত্বরের আশেপাশে ঘুরঘুর করছে, বারবার তার মৃত ছানাদের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ছে—যেন প্রকৃতির কাছে সে তার সন্তানের হত্যার বিচার চাইছে।


​💪নীরবতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠুক বিবেক 🔥

​এই নৃশংসতা কেবল ব্যক্তিবিশেষের কাজ নয়, এটি সভ্যসমাজের সংবেদনশীলতার মৃত্যু। অভিযুক্ত কর্মকর্তার স্ত্রী হয়তো 'বাচ্চাদের নিরাপত্তার' অজুহাত দিয়েছেন, কিন্তু কোনো অজুহাতই আটটি জীবনের প্রতি এমন চরম নিষ্ঠুরতাকে বৈধতা দিতে পারে না। জীবিত ছানাদের বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া যে শুধু অমানবিক নয়, এটি যে 'প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৯' অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা আজ আমাদের জোর দিয়ে বলতে হবে।

​জনসাধারণ থেকে শুরু করে অভিনেত্রী জয়া আহসান, নিলয় আলমগীরের মতো তারকারাও আজ এই ঘটনার বিচার চেয়েছেন। প্রশাসনও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, অভিযুক্তকে সরকারি কোয়ার্টার ছাড়তে বাধ্য করেছে, মামলা হয়েছে। এই সম্মিলিত প্রতিবাদই প্রমাণ করে, আমাদের সমাজে এখনো দয়া ও ন্যায়বিচারের স্ফুলিঙ্গ টিকে আছে।

​আসুন, আমরা সকলে মিলে শপথ নিই, এই আটটি নীরব চিৎকার যেন আমাদের কানে স্থায়ীভাবে গেঁথে থাকে। ভবিষ্যতে কোনো প্রাণী যেন এমন নিষ্ঠুরতার শিকার না হয়।

সে যেই প্রাণীই হোকনা কেন ॥নিরাপত্তার নামে নির্দয়তা নয়, সংবেদনশীলতাই হোক আমাদের সমাজের ভিত্তি।

​মা কুকুর 'টম'-এর চোখের জল মুছে দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই, কিন্তু তার এই চরম বেদনাই যেন আমাদের প্রাণীজগতের প্রতি আরও বেশি সহানুভূতিশীল করে তোলে।

#আমীন

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০৩/১২/২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫