সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডাকসু রাকসু চকসুর পর জাকসুতেও ছাত্র শিবিরের জয় জয়কার,

 ডাকসু রাকসু চকসুর পর জাকসুতেও

ছাত্র শিবিরের জয় জয়কার,

সময় থাকতে হুঁশে ফিরো

ওদের বলছো যারা

গুপ্ত, রাজাকার।

✍️ মোহাম্মদ মিজান


মোহাম্মদ মিজানের পংক্তিগুলো বর্তমান ছাত্ররাজনীতির এক পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তুলেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাকুস) মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও (জাকসু) যখন ছাত্র শিবিরের সরব উপস্থিতি বা প্রভাবের কথা আলোচনায় আসে, তখন তা অনেক পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণকে চ্যালেঞ্জ করে।

​শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর আদর্শ ও ত্যাগের আলোকে আগামীর ছাত্রসমাজের পথচলা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ নিচে তুলে ধরছি:


👉​আদর্শিক রাজনীতি ও আগামীর ছাত্রসমাজ: শহীদ হাদীর প্রেরণা

​বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে প্রতিটি বাঁকবদলে এক একটি আদর্শিক লড়াই নিহিত থাকে। কবি মোহাম্মদ মিজানের ছন্দে যে 'হুঁশে ফেরার' আহ্বান জানানো হয়েছে, তা মূলত ছাত্ররাজনীতিতে সস্তা ট্যাগিং বা অন্ধ বিরোধিতার চেয়ে বরং সুস্থ ও অর্থবহ চর্চার প্রয়োজনীয়তাকেই ইঙ্গিত করে। আজ যখন বিভিন্ন ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র শিবিরের মতো সংগঠনের সরব পদচারণা নতুন করে আলোচনায় আসছে, তখন আগামীর ছাত্রসমাজকে তাদের রাজনৈতিক দিশা খুঁজে নিতে হবে গভীর প্রজ্ঞা ও ত্যাগের মহিমায়।

​শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর পথ

​শহীদ শরিফ ওসমান হাদী ছিলেন এমন একজন ছাত্রনেতা, যার কাছে রাজনীতি ছিল সমাজ সংস্কার এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। তার

দেখানো পথ আমাদের শেখায়:👇

​বিদ্বেষ নয়, আদর্শের লড়াই: কাউকে কেবল 'গুপ্ত' বা 'রাজাকার' বলে গালি দিয়ে নয়, বরং নিজের আদর্শের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেই ছাত্রসমাজকে জয়ী হতে হবে। মিথ্যা অপবাদ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে কোনো কল্যাণ আনে না।


👉​মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়: শহীদ হাদী বিশ্বাস করতেন, একজন ছাত্রকে আগে প্রকৃত মানুষ এবং মেধাবী হতে হবে। কেবল শ্লোগান দিয়ে নয়, বরং চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে মানুষের মন জয় করাই ছিল তার দর্শন।

​ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা: সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে ভয়ের সংস্কৃতির বদলে সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করাই হওয়া উচিত বর্তমান প্রজন্মের লক্ষ্য।

​বর্তমান প্রজন্মের করণীয়

​বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে যে মেরুকরণ আমরা দেখছি, সেখানে আবেগের চেয়ে বিবেকের গুরুত্ব অনেক বেশি।

​ইতিহাসের নির্মোহ পাঠ: কাউকে অন্ধভাবে ঘৃণা করা বা কাউকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা—দুটোই বিপজ্জনক। শিক্ষার্থীদের উচিত সঠিক ইতিহাস জানা এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটে কার রাজনীতি দেশের এবং সাধারণ ছাত্রদের কল্যাণে আসছে, তা যাচাই করা।


👉​ট্যাগিং সংস্কৃতির অবসান: মিজানের কবিতায় যেমন বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঢালাওভাবে তকমা দেওয়ার আগে সত্যকে অনুধাবন করা জরুরি। আগামীর ছাত্রসমাজকে হতে হবে যুক্তিবাদী ও সহনশীল।

​শহীদী তামান্না ও দেশপ্রেম: শহীদ হাদীর মতো যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের মূল প্রেরণা ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং দেশপ্রেম। এই উচ্চতর লক্ষ্য যখন রাজনীতিতে থাকবে, তখন সেখানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা হল দখলের কলুষতা প্রবেশ করতে পারবে না।


​উপসংহার

সময় এসেছে হুঁশে ফেরার। বিভাজন আর কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতি বাদ দিয়ে যদি আগামীর ছাত্র সমাজ শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর দেখানো নীতি, নৈতিকতা ও সাহসিকতার পথে চলতে পারে, তবেই ক্যাম্পাসগুলোতে প্রকৃত শান্তি ও ইনসাফ কায়েম হবে। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমরা কোন আদর্শের পতাকাবাহী হতে পারছি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন - আমীন

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০৭/০১/২০২৬

#JusticeForHadi

#বাংলাদেশ

#Bangladesh #আলহামদুলিললাহ

#কুয়েতপ্রবাসী #মোহাম্মদ_মিজান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...