সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যে বিপ্লবের দাবি নিয়ে এখন বিতর্ক একটি রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার গল্প:

 

যে বিপ্লবের দাবি নিয়ে এখন বিতর্ক
একটি রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার গল্প:-👇
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ছাত্র-জনতার রক্তে লেখা সেই আন্দোলন শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু সেই বিপ্লবের "মালিকানা" নিয়ে এখন যে রাজনৈতিক খেলা চলছে, তা নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

দুটি বিপরীত বক্তব্য, একই দল
তখন যা বলা হয়েছিল:- আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন - এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন।

এখন যা দাবি করা হচ্ছে:-
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে - এই বিপ্লব আসলে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে।
প্রশ্ন হলো - দুটো কথা একসঙ্গে সত্য হয় কীভাবে?
কেন তখন দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছিল?
এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফিরে যেতে হবে।
১. আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
আন্দোলন তখনও অনিশ্চিত। সরকার যদি দমন করতে সফল হতো, তাহলে বিএনপির সরাসরি সম্পৃক্ততা দলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত। দূরত্ব বজায় রাখা ছিল নিরাপদ কৌশল।
২. আন্দোলনের চরিত্র রক্ষা
এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিতে, ছাত্রদের নেতৃত্বে। বিএনপির ছায়া পড়লে সরকার সহজেই এটিকে "রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র" বলে দাগিয়ে দিতে পারত এবং জনসমর্থন কমে যেত।
৩. কৌশলগত অস্বীকৃতি
রাজনীতিতে এটি একটি পরিচিত কৌশল - সফল হলে কৃতিত্ব নাও, ব্যর্থ হলে দায় এড়াও।

এখন কৃতিত্ব দাবির কারণ কী?
আন্দোলন সফল হয়েছে। সরকার পতন হয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দলগুলো এই ঐতিহাসিক ঘটনার অংশীদারিত্ব চাইছে।
বিএনপির একটি অংশ এখন এই আন্দোলনকে তাদের নেতৃত্বের ফসল হিসেবে উপস্থাপন করলে তাতে দলীয় স্বার্থ আছে - তারেক রহমানের নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠিত করা, ভবিষ্যতের নির্বাচনে জনসমর্থন পাওয়া এবং ক্ষমতার ভাগে বড় অংশ দাবি করা।

এই বিতর্কে আসল ক্ষতি কার?
ছাত্র-জনতার।
যারা রাস্তায় নেমেছিল, যারা গুলি খেয়েছে, যারা প্রাণ দিয়েছে - তাদের অধিকাংশের সঙ্গে কোনো দলের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিল না। তারা আন্দোলন করেছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে।
সেই রক্তের বিপ্লবকে এখন দলীয় সম্পদ বানানোর চেষ্টা হলে - সেটি হবে শহীদদের প্রতি সবচেয়ে বড় অসম্মান।
ইতিহাস কী বলে?
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো তার কৃতিত্ব দাবি করে। কিন্তু ইতিহাস শেষ পর্যন্ত সত্যকেই লেখে।
জুলাই বিপ্লব কোনো একটি দলের নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের। এই সত্য যত তাড়াতাড়ি রাজনৈতিক নেতারা বুঝবেন, দেশের জন্য ততটাই মঙ্গল।
ফখরুল সাহেবের সেই কথা এবং এখনকার দাবি - এই দুটির মধ্যে যে ফাঁক, সেই ফাঁকটুকুই আসলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় সংকটের প্রতিচ্ছবি।

তবে সবাই মনে রাখবেন জুলাই মাস
২০২৪ এ আসছিল শুধু তা নয়,
জুলাই মাস প্রতি বছর জুন মাসের পরেই আসে। অতএব সাধু সন্ন্যাসীরা সাবধান।
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২৭/০৩ /২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...