সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রবাসীর_দীর্ঘশ্বাস

 একজন প্রবাসীর শিক্ষত স্ত্রী যদি বলে

তোমার ছেলে মেয়ে নামজ পড়ে না —

স্কুলে যেতে চায় না —

বই নিয়ে পড়তে বসে না—

সময় মতো ঘুমায় না—

মোবাইল ছাড়া খায় না —

আমার কথা শুনে না —

এমন পরিবারকে সেই প্রবাসীর—

ব্লক করা ছাড়া উপায় থাকে না।

কিন্তু আমরা প্রবাসীরা 

শত কষ্ট বুকে ধারণ করেও তা করতে পারি না।

একজন প্রবাসী যখন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের জন্য টাকা পাঠান, তখন তার একমাত্র সান্ত্বনা থাকে যে দেশে তার সন্তানরা মানুষ হচ্ছে। কিন্তু সেই স্বপ্নে যখন চিড় ধরে, তখন মানসিক অবস্থা কেমন হয়—তা নিয়ে একটি লেখা নিচে দেওয়া হলো:


#​প্রবাসীর_দীর্ঘশ্বাস: যখন স্বপ্ন আর বাস্তব সমান্তরাল চলে না

​একজন প্রবাসীর প্রবাস জীবনের সবটুকু ত্যাগ আর শ্রমের পেছনে থাকে একটি মাত্র লক্ষ্য—পরিবারের সচ্ছলতা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ। মরুভূমির তপ্ত রোদ কিংবা বিদেশের প্রতিকূল পরিবেশে দিনরাত এক করার সময় তার মনে যে শক্তি জোগায়, তা হলো দেশের বাড়ির মানুষগুলোর হাসি।

​কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা বড়ই করুণ। যখন একজন শিক্ষিত জীবনসঙ্গিনী প্রবাসে থাকা স্বামীকে ফোন করে অভিযোগের ঝুড়ি খুলে বসেন— "তোমার ছেলে-মেয়ে কথা শোনে না, নামাজে বসে না, বই ধরছে না কিংবা মোবাইল ছাড়া খাচ্ছে না"—তখন সেই প্রবাসীর পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে যায়।

​দূরত্বের বিড়ম্বনা ও অসহায়ত্ব

একজন প্রবাসী চাইলেই ঘর ছেড়ে দৌড়ে গিয়ে অবাধ্য সন্তানকে শাসন করতে পারেন না। তার শাসনের মাধ্যম কেবল মোবাইল ফোনের স্ক্রিন। অথচ পরিবার যখন জানায় যে সন্তান তার কথা শুনছে না, তখন সেই প্রবাসীর কাছে নিজের অস্তিত্বই অর্থহীন মনে হতে থাকে। একজন শিক্ষিত মা যখন সন্তানের এই বিমুখতার দায়ভার কেবল প্রবাসীর ওপর ছেড়ে দেন বা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন, তখন প্রবাসীর মানসিক যন্ত্রণা চরমে পৌঁছায়।

তার পরেও ​কেন ব্লক করা সম্ভব নয়?

তীব্র অভিমানে হয়তো অনেক সময় মনে হয়, সব যোগাযোগ ছিন্ন করে দেই। কিন্তু পরক্ষণেই প্রবাসীর মন বলে ওঠে—​দায়বদ্ধতা কথা- এই পরিবারের জন্যই তো সব বিসর্জন। ব্লক করলে তাদের চলবে কীভাবে?

সাথে আছে অফুরন্ত ​ভালোবাসার টান শত কষ্টের মাঝেও দিনশেষে ওই মুখগুলোই তার বেঁচে থাকার রসদ।

এই আদরের সন্তানদের ​অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ তিনি জানেন, তিনি হাত গুটিয়ে নিলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিরতরে অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।

 

সারকথা — একজন ক্ষুদ্র লেখকের ভাষায় যদি বলি —এই বিড়ম্বনা এক অদ্ভুত বন্দিত্ব। যেখানে অভিযোগ শোনার যন্ত্রণা আছে, কিন্তু প্রতিকার করার সাধ্য নেই। ঘৃণা করার সুযোগ নেই, আছে কেবল বুক ফেটে যাওয়া কষ্টের স্রোত। প্রবাসীদের এই নীরব আত্মত্যাগের মূল্য হয়তো সমাজের চোখে কেবল পাঠানো অর্থের অংকে মাপা হয়, কিন্তু তাদের হৃদয়ের ক্ষতগুলো অজানাই থেকে যায়।


কোটি কোটি প্রবাসী ভাই বোনের পরিবারের উদ্দেশ্যে বলবো এখন সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি কি আপনার সুখে থাকার মেশিনের যত্ন নিবেন নাকি প্রবাসের মাটিতেই টেনশন আর হতাশা দিয়ে নষ্ট করে বাক্স বন্দি করবেন! 

লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান

২১ /০৪/২০২৬

#কুয়েত_থেকে

#Sonagazi #somoytv #বাংলাদেশের_প্রবাসী

#news #বাংলাদেশ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫