সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নিয়ম যখন লাশের চেয়েও ভারী"

 নিয়ম যখন লাশের চেয়েও ভারী"

-----:----

মৃত বোনের লাশ কাঁধে ভাই: — নিয়মের বেড়াজালে বন্দি মানবতা

​পৃথিবীর ইতিহাসে ভাই-বোনের সম্পর্ক এক আত্মিক বন্ধনের নাম। কিন্তু ভারতের ওড়িশায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি প্রমাণ করল, মাঝেমধ্যে নিয়মের কঠোর দেয়াল সেই পবিত্র আবেগকেও উপহাস করতে ছাড়ে না।


​ঘটনার প্রেক্ষাপট:

জমানো টাকা ছিল বোনের চিকিৎসার জন্য, কিন্তু নিয়তির পরিহাসে বোন মারা গেলেন বিনাচিকিৎসায়। সেই টাকা তুলতে গিয়ে ভাই জিতুক মুড়াইকে পড়তে হলো এক অদ্ভুত বিড়ম্বনায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিল— ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এক দরিদ্র ভাইয়ের পক্ষে সেই সার্টিফিকেট জোগাড় করা যেন হিমালয় জয়ের চেয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


​অসহায়ত্বের চূড়ান্ত সীমা:

দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর যখন কোনো উপায় রইল না, তখন পচে যাওয়া নিথর বোনের দেহ কাঁধে নিয়েই ব্যাংকে হাজির হলেন ভাই। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, এই সেই মানুষটি যার জন্য তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ব্যাংকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে যখন লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল, তখন টনক নড়ল কর্মকর্তাদের।


👉 ​আমাদের প্রাপ্তি কী?👀 


​আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সিস্টেম বা নিয়ম যখন সাধারণ মানুষের সেবার পরিবর্তে ভোগান্তির কারণ হয়, তখন তা কেবল মৃতদেহের বোঝাই বাড়ায়।


​মানবিকতার অভাব: একজন শোকার্ত ভাই যখন দুই মাস ধরে একটি কাগজের টুকরোর জন্য লড়াই করেন, তখন সমাজ বা প্রশাসন কেন তার পাশে দাঁড়ায় না?


​বিবেকহীন নিয়ম: ব্যাংকিং নিয়ম অবশ্যই নিরাপত্তার জন্য, কিন্তু যেখানে জীবনের প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে, সেখানে কি মানবিক বিবেচনা কোনো জায়গা পায় না?


​উপসংহার:

জিতুক মুড়াই হয়তো শেষ পর্যন্ত টাকাটা পাবেন, কিন্তু তার কাঁধে থাকা বোনের লাশের সেই অসহ্য ওজন তিনি সারাজীবন বহন করবেন। এই ঘটনা কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং এটি আধুনিক সভ্যতার এক বড় পরাজয়। কাগজের সার্টিফিকেটের চেয়ে মানুষের প্রাণের মূল্য কি এতটাই কম?

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

২৯/০৪/২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫