তৃষ্ণার জল, তৃষ্ণার প্রতিবাদ
-:-
রোদ-পোড়া পিচঢালা নতুন রাস্তা দিয়ে
গাড়ি এসে থামে গাঁয়ের মোড়ে;
চারিদিকে করতালির শব্দ, নেতার মুখে তৃপ্তির হাসি—
উন্নয়নের চকমকে আলোয় তখন চারপাশ ঝলমল।
ঠিক তখনই ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন এক আদিবাসী মা,
হাতে চেনা মাটির জগ আর কাঁচের গ্লাস।
বললেন— "কতকাল পর এমন সুন্দর রাস্তা দেখল চোখ,
আপনার জন্য কতক্ষণ ধরে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি বাবা!
একটু জল মুখে দিন।"
শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার এই পরম অর্ঘ্য দেখে
নেতাজির বুকটা গরবে ভরে ওঠে,
গ্লাসে চুমুক দিতেই চারপাশের বাতাস ভারী হয় তৃপ্তিতে।
কিন্তু আসল খেলাটা তো লুকিয়ে ছিল তৃষ্ণার শেষ ঢোকে!
মহিলা শান্ত মুখে, এক চিলতে মলিন হেসে বললেন—
"আমাদের এখানে কোনো টিউবওয়েল নেই তো স্যার,
তাই ওই দূরের ছড়ার ঘোলা জলই ছেঁকে এনেছি আপনার জন্য।"
চমকে ওঠা নেতার মুখের দিকে চেয়ে
পাশ থেকে চাটুকার আমলা তখন চাটুরি করে বলে গুড় গুড় ওয়াটার ,
"জল তো খুইব ভালো স্যার, একদম আয়রন-মুক্ত খাঁটি জল!"
ক্ষোভ নেই, চিৎকার নেই, কোনো স্লোগান কিংবা ব্যানার নেই,
অথচ কী ভীষণ এক চাবুক লুকিয়ে ছিল সেই জলের গ্লাসে!
নেতাও বুঝলেন পদের মর্যাদা আর প্রতিবাদের ভাষা,
তাই আদেশ দিলেন— "আরো দু'গ্লাস জল আনো মা,
এক গ্লাস দাও ওই ইউএনও সাহেবকে, আরেক গ্লাস বড়বাবুকে।"
মারামারি আর হানাহানির এই রক্তাক্ত চত্বরে,
শান্ত এক গ্লাস জলও যে কত বড় চাবুক হতে পারে—
তা শিখিয়ে গেল ওই প্রত্যন্ত গাঁয়ের এক মা।
যেখানে ক্ষমতার দম্ভ গলে জল হয়ে যায়,
আর ছড়ার নোংরা জলই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের সবচেয়ে পবিত্র হাতিয়ার।
----:----
✍️ মোহাম্মদ মিজান
©️ কুয়েত থেকে
২১ /০৫ /২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন