সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতা / অমানবিক আচরণ

 অমানবিক আচরণ 

লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান 

--০৩ /১২/২০২৫ - - 

কুকুর মারলে জেলে যেতে হয়

হারাতেও হয় চাকরি, 

হোকনা যতোই বড় অফিসার 

অমানুষ নয় দরকারী। 


শত্রুতার জেরে মাছের গেরে

কর যদি বিষ প্রয়োগ, 

তবে তোমার জীবন থেকেও

সুখ শান্তি হবে বিয়োগ। 


ফসলের ক্ষেতে পাখি নিধনে

থাকতে হবে সতর্ক, 

এমন কোনো পাখি মারবে না

যাতে সৃষ্টি হয় বিতর্ক। 


আইন মান মানবিক হও সবে

মানুষ যদি হয়ে থাকো, 

তুমি যে সৃষ্টিকর্তার সেরা জীব 

নিজ কর্মে প্রমাণ রাখো।


হারমাদের মতো উন্মাদ হয়ে

করিওনা কোনো কর্ম, 

স্রষ্টার কাছেও ক্ষমা পাবে না

মানো যতই সত্য ধর্ম।


সভ্যসমাজে ঠাই হবে না কভু

যদি মানবিক না হও, 

হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি ছেড়ে

সৎ যোগ্য হয়ে যাও।

----:----

কুয়েত থেকে


"অমানবিক আচরণ" শিরোনামে লেখা এই কবিতাটির মর্মার্থ,নিচে তুলে ধরা হয়েছে। 

​📜 কবিতার মর্মার্থ: "অমানবিক আচরণ"

​এই কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো: মানুষকে অবশ্যই মানবিক হতে হবে এবং প্রাণী ও পরিবেশের প্রতি নিষ্ঠুরতা ত্যাগ করতে হবে। অমানবিক কাজের জন্য কেবল সামাজিক বা আইনি শাস্তি নয়, স্রষ্টার কাছেও জবাবদিহি করতে হবে।

​১. 🐶 আইনি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা (প্রথম ও দ্বিতীয় স্তবক)

​পশু-পাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা: কবি প্রথম স্তবকেই স্পষ্ট করে বলছেন যে, কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণীকে আঘাত করা একটি গুরুতর অপরাধ। এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হলেও এই অমানবিক আচরণের জন্য চাকরি হারাতে হতে পারে এবং জেল হতে পারে। এর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, আইনের চোখে মানবিকতার স্থান সর্বাগ্রে; পদমর্যাদা অমানবিকতাকে আড়াল করতে পারে না।

​পরিবেশের ক্ষতি: দ্বিতীয় স্তবকে শত্রুতাবশত মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের মতো কাজকে 'অমানবিক' আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর ফলস্বরূপ কেবল অন্যের ক্ষতি হয় না, বরং বিষ প্রয়োগকারীর নিজের জীবন থেকেও সুখ-শান্তি বিয়োগ হয়ে যায়। এটি একটি কর্মফল-এর ইঙ্গিত দেয়।

​২. 🐦 পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ (তৃতীয় স্তবক)

​সতর্কতা ও পরিবেশ সচেতনতা: কবি ফসলের ক্ষেতে পাখি নিধনের সময়ও সতর্ক থাকতে বলেছেন। এমন কোনো পাখি মারা উচিত নয় যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে বা যা নিয়ে সমাজে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

​৩. ✨ সৃষ্টিকর্তার সেরা সৃষ্টি হিসেবে মানুষের দায়িত্ব (চতুর্থ ও পঞ্চম স্তবক)

​মানবিকতাই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ: চতুর্থ স্তবকটি হলো মূল উপদেশের নির্যাস। মানুষকে আইন মেনে, মানবিক হয়ে চলতে হবে। মানুষ সৃষ্টিকর্তার সেরা জীব (আশরাফুল মাখলুকাত), তাই নিজ কর্মের মাধ্যমেই এই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রাখতে হবে।

​হারমাদ নয়, মানব: কবি অমানবিক আচরণকে 'হারমাদের মতো উন্মাদ' কর্ম বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, এই ধরনের অমানবিক আচরণের জন্য কোনো ধর্মই ক্ষমা দেবে না, অর্থাৎ মানবিকতা হলো সমস্ত ধর্মের ঊর্ধ্বে একটি সার্বজনীন নীতি।

​৪. 🤝 সভ্য সমাজের প্রত্যাশা (ষষ্ঠ স্তবক)

​সামাজিক স্বীকৃতি: শেষ স্তবকে কবি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, অমানবিক মানুষের সভ্য সমাজে স্থান নেই। তাই হিংসা, বিদ্বেষ, ও হানাহানি পরিহার করে সৎ, যোগ্য এবং মানবিক হয়ে ওঠাই একমাত্র পথ।

​💡 মূল ভাবনা:

​এই কবিতাটি একটি নৈতিক জাগরণমূলক বার্তা। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সত্যিকারের মানুষ তারাই যারা কেবল মানুষের প্রতি নয়, বরং প্রকৃতির প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল। আইন, ধর্ম, এবং সমাজ—সব ক্ষেত্রেই মানবিক আচরণ অপরিহার্য।

​----:----

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫