সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নিয়ম যখন লাশের চেয়েও ভারী"

 নিয়ম যখন লাশের চেয়েও ভারী" -----:---- মৃত বোনের লাশ কাঁধে ভাই: — নিয়মের বেড়াজালে বন্দি মানবতা ​পৃথিবীর ইতিহাসে ভাই-বোনের সম্পর্ক এক আত্মিক বন্ধনের নাম। কিন্তু ভারতের ওড়িশায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি প্রমাণ করল, মাঝেমধ্যে নিয়মের কঠোর দেয়াল সেই পবিত্র আবেগকেও উপহাস করতে ছাড়ে না। ​ঘটনার প্রেক্ষাপট: জমানো টাকা ছিল বোনের চিকিৎসার জন্য, কিন্তু নিয়তির পরিহাসে বোন মারা গেলেন বিনাচিকিৎসায়। সেই টাকা তুলতে গিয়ে ভাই জিতুক মুড়াইকে পড়তে হলো এক অদ্ভুত বিড়ম্বনায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিল— ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এক দরিদ্র ভাইয়ের পক্ষে সেই সার্টিফিকেট জোগাড় করা যেন হিমালয় জয়ের চেয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ​অসহায়ত্বের চূড়ান্ত সীমা: দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর যখন কোনো উপায় রইল না, তখন পচে যাওয়া নিথর বোনের দেহ কাঁধে নিয়েই ব্যাংকে হাজির হলেন ভাই। তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন, এই সেই মানুষটি যার জন্য তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ব্যাংকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে যখন লাশের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল, তখন টনক নড়ল কর্মকর্তাদের। 👉 ​আমাদের প্রাপ্তি কী?👀  ​আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙ...

কার্ডের মহিমা ও মনস্তাত্ত্বিক ইঞ্জিনিয়ারিং

 কার্ডের মহিমা ও মনস্তাত্ত্বিক ইঞ্জিনিয়ারিং: একটি ডিজিটাল ধাঁধা ​বর্তমান সময়ে আমাদের জীবন যেন এক একটি 'কার্ডে'র ফ্রেমে বন্দি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, প্রবাসী কার্ড থেকে শুরু করে বিধবা বা বয়স্ক ভাতা—সবই যেন নাগরিকত্বের এক একটি নতুন পরিচয়। কিন্তু এই কার্ডের রাজনীতির আড়ালে যখন গাণিতিক চাতুর্য যোগ হয়, তখন তাকে আর সাধারণ সেবা বলা যায় না; তা হয়ে ওঠে এক সুনিপুণ 'ইঞ্জিনিয়ারিং'। ​লাভ-ক্ষতির অদ্ভুত সমীকরণ ​চলুন একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। বাজারে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ধরা যাক ১৩০০ টাকা। হঠাৎ করেই তার দাম বাড়িয়ে করা হলো ১৯৪০ টাকা। অর্থাৎ সরাসরি ৬৪০ টাকা বৃদ্ধি। সাধারণ মানুষের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার কথা। কিন্তু ঠিক তখনই দৃশ্যপটে হাজির হয় '৫০০ টাকার ফ্রি এলপিজি কার্ড'। ​এখানেই আসল খেলা! ভোক্তা যখন ৫০০ টাকার কার্ডটি হাতে পান, তিনি ভুলে যান যে তার পকেট থেকে আগেই ৬৪০ টাকা বাড়তি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। কার্ডের ৫০০ টাকা বাদ দিলেও দিনশেষে আরও ১৪০ টাকা ভোক্তার পকেট থেকেই বেশি যাচ্ছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এই 'ফ্রি কার্ড' পাওয়ার আনন্দে সাধারণ মানুষ কৃতজ্ঞ...

কবিতা:- এআই কবি --লেখক✍️ মোহাম্মদ মিজান

 কবিতা:- এআই কবি ----:---- এআই দিয়ে কবিতা লিখে কবি সাজে কতেক, এই তালিকা আমার কাছে আছে কয়েক শতেক । দেখতে চাইলে দেখাতে পারি নাম ঠিকানা প্রমাণ, কবিতা গুলোতে আবেগ নাই নাই কোনো মহাপ্রাণ ।   সবার সামনে কবিতা লিখার চ্যালেঞ্জ নেয় না এরা,  মেধা শূন্য চ্যাটজিটিপি কবি মহা রহস্য দিয়ে ঘেরা। সাহিত্য চর্চা বাদ দিয়ে দেখি  করছে চুরির চর্চা,  সনদ কিনতে কত ননদ ভাবি  করছে অর্থ খরচা।  ইচ্ছে করে ধরে ধরে এদের  মাখাই মুখে চুনকালি,  বিশ্ববাসী দেখুক নকল কবি দেক না হাতে তালি । ----:---- ✍️ মোহাম্মদ মিজান কুয়েত থেকে ২৭/০৪/২০২৬ 

​বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা ও শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা: একটি পর্যালোচনা

 ​বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতা ও শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা: একটি পর্যালোচনা ​ভূমিকা —২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনমনে স্থিতিশীলতার আশা থাকলেও, সাম্প্রতিক চিত্র ভিন্ন এক বাস্তবতার কথা বলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সহিংসতা এবং অপপ্রচারের এক নতুন সংস্কৃতি দানা বেঁধেছে। জাতীয় গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, গত কয়েক মাসে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নাগরিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জাতীয় সংকট:- জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (বিএনপি-ছাত্রদল) সংশ্লিষ্টতায় কয়েকশ খুনের ঘটনা ঘটেছে। কেবল গত মাসেই (মার্চ/এপ্রিলের প্রেক্ষিতে) ২২টি খুন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে দেশজুড়ে ৫০০-র বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই চলতি মাসের প্রথম ১৫ দি...

কবিতা :- মরীচিকার উৎসব

  কবিতা :- মরীচিকার উৎসব ✍️ মোহাম্মদ মিজান --:-- ​পরীক্ষার হলের সেই পুরনো দৃশ্যপট হয়তো বদলেছে, কাগজের ছোট টুকরো আর আস্তিনের ভাঁজে লুকানো নকল— এখন সে সব সেকেলে গল্প। ডিজিটাল দেয়ালে এখন নতুন প্রতিধ্বনি: "নকল আর হবে না, এবার হবে প্রশ্ন ফাঁস!" ​অন্ধকার গলি থেকে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিনে ঘুরে বেড়ায় আগাম উত্তরের হাতছানি। সবাই মিলে পাশ করার এক অদ্ভুত উন্মাদনা, যেন এক গোলকধাঁধায় মেতেছে মেধার কারিগরেরা। ​কিন্তু একবার ভেবে দেখেছো কি? ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পাওয়া ওই নম্বরগুলো আসলে কার? ওগুলো তো তোমার অর্জিত কোনো জয় নয়, বরং নিজের মেরুদণ্ড বিকিয়ে দেওয়ার এক রসিদ মাত্র। ​সবাই মিলে পাশ করার এই মিছিলে আমরা আসলে সবাই মিলে হেরে যাচ্ছি। যেদিন পরীক্ষার খাতা শেষ হবে, সেদিন দেখবে— তোমার ঝোলায় একরাশ নম্বর ঠিকই আছে, কিন্তু ভেতরে নেই এক ফোঁটা আত্মবিশ্বাস। ​প্রশ্ন ফাঁসের এই মরীচিকা তোমাকে গন্তব্যে নেবে না, বরং অন্ধকারের এক অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেবে। এখনও সময় আছে, বইয়ের পাতায় চোখ রাখো, নিজের সামর্থ্যে বিশ্বাস করো; শর্টকাটে পাশ করার চেয়ে, নিজে জেনে এক লাইন লেখাও অনেক বেশি সম্মানের। ...

গুপ্ত — সুপ্ত

 গান:- গুপ্ত — সুপ্ত  লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- গুপ্তরা কত জেল খেটেছে-  জুলুম অত্যাচার সহেছে ছড়েছে ফাঁসির মঞ্চে, সুপ্তরা সবাই ভালোই ছিল উঠে সুবিধার লঞ্চে । গুপ্তরা তখন কঠিন রিমান্ডে ধরে রেখেছে ধৈর্য্য,  সুপ্তরা যখন সুব্যবস্থায় করছে ব্যবসা বানিজ্য। লন্ডন আমেরিকা সিঙ্গাপুর  দুবাই মালয়েশিয়া ফ্রান্সে লন্ডন আমেরিকা সিঙ্গাপুর  দুবাই মালয়েশিয়া ফ্রান্সে  গুপ্তরা কত জেল খেটেছে-  জুলুম অত্যাচার সহেছে ছড়েছে ফাঁসির মঞ্চে, সুপ্তরা সবাই ভালোই ছিল উঠে সুবিধার লঞ্চে। স্বৈরাচারকে বিদায় করতে   গুপ্তরা রাজপথে ঢালে রক্ত, সুপ্তরা তখন কমিশন পেতে হয়েছিল স্বৈরাচারের ভক্ত। সতের বছরের বোবা শয়তান  এখন বিশেষ বক্তা গ্রাম গঞ্জে  সতের বছরের বোবা শয়তান  এখন বিশেষ বক্তা গ্রাম গঞ্জে  গুপ্তরা কত জেল খেটেছে-  জুলুম অত্যাচার সহেছে ছড়েছে ফাঁসির মঞ্চে, সুপ্তরা সবাই ভালোই ছিল উঠে সুবিধার লঞ্চে। । --কুয়েত থেকে - - ২৪/০৪/২০২৬ 

সময়ের মুখোশ

সময়ের মুখোশ ----:---- ​মুখোশ পরে বীর সেজেছে পিঠ বাঁচিয়ে চলা, দিনের শেষে আঁধার নামে বিষাক্ত সব বলা। গুপ্তরাই দিচ্ছে মিথ্যে তালি আড়ালে দেয় গালি, ইতিহাসের পাতায় পাতায়  লেপছে কেবল কালি। ​নদের চাঁন আজ পথ হারিয়ে নদীর কিনার খোঁজে, দেশ ছেড়ে সে পালায় দূরে চোখ দুটি তার বুজে। জুলাই যখন রক্তে রাঙা শহর যখন তপ্ত, তখন যারা লুকানো ছিল  আজ তারা সুপ্ত। ​জুলাই শেষে হঠাৎ দেখি নতুন বীরের ছড়া, চেটেপুটে খাওয়ার নেশায় আকাশ-পাতাল গড়া। সীমান্তের ওই ওপার গিয়ে গায় যে জয়ের গান, নিজের মাটির অমর্যাদায় বিলায় নিজের মান। ​স্বার্থ যখন বড় হয়ে যায় বিবেকে দেয় হানা, বীরত্বের এই নতুন সাজে সব যে আজ চেনা। বীরের বেশে কাপুরুষের এই যে আনাগোনা, সময়ের এই হিসেবেতে ভুল হবে না গোনা। ___:----:____ ✍️ মোহাম্মদ মিজান কুয়েত থেকে ২২/০৪/২০২৬ 

রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও আমাদের ভবিষ্যৎ

 রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও আমাদের ভবিষ্যৎ: 👉সংঘাত নাকি সমঝোতা? ​৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশের মানুষের মনে এক নতুন বাংলাদেশের আশা জেগেছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর নিপীড়নের পর সাধারণ মানুষ চেয়েছিল একটি শান্তিময়, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ দেশ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রনেতাদের কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে যে সংঘাত আমরা দেখছি, তা আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। ​১. উসকানিমূলক বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ​একটি গণতান্ত্রিক দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কোনো নেতার মুখ থেকে যখন উগ্র বা উসকানিমূলক কথা আসে, তখন সেটি সমাজের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। ছাত্রসমাজ বিপ্লবের অগ্রভাগে ছিল, তাই তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ও কথা হতে হবে দায়িত্বশীল। উগ্র আচরণ বা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা কেবল বিশৃঙ্খলাকেই ত্বরান্বিত করে। ​২. মিত্র যখন প্রতিপক্ষ: বিএনপি-জামায়াত সমীকরণ ​বিএনপি এবং জামায়াত দীর্ঘ সময় রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। ১৭ বছরের প্রতিকূল সময়ে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হতেই কেন এই ভ্রাতৃ...

প্রবাসীর_দীর্ঘশ্বাস

 একজন প্রবাসীর শিক্ষত স্ত্রী যদি বলে তোমার ছেলে মেয়ে নামজ পড়ে না — স্কুলে যেতে চায় না — বই নিয়ে পড়তে বসে না— সময় মতো ঘুমায় না— মোবাইল ছাড়া খায় না — আমার কথা শুনে না — এমন পরিবারকে সেই প্রবাসীর— ব্লক করা ছাড়া উপায় থাকে না। কিন্তু আমরা প্রবাসীরা  শত কষ্ট বুকে ধারণ করেও তা করতে পারি না। একজন প্রবাসী যখন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের জন্য টাকা পাঠান, তখন তার একমাত্র সান্ত্বনা থাকে যে দেশে তার সন্তানরা মানুষ হচ্ছে। কিন্তু সেই স্বপ্নে যখন চিড় ধরে, তখন মানসিক অবস্থা কেমন হয়—তা নিয়ে একটি লেখা নিচে দেওয়া হলো: #​প্রবাসীর_দীর্ঘশ্বাস: যখন স্বপ্ন আর বাস্তব সমান্তরাল চলে না ​একজন প্রবাসীর প্রবাস জীবনের সবটুকু ত্যাগ আর শ্রমের পেছনে থাকে একটি মাত্র লক্ষ্য—পরিবারের সচ্ছলতা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ। মরুভূমির তপ্ত রোদ কিংবা বিদেশের প্রতিকূল পরিবেশে দিনরাত এক করার সময় তার মনে যে শক্তি জোগায়, তা হলো দেশের বাড়ির মানুষগুলোর হাসি। ​কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটা বড়ই করুণ। যখন একজন শিক্ষিত জীবনসঙ্গিনী প্রবাসে থাকা স্বামীকে ফোন করে অভিযোগের ঝুড়ি খুলে বসেন— "তোমার ছেলে-মেয়ে কথা শোনে না, নামাজে বসে ন...

কবিতা - তেলের সংসদ

 তেলের সংসদ  লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  ----:----- আগে আমরা গান শুনতাম এখন শুনি কবিতা, দুঃখ শুধু নাচটাই দেখি না নেই বলে ববিতা। কথার খেয়া তেলের সংসদ বিপ্লব উত্তর আবার,  সিমান্ত শকুন খাচ্ছে ফের অনাহারীর খাবার। টেংরা বেড়ার আড়ালে দেখি টেন্ডার পাচ্ছে নেতা,  আবারো রডের জাগায় বাঁশ দেখা যাচ্ছে যে মাথা।  ভারপাপ্তর ভারে এই দেশটা ডুবে যাবে হায় বুঝি!  হারিয়ে গেছে যোগ্য নেতারা কোথায় তাদের খুঁজি! হাদীরা যখন আজাদীর তরে  বিলিয়ে দেয় জীবন,  দাদার কাছে সেই আজাদী  বন্ধক রাখে মহাজন। ওহে বিপ্লবী তরুণ হয়ে দ্বিগুণ  আবারো নাম ময়দানে,  রক্তে কেরাম স্বাধীকার অধিকার হারিয়ে যেতে দিসনা বানে। ----:----- কুয়েত থেকে  ১৭/০৪/২০২৬

কবিতা :- ন্যায়ের দাবি

 কবিতা :-  ন্যায়ের দাবি ----:----- মিলেমিশে একাকার- স্বৈরাচার আর তাঁবেদার- তবুও দোষীরা শুধু রাজাকার- কোথাও নেই স্বাধিকার অধিকার -  বৃথা গেল বুঝি রক্ত ঘাম বাপ দাদার! শুনো হে নব্য জমিদার-  এই দেশটা শুধুই জনতার-  সজাগ দেশপ্রেমিক পাহারাদার-  সাবধান থেকো সব চোর বাটপার-  তোমাদের রুখতে জুলাই হবে আবার।  ঘরে ঘরে বাংলার- জন্মেছে হাজার হাজার-  আবু সাঈদ হাদী আবরার- মুগ্ধ ইয়ামিন আসিফ আতিয়ার- অপেক্ষারত মুক্তির মিছিলে ফেরার। সংবিধান সংস্কার  দাবীটা কিন্তু পরিষ্কার  বন্ধ কর তালবাহানা দরবার পাশ করে জুলাই সনদ জনতার  তা নাহলে পথ পাবে না যে পালাবার।  ----:----- লেখক ✍️মোহাম্মদ মিজান  কুয়েত থেকে  ১৪ /০৪/২০২৬ 

কবিতা :- দায়মুক্তির_প্রতিলিপি

 (জুলাই বিপ্লবের সেই তপ্ত দিনগুলোর স্মৃতি আর বর্তমানের টানাপোড়েন নিয়ে তোমার জন্য একটি গদ্য কবিতা)  #​দায়মুক্তির_প্রতিলিপি ----:---- ​রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি রাজপথের পিচঢালা কালোয়, শরীরের ঘ্রাণ লেগে আছে শহীদি মিছিলে-- অথচ বাতাসের ভঙ্গি কি ভীষণ দ্রুত বদলে যায়! আমরা তো চেয়েছিলাম এক নতুন ভোরের ইশতেহার, যেখানে সুবিচারের পাল্লায় কোনো নামের ভার থাকবে না। ​শহীদের হাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে যখন ক্ষমতার পাশাখেলা চলে, যখন নেপালের খবর পড়ে আমাদের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘায়িত হয়- তখন মনে পড়ে সেই অগণিত চোখের কথা, যারা বুক পেতেছিল কেবল এক চিলতে স্বচ্ছতার আশায়। আমরা কি তবে সেই পুরোনো বৃত্তেই আটকে রইলাম? যেখানে ত্যাগের মহিমা ফিকে হয়ে আসে চেয়ারের লোভে, আর স্বজনপ্রীতির বিষবৃক্ষ ডালপালা মেলে বিপ্লবেরই আঙিনায়। ​বলেন্দ্রনাথের সাহস আমাদের মাটিতে হয়তো বিরল, কিন্তু লজ্জিত হওয়ার দায় তো কেবল আমজনতার নয়। রক্তের অক্ষরে লেখা সেই জুলাইয়ের শপথ ✊- সে কি কেবলই কিছু মানুষের গদিতে বসার সিঁড়ি ছিল? নাকি এক নির্মল রাষ্ট্রের স্বপ্ন, যেখানে আপোষ নেই, অন্যায় নেই। মনে রেখো ​বন্ধু, ইতিহাস বড় নির্মম সাক্ষী; বিপ্লবীদের আর্তনাদ যদি কারো কান...

ঝড় থামলে শকুন নামে

 "ঝড় থামলে শকুন নামে" ----:---- যখন আকাশ ভারী ছিল, বজ্রপাতের ভয় ছিল, তখন এরা ছিল কোথায়? আওয়ামী নেতার কাঁধে হাত রেখে হাসছিল, ব্যবসা চলছিল নিরাপদে, ঘর ছিল অটুট। আর যে মানুষটা এক যুগ দেশান্তরী - বাড়ি গেছে, সম্পদ গেছে, স্বজন গেছে, হাজারো কবিতায়, গানে, নাটকে, গল্পে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল একা একা - আজ তার বিরুদ্ধে হাজারখানেক অভিযোগ জমা পড়েছে নব্য বিএনপির দফতরে। এটাই ইতিহাসের পুরনো নিষ্ঠুর রসিকতা। যারা ঝড়ের রাতে গর্তে ছিল, তারাই রোদ উঠলে সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়ায়। যারা স্বৈরাচারের সাথে "গলায় গলায় খাতির" রেখে টিকে ছিল, তারাই আজ দলের "কর্ণধার"। আর যে মানুষ সত্যিকারের মূল্য দিয়েছে - নির্বাসন, ক্ষতি, একাকীত্ব - তাকে আজ "দলবিরোধী" তকমা দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নটা সহজ কিন্তু জরুরি - ৫ আগস্টের আগে এই নব্য নেতাদের ভূমিকার হিসাব কে রাখছে? কোথায় ছিল তখন তাদের সাহস? কোথায় ছিল তখন তাদের কলম? কোথায় ছিল তখন তাদের মঞ্চ? একটা দলকে শেষ করতে বাইরের শত্রু লাগে না। ভেতরের সুবিধাভোগীরাই যথেষ্ট। যে দলে ত্যাগীকে সন্দেহ করা হয়, আর সুযোগসন্ধানীকে পুরস্কার দেওয়া হয় ...

কবিতা - শৃঙ্খলিত জলপথ

 #শৃঙ্খলিত_জলপথ ------:---- ​মানচিত্রের কাঁটাতার কি তবে মিশে গেছে নোনা জলে? শতাব্দীর পুরনো সেই দাসত্ব কি আবার নতুন নামে পাহারা দিচ্ছে আমাদের সমুদ্রসীমা? আমরা ভেবেছিলাম রক্ত দিয়ে কেনা এই মাটি স্বাধীন, ভেবেছিলাম সার্বভৌমত্বের ঝান্ডা উড়বে দিক-বিদিক-- অথচ মেঘনার মোহনায় আজ অন্য কারো নির্দেশের অপেক্ষা। ​রাজার বদলে রাজা আসে, পতাকার রঙ হয়তো বদলায়, কিন্তু সুতোটা কি রয়ে গেছে সেই এক-ই আঙুলের ডগায়? যাদের আমরা বন্ধু বলি, তারা কি আড়ালে পালনকর্তা? যাদের আদেশ শিরোধার্য করে থমকে যায় আমাদের মাস্তুল, তাদের ইশারায় কি তবে নির্ধারিত হবে-- কোন বন্দরে ভিড়বে আমাদের স্বপ্নের জাহাজ? ​দূর দেশের শত্রু-মিত্রের সমীকরণ কষছে পাশের দেশ, আর সেই হিসেবের খাতায় কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে আমাদের অধিকার। মিত্রের 'মিত্র' যদি হয় কারো কাছে পরম আরাধ্য, তবে সেই ভক্তির মাশুল কি আমরাই দিয়ে যাবো আজীবন? অদৃশ্য শিকলে বন্দি আমাদের নোঙর, অসহায় নাবিক দেখে-- দিগন্ত জুড়ে কেবল আদেশের কালো ছায়া। ​যদি ঝড়ের মুখেও মাথা নত করতে হয় পরের দুয়ারে, তবে সেই স্বাধীনতার গান কি কেবলই অলীক কোনো সুর? বুকের ভেতর জমে থাকা আগ্নেয়গিরিই শুধু জানে-- দখল করা মাট...

কবিতা : শিয়ালের পাঠশালা

 শিয়ালের পাঠশালা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -০৭/০৪/২০২৬ -  শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা, শুটকির পাহারাদার বিড়াল, দেখো কুটনি-বুড়ি আবারো শাক দিয়ে মাছ করে আড়াল। চোরের কাছে চাবি গচ্ছিত ডাকাতের হাতে থানার ভার, মিষ্টি কথার আড়াল ঢেকে নেকড়েরা বসিয়েছে দরবার। কাকের হাতে ধানের গোলা ভিমরুলের কাছে ফুলের বাগান, যে যত বড় ফন্দিবাজ এখন  সেই পায় তত মান-সম্মান। বকধার্মিকের গলায় মালা চোখে তার ভক্তির ধারা, রাতের আঁধারে গণনা করে কতটুকু হলো পকেটে ভরা। যুগের পর যুগ এরীতি নীতিতেই   স্বাধীন এই দেশটা চলে আসছে, মাজলুমের চোখে ধুলো দিয়ে  জালিম রোদের আলোতে হাসছে। তবুও একদিন ভোর হবেই ধুয়ে যাবে মিথ্যার এই রঙ,  শিয়াল চিনবে সবাই তখন ভাঙবে তার পুরনো এই ঢং। শুধু সেই জুলাই বিপ্লবের মতো আবারো নামতে হবে রাস্তায়, আবু সাঈদ মুগ্ধ হাদীদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না সস্তায়। প্রয়োজনে পিচঢালা রাজপথ আবারো রক্তে হবে লাল, ইয়ামিনের মতো রোজা রেখে হয়তো শহীদ হবো কাল। ----:----- কুয়েত থেকে

অন্দরের আয়না ও আগন্তুক

 অন্দরের আয়না ও আগন্তুক -----:----- ​দেয়ালেরও কান থাকে, এ কথা পুরনো-কিন্তু দেয়ালেরও যে চোখ থাকে, সে কথা আমরা ভুলে যাই। নিজের এক চিলতে উঠোন আর অন্দরের নোনা ধরা দেয়ালটুকু সযতনে ঢেকে রাখাই শ্রেয়। কারণ, সব উঁকিঝুঁকি কৌতূহল নয়, কিছু দৃষ্টি থাকে আগল ভাঙার নেশায় মত্ত। ​আপনার ঘরের প্রতিটি সুখের আলাপ, কিংবা ছোট কোনো প্রাপ্তি - যখন মাটির হাঁড়ির মতো বাইরে গড়াগড়ি খায়, তখন একদল মানুষ আসে মিঠে হাসির পসরা নিয়ে। সেই হাসির ঝিলিক সব সময় হৃদয়ের গভীর থেকে আসে কি?  ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা সেই স্নিগ্ধতা আসলে এক ধরনের মুখোশ। ​সবাই আপনার ভালো চায় না--এই রূঢ় সত্যটুকু হজম করা শিখতে হয়। কিছু মানুষ আছে, যারা আপনার উন্নতির সিঁড়ি দেখে মুগ্ধতা দেখায় ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাদের দীর্ঘশ্বাসে মিশে থাকে তীব্র ঈর্ষার বিষ। তারা পাশে এসে বসে স্নেহের পরশ দেয়, অথচ সুযোগ পেলেই আপনার সাজানো বাগানে আগাছা বুনে দিয়ে যেতে ভুল করে না। ​তাই নিজের ঘরকে আগলে রাখুন গোপনীয়তার দুর্ভেদ্য চাদরে। আপনার আনন্দগুলো হোক নিভৃতবাসের সম্পদ। মনে রাখবেন, যে শিখা কাঁচের আবরণে ঢাকা থাকে, বাইরের দমকা হাওয়া তাকে নেভাতে পারে না। ​উন্মুক্ত উঠোনে...