সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মুখোশের কোরবানি

 মুখোশের কোরবানি -:- ​ত্যাগের মহিমায় আকাশ জুড়ে যখন আনন্দের আলো জাগে, তখন কিছু মানুষ মেতে ওঠে এক নির্মম প্রতিযোগিতায়। তাদের অন্তরে নেই আল্লাহর ভয়, নেই আখেরাতের কোনো পরোয়া , কিংবা মানুষের প্রতি মনুষ্যত্ব। তারা পশুর গলায় ছুরি চালায় ঠিকই, কিন্তু বুকের ভেতরের অহংকার আর লোকদেখানো মানসিকতা রয়ে যায় বহাল তবিয়তে। ​সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি নয়, তাদের লক্ষ্য ফ্রিজের গভীরতা; বছরজুড়ে মাংস বিলাসের এক লোভাতুর আয়োজন। ত্যাগের নামে তারা সাজায় এক মহাসমারোহ, অথচ সেই আড়ম্বরের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় ইসলামের মূল শিক্ষা। ​দুয়ারে এসে দাঁড়ায় যে অভুক্ত প্রতিবেশী, কিংবা বছরের পর বছর মাংসের স্বাদ না পাওয়া কোনো হতদরিদ্র আত্মীয়— তাদের পাতে পড়ে শুধু এক টুকরো অবহেলা। এদিকে নিজের ঘরে থরে থরে জমে ওঠে মাংসের পাহাড়, ফ্রিজের দরজাটা আর বন্ধ হতে চায় না লোকলজ্জায়! ​ও আল্লাহ ! এ কেমন কোরবানি? যেখানে পশু রক্ত দেয়, আর মানুষ বিক্রি করে তার বিবেক! যেখানে ফ্রিজ উপচে পড়ে মাংসে, আর শূন্য থালা হাতে কেঁদে ফেরে ক্ষুধার্ত মানুষ। ​এই মেকি উৎসবের দেয়াল ভেঙে একদিন আলো আসুক, ফ্রিজ ভর্তি করার লোভ নয়, মানুষের হৃদয়টা ভরে উঠুক আল্লাহর ভয় আর প্রকৃত ম...

গল্পদু- অধিকারের মাপকাঠি

 অধিকারের মাপকাঠি ​লেখক: মোহাম্মদ মিজান,  :- ​ইউনিয়ন পরিষদ চড়াও হয়েছে উৎসবের আমেজে। গ্রামের কার্ডধারী গরিব মানুষগুলো চাল পেয়ে আজ ভীষণ খুশি। অভাবের সংসারে কয়েকটা দিন অন্তত নিশ্চিন্তে দু-মুঠো ভাত জুটবে, এই শান্তিতে সবার চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। কিন্তু এই সরল মানুষগুলোর কেউই জানে না, বস্তায় ঠিক কত কেজি চাল তাদের দেওয়া হচ্ছে! ​ঠিক তখনই ইউনিয়ন পরিষদের মাঠের এক কোণে ব্যক্তিগত একটা ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিন নিয়ে এসে দাঁড়ালেন মোহাম্মদ মিজান। তিনি উচ্চকণ্ঠে সবাইকে ডাকলেন, "চাচা-খালারা, আপনারা কে কতটুকু চাল পেলেন, একটু মেপে দেখে যান। একটা পয়সাও লাগবে না, একদম ফ্রি!" ​মিজানের কথা শুনে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে চালের বস্তা নিয়ে এগিয়ে এলো। ওজন দেওয়া শুরু হলো, আর মিজান পরম যত্নে প্রত্যেকের নামের পাশে চালের পরিমাণ খাতায় লিখে রাখতে লাগলেন। ​কিন্তু এই খবর ইউনিয়ন পরিষদের দুর্নীতিবাজ কর্মীদের কানে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগলো না। খবর পাওয়া মাত্রই তারা হিংস্র পশুর মতো তেড়ে এলো মিজানের দিকে। আসবেই না কেন? মিজানের খাতার পাতায় যে তাদের কালো হাত আর চুরির খতিয়ান ফাঁস হয়ে যাচ্ছে! প্রতিটি অসহায় মানুষের বরাদ্দ থেক...

​তৃষ্ণার জল, তৃষ্ণার প্রতিবাদ

 ​তৃষ্ণার জল, তৃষ্ণার প্রতিবাদ -:- ​রোদ-পোড়া পিচঢালা নতুন রাস্তা দিয়ে গাড়ি এসে থামে গাঁয়ের মোড়ে; চারিদিকে করতালির শব্দ, নেতার মুখে তৃপ্তির হাসি— উন্নয়নের চকমকে আলোয় তখন চারপাশ ঝলমল। ​ঠিক তখনই ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন এক আদিবাসী মা, হাতে চেনা মাটির জগ আর কাঁচের গ্লাস। বললেন— "কতকাল পর এমন সুন্দর রাস্তা দেখল চোখ, আপনার জন্য কতক্ষণ ধরে জল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি বাবা! একটু জল মুখে দিন।" ​শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার এই পরম অর্ঘ্য দেখে নেতাজির বুকটা গরবে ভরে ওঠে, গ্লাসে চুমুক দিতেই চারপাশের বাতাস ভারী হয় তৃপ্তিতে। ​কিন্তু আসল খেলাটা তো লুকিয়ে ছিল তৃষ্ণার শেষ ঢোকে! মহিলা শান্ত মুখে, এক চিলতে মলিন হেসে বললেন— "আমাদের এখানে কোনো টিউবওয়েল নেই তো স্যার, তাই ওই দূরের ছড়ার ঘোলা জলই ছেঁকে এনেছি আপনার জন্য।" ​চমকে ওঠা নেতার মুখের দিকে চেয়ে পাশ থেকে চাটুকার আমলা তখন চাটুরি করে বলে গুড় গুড় ওয়াটার , "জল তো খুইব ভালো স্যার, একদম আয়রন-মুক্ত খাঁটি জল!" ​ক্ষোভ নেই, চিৎকার নেই, কোনো স্লোগান কিংবা ব্যানার নেই, অথচ কী ভীষণ এক চাবুক লুকিয়ে ছিল সেই জলের গ্লাসে! নেতাও বুঝলেন পদের মর্যাদা আর প্রতিবাদে...

আমাদের ক্ষমা করে দিও রামিসা

 আমাদের ক্ষমা করে দিও রামিসা -:- একটি ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু, যে কেবল জীবনের আলো ছড়াতে শুরু করেছিল, তার সাথে ঘটে যাওয়া এই নৃশংসতা ও নির্মমতা স্তব্ধ করে দেয় পুরো মানবতাকে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ওঠা ছোট্ট রামিসা, যার কাঁধে থাকার কথা ছিল স্কুলের ব্যাগ আর চোখে থাকার কথা ছিল রঙিন স্বপ্ন, সে আজ এক পৈশাচিকতার শিকার। মায়ের সেই আকুলতা, সকাল ১০টায় মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজে বেড়ানো, আর শেষমেশ পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় পড়ে থাকা জুতো দেখে বুক কেঁপে ওঠা—এই দৃশ্যপট কোনো মানুষের পক্ষে সহ্য করা কঠিন। ​নিষ্ঠুরতার সব সীমা পার হয়ে যখন একজন মানুষরূপী জানোয়ার বিকৃত যৌনাচারের পর অবলীলায় একটি শিশুকে খণ্ড-বিখণ্ড করতে পারে, এবং তার সেই বীভৎস কাজে যখন তার নিজের স্ত্রীও সহযোগী হতে পারে, তখন বুঝতে হবে সমাজ কতটা পচে গেছে। শৌচাগারে পড়ে থাকা রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথা আর খাটের নিচের নিথর দেহ শুধু একটি শিশুর মরদেহ নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক নৈতিকতা ও মানবিকতার এক রক্তাক্ত কফিন। ​এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের দিকে কিছু তীক্ষ্ণ এবং এড়িয়ে না যাওয়ার মতো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়// ​পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়: পাশের ফ্ল্যাটেই...

#কবিতা :- মাদক মুক্ত মাজার চাই

 মাদক মুক্ত মাজার চাই  লেখক✍️ মোহাম্মদ মিজান  -:- ​মাজারে মজা নেওয়া  আর গাঁজা খাওয়া ​বন্ধ হবে কবে? ​নাকি শিরকের আবাদ,  ফেতনা-বিবাদ ​এভাবেই চলবে? সত্য দ্বিনের সুব্রত  সুপ্ত কলি  আলেম ওলামা ওলি, তাদের মাজারে  দেখি হাজারে হাজারে  নারী পুরুষের ঢলাঢলি!  নেশাগ্রস্ত মাদক আসক্ত  চোর বাটপার  ছিনতাইকারী, তাদের অত্যাচারের ভয় দিনে রাতে রয় ভুক্তভোগী পথচারী । মসজিদ মন্দির মাজার ধর্মীয় স্থান যার যার নোংরামি থেকে বাঁচুক  এই টুকু দাবী সবার কাছে আজ আমার। ----:---- কুয়েত থেকে ১৮ /০৫ /২০২৬ 

​ভার্চুয়াল নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক অবক্ষয়: কারিনা কায়সারের প্রস্থান এবং আমাদের মগজের ব্যাধি

 ​ভার্চুয়াল নিষ্ঠুরতা ও সামাজিক অবক্ষয়: কারিনা কায়সারের প্রস্থান এবং আমাদের মগজের ব্যাধি 👀  ​মৃত্যু শাশ্বত, অনিবার্য। যেকোনো মানুষের মৃত্যুই শোকের, বেদনার। কিন্তু সমকালীন বাংলাদেশে মৃত্যুর চেয়েও এক ভয়াবহ সামাজিক মড়ক দেখা দিয়েছে ভার্চুয়াল জগতে—তা হলো 'ডেথ শেমিং' বা কারও মৃত্যুতে আনন্দোল্লাস ও নিষ্ঠুর উপহাস করা। সম্প্রতি তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, লেখিকা ও সমাজকর্মী কারিনা কায়সারের অকাল মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের কুৎসিত, অমানবিক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের জোয়ার দেখা গেছে, তা কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। বরেণ্য ফুটবলার কায়সার হামিদের কন্যা এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দাবাড়ু রানী হামিদের নাতনি হওয়ার পরিচয় ছাপিয়ে, তিনি একজন মানুষ ছিলেন। কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের একাংশের মন্তব্য দেখে মনে হয়, সমাজ থেকে দয়া, মায়া ও নূন্যতম শালীনতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ​সাইবার বুলিং ও বডি শেমিং: স্থূলতা কি অপরাধ? ​কারিনা কায়সারের মৃত্যুর পর কমেন্ট বক্সে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করা হয়েছে তার শারীরিক গঠন বা স্থূলতা নিয়ে। কাউকে তার শারীরিক অবয়ব নিয়ে উপহাস করা বা 'বডি শেমিং'...

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও যুদ্ধের দর্শন: আধ্যাত্মিকতা নাকি মানবতার পরাজয়?

  শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও যুদ্ধের দর্শন: আধ্যাত্মিকতা নাকি মানবতার পরাজয়? শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে আমরা সাধারণত পরম শান্তির একটি গ্রন্থ হিসেবে জানি। কিন্তু একটু নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এই মহাকাব্যিক উপদেশের কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি রণক্ষেত্র। যেখানে অর্জুন নিজের আত্মীয়-স্বজন ও গুরুজনদের রক্ত ঝরাতে দ্বিধাগ্রস্ত, সেখানে কৃষ্ণ তাঁকে যুদ্ধের পথে চালিত করতে এমন কিছু যুক্তি দিচ্ছেন যা আধুনিক মানবিক মূল্যবোধের নিরিখে গভীর বিতর্কের জন্ম দেয়। আজকের ব্লগে আমি গীতার সেই যুদ্ধ-জাস্টিফিকেশনমূলক দর্শনকে মানবতার আলোয় বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব। ​ ১. জীবনের অধিকার বনাম আত্মার অমরত্ব গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে (শ্লোক ২.১৯–২১) বলা হয়েছে, আত্মা মরে না, তাই হত্যা করলেও আসলে কাউকে হত্যা করা হয় না। আমার পর্যবেক্ষণ: এই দর্শনটি ভয়াবহ। যদি মৃত্যু কেবল 'পোশাক পরিবর্তন' হয়, তবে পৃথিবীতে জীবনের আর কোনো গুরুত্ব থাকে না। এই যুক্তি ব্যবহার করে যেকোনো ঘাতক বা অপরাধী বলতে পারে যে সে কাউকে হত্যা করেনি, শুধু আত্মার খোলস বদলে দিয়েছে। মানবতাবাদ বিশ্বাস করে, প্রতিটি প্রাণের জাগতিক মূল্য অনন্য এবং তা কোনো উচ্চাঙ্গের দর্শনে...

জিন্দা থাকলে নিন্দা: জীবন ও মৃত্যুর এক নির্মম সত্য ​

 জিন্দা থাকলে নিন্দা: জীবন ও মৃত্যুর এক নির্মম সত্য👇  মির্জা গালিবের সেই বিখ্যাত উক্তি— “জিন্দা থাকলে নিন্দা হবেই, মৃত্যুর পর প্রশংসা তো শত্রুও করে”—জীবন দর্শনের এক গভীর ও কঠিন বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। মানুষের বেঁচে থাকা এবং তার কর্মজীবন সর্বদা সমালোচনার কণ্টকাকীর্ণ পথে চলে। সমাজ ও মানুষের মনস্তত্ত্ব এমন এক বিচিত্র বুননে তৈরি যেখানে জীবিতাবস্থায় মানুষের সীমাবদ্ধতাগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়, আর মৃত্যুর শীতল স্পর্শে সেই মানুষটিই রাতারাতি মহৎ বা প্রশংসনীয় হয়ে ওঠে। ​১. সমালোচনার মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি ​মানুষ স্বভাবগতভাবেই বিচারপ্রবণ। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ যখন কাউকে সফল হতে দেখে বা সমাজবহির্ভূত কোনো কাজ করতে দেখে, তখন অবচেতনভাবেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে সে অন্যের সমালোচনা শুরু করে। নিন্দা অনেক সময় হিংসা থেকে জন্ম নেয়, আবার কখনো অজ্ঞতা থেকে। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়, "Social Comparison" বা সামাজিক তুলনার কারণে মানুষ অন্যের কাজের ভুল ধরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। যতক্ষণ একজন ব্যক্তি বেঁচে আছেন এবং সক্রিয় আছেন, ততক্ষণ তিনি কারো না কারো স্বার্থ বা মতাদর্শের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তাই নি...

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

রেমিট্যান্সের কান্না: দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ

  রেমিট্যান্সের কান্না: দক্ষ জনশক্তি ও নিরাপদ অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ ​বাংলাদেশি অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো প্রবাসী রেমিট্যান্স। কিন্তু এই রেমিট্যান্সের কারিগরদের জীবনের গল্পটা প্রায়ই হাহাকার আর বঞ্চনার। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শ্রমবাজার কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং অদক্ষতার বেড়াজালে আটকা পড়ে আমাদের প্রবাসীরা আজ দিশেহারা। ​১. অসম বিনিয়োগ ও আয়ের বৈষম্য ​একজন নেপালি বা ভারতীয় কর্মী যে সুযোগ-সুবিধায় কুয়েতে আসছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি তার সম্পূর্ণ উল্টো। যেখানে অন্যান্য দেশের কর্মীরা নামমাত্র খরচে ক্লিনিং বা সাধারণ পেশায় আসছেন, সেখানে একজন বাংলাদেশিকে গুণতে হচ্ছে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। অথচ মাস শেষে বেতন মাত্র ৭৫ কুয়েতি দিনার। মুদ্রার বিপরীতে এই আয়ের অঙ্কটি যখন ঋণের কিস্তির সামনে দাঁড়ায়, তখন তা আক্ষরিক অর্থেই 'আধুনিক দাসত্বে' রূপ নেয়। এই বিশাল বিনিয়োগ ও যৎসামান্য আয়ের ভারসাম্যহীনতা প্রবাসী পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। ​২. 'ফ্রি ভিসা' ও অবৈধতার মরণফাঁদ ​ভিসার আকাশচুম্বী খরচ তুলতে গিয়ে অনে...

জনআকাঙ্ক্ষায় স্থানীয় সরকার: 'পুতুল চেয়ারম্যান' বনাম 'জনতার প্রতিনিধি'

 জনআকাঙ্ক্ষায় স্থানীয় সরকার: 'পুতুল চেয়ারম্যান' বনাম 'জনতার প্রতিনিধি' -:- বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো ইউনিয়ন পরিষদ। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ক্ষমতার সমীকরণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রকৃত প্রতিনিধিদের পরিবর্তে ওপর মহলের আজ্ঞাবহ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির দ্বারা মনোনীত প্রতিনিধিরা চেয়ারম্যান পদে আসীন হন। সাধারণ মানুষের ভাষায় যারা 'পুতুল চেয়ারম্যান' হিসেবে পরিচিত। ​বর্তমান সময়ে সোনাগাজীসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে এক ধরনের তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে। মানুষ এখন আর চাপিয়ে দেওয়া কোনো পদধারী নয়, বরং তাদের আক্ষেপ ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম 'জনতার চেয়ারম্যান' চায়। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণমূলক প্রবন্ধ নিচে তুলে ধরা হলো। 👇  ​একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূলের মানুষের অংশগ্রহণ নি...

অহংকার ও তুচ্ছতাবোধ: মানুষের পতনের মূল কারণ

 অহংকার ও তুচ্ছতাবোধ: মানুষের পতনের মূল কারণ— মানব সভ্যতার ইতিহাস জুড়ে একটি সত্য বারবার প্রমাণিত হয়েছে — যে মানুষ নিজেকে সর্বোচ্চ মনে করে এবং অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, তার পতন অনিবার্য। এই পতন শুধু সামাজিক বা বৈষয়িক নয়, এটি নৈতিক, মানসিক এবং আত্মিক পতনও বটে। ইতিহাস, ধর্ম, দর্শন ও মনোবিজ্ঞান — সব দিক থেকেই এই সত্যটি স্বীকৃত। অহংকারের স্বরূপ অহংকার হলো এমন একটি মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষ নিজের যোগ্যতা, ক্ষমতা বা অবস্থানকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করে এবং অন্যদের অবমূল্যায়ন করে। মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে "Narcissistic Superiority Complex" বলে চিহ্নিত করেন। অহংকারের কয়েকটি রূপ আছে — সামাজিক অহংকার — বংশ, পদমর্যাদা বা সম্পদের কারণে অন্যকে ছোট করা জ্ঞানের অহংকার — শিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তার কারণে অন্যকে মূর্খ ভাবা ধর্মীয় অহংকার — নিজেকে অধিক ধার্মিক মনে করে অন্যকে পাপী জ্ঞান করা, ক্ষমতার অহংকার — রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার দাপটে অন্যকে দমন করা।  ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি পৃথিবীর প্রতিটি প্রধান ধর্মই অহংকারকে মহাপাপ হিসেবে গণ্য করেছে। ইসলাম ধর্মে আল্লাহ বলেন — "নিশ্চয়ই তিনি অহংকারীদে...

মায়াবী পর্দার নীল বিষাদ

 মায়াবী পর্দার নীল বিষাদ লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :- ​আলোর এক অদ্ভুত নেশা আজ আমাদের হাতের মুঠোয় আটকে আছে, যার নাম স্মার্টফোন। সবাই বলি সংযোগের সেতু, অথচ এই সেতু আমাদের নিয়ে যাচ্ছে এক গভীর নির্জনতায়। মিষ্টি ঘুমের স্বপ্নগুলো এখন চারকোনা স্ক্রিনের নীল আলোয় ফিকে হয়ে আসে, ভোরের পাখিদের ডাক শোনার আগেই আমাদের চোখে জ্বলে ওঠে নোটিফিকেশনের ডিজিটাল আগুন। ​উপকারের ঝুলি ভরে আমরা যখন এই যান্ত্রিক সখ্যের কাছে হাত পাতি, তখন অলক্ষ্যেই খসে পড়ে আমাদের চোখের জ্যোতি, হারিয়ে যায় একাগ্রতা। স্মার্টফোন যেন এক জাদুর আয়না— যেখানে পড়াশোনার টেবিলটা হয়ে যায় এক কাল্পনিক যুদ্ধের ময়দান, আর বইয়ের পাতাগুলো পড়ে থাকে ধুলোমাখা অনাদরে। ​একই ছাদের নিচে থেকেও আজ আমরা যোজন যোজন দূরে। যেখানে ভালোবাসার কথা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আজ টুংটাং শব্দের আধিপত্য। পারিবারিক বন্ধনের সুতো ছিঁড়ে যাচ্ছে ভার্চুয়াল আকর্ষণে, পতি-পত্নীর মান-অভিমানে আজ তৃতীয় পক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক যান্ত্রিক প্রলোভন। ​যুবকের অদম্য প্রাণশক্তি আজ স্থির হয়ে গেছে শুধু আঙুলের নাড়াচাড়ায়, আর লাজ-লজ্জার সেই পুরোনো মূর্তিও ভেঙে খানখান হচ্ছে পর্দার ওপারে। প্রোফাইল পিকচ...

​ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ: একটি পর্যবেক্ষণ

  ​ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ: একটি পর্যবেক্ষণ — ​গণতন্ত্রের প্রধান শক্তি হলো ভোটাধিকার এবং নাগরিক নিরাপত্তা। কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দাবিদার ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু চিত্র ফুটে উঠছে, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের একটি বিশাল অংশের ভোট দিতে না পারা এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার খবরগুলো গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক অশনি সংকেত। ​ভোটবঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সংকট ​নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা বা আইনি মারপ্যাঁচে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার হারায়, তখন সেই নির্বাচন তার নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে। যদি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ ধারাবাহিকভাবে ভোট দিতে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তা কেবল তাদের নাগরিক অধিকার হরণ নয়, বরং দেশের মূলধারা থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হতে পারে। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা যেখানে নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব, সেখানে এমন অভিযোগগুলো গণতন্ত্রের জন্য কাম্য নয়। ​সহিংসতার আবহ ও সামাজিক অস্থিরতা ​নির্বাচন চলাকালীন এবং...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...

চট্টগ্রামে একীভূত ৫ ব্যাংকে গ্রাহকদের ক্ষোভ: তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ

 চট্টগ্রামে একীভূত ৫ ব্যাংকে গ্রাহকদের ক্ষোভ: তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ ​সম্প্রতি চট্টগ্রামে ব্যাংক খাতের অস্থিরতা এক নতুন রূপ নিয়েছে। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের সঞ্চিত আমানত ফেরত পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। সোমবার (৪ মে, ২০২৬) চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এসব ব্যাংকের শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাধারণ গ্রাহকরা। ​পরিস্থিতির মূল চিত্র ​উত্তেজিত গ্রাহকরা সকাল থেকেই ব্যাংকের শাখাগুলোর সামনে ভিড় করতে থাকেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে তারা ব্যাংক থেকে নিজেদের টাকা তুলতে পারছেন না। ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে একপর্যায়ে তারা মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন এবং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। ​বিক্ষোভের মূল কারণগুলো হলো: ​টাকা উত্তোলনে সীমাহীন বাধা: অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন যে, চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনেও তারা সামান্য পরিমাণ টাকা তুলতে পারছেন না। ​একীভূতকরণের পরবর্তী অনিশ্চয়তা: ব্যাংকগুলো একীভূত হওয়ার পর গ্রাহকদের মনে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া। ​কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা: সাধারণ গ্রাহকদ...