মুখোশের কোরবানি
-:-
ত্যাগের মহিমায় আকাশ জুড়ে যখন আনন্দের আলো জাগে,
তখন কিছু মানুষ মেতে ওঠে এক নির্মম প্রতিযোগিতায়।
তাদের অন্তরে নেই আল্লাহর ভয়,
নেই আখেরাতের কোনো পরোয়া , কিংবা মানুষের প্রতি মনুষ্যত্ব।
তারা পশুর গলায় ছুরি চালায় ঠিকই,
কিন্তু বুকের ভেতরের অহংকার আর লোকদেখানো মানসিকতা রয়ে যায় বহাল তবিয়তে।
সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি নয়, তাদের লক্ষ্য ফ্রিজের গভীরতা;
বছরজুড়ে মাংস বিলাসের এক লোভাতুর আয়োজন।
ত্যাগের নামে তারা সাজায় এক মহাসমারোহ,
অথচ সেই আড়ম্বরের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় ইসলামের মূল শিক্ষা।
দুয়ারে এসে দাঁড়ায় যে অভুক্ত প্রতিবেশী,
কিংবা বছরের পর বছর মাংসের স্বাদ না পাওয়া কোনো হতদরিদ্র আত্মীয়—
তাদের পাতে পড়ে শুধু এক টুকরো অবহেলা।
এদিকে নিজের ঘরে থরে থরে জমে ওঠে মাংসের পাহাড়,
ফ্রিজের দরজাটা আর বন্ধ হতে চায় না লোকলজ্জায়!
ও আল্লাহ ! এ কেমন কোরবানি?
যেখানে পশু রক্ত দেয়, আর মানুষ বিক্রি করে তার বিবেক!
যেখানে ফ্রিজ উপচে পড়ে মাংসে, আর শূন্য থালা হাতে কেঁদে ফেরে ক্ষুধার্ত মানুষ।
এই মেকি উৎসবের দেয়াল ভেঙে একদিন আলো আসুক,
ফ্রিজ ভর্তি করার লোভ নয়,
মানুষের হৃদয়টা ভরে উঠুক আল্লাহর ভয় আর প্রকৃত মনুষ্যত্বে।
যারা মুখে বলে হে আল্লাহ — আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার হজ্ব,
আমার যাকাত একমাত্র তোমার জন্য,
কিন্তু অন্তরে ধারণ করে না, কর্মে তা পালন করে না —
আল্লাহ আপনি তাদের হেদায়েত দান করুন— বনের পশুর সাথে সাথে তাদের মনের পশুকেও কুরবানী করার তৌফিক দান করুন। — আমীন
---:----
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
৩১/০৫/২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন