সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতা - শৃঙ্খলিত জলপথ

 #শৃঙ্খলিত_জলপথ

------:----

​মানচিত্রের কাঁটাতার কি তবে মিশে গেছে নোনা জলে?

শতাব্দীর পুরনো সেই দাসত্ব কি আবার নতুন নামে

পাহারা দিচ্ছে আমাদের সমুদ্রসীমা?

আমরা ভেবেছিলাম রক্ত দিয়ে কেনা এই মাটি স্বাধীন,

ভেবেছিলাম সার্বভৌমত্বের ঝান্ডা উড়বে দিক-বিদিক--

অথচ মেঘনার মোহনায় আজ অন্য কারো নির্দেশের অপেক্ষা।

​রাজার বদলে রাজা আসে, পতাকার রঙ হয়তো বদলায়,

কিন্তু সুতোটা কি রয়ে গেছে সেই এক-ই আঙুলের ডগায়?

যাদের আমরা বন্ধু বলি, তারা কি আড়ালে পালনকর্তা?

যাদের আদেশ শিরোধার্য করে থমকে যায় আমাদের মাস্তুল,

তাদের ইশারায় কি তবে নির্ধারিত হবে--

কোন বন্দরে ভিড়বে আমাদের স্বপ্নের জাহাজ?

​দূর দেশের শত্রু-মিত্রের সমীকরণ কষছে পাশের দেশ,

আর সেই হিসেবের খাতায় কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে আমাদের অধিকার।

মিত্রের 'মিত্র' যদি হয় কারো কাছে পরম আরাধ্য,

তবে সেই ভক্তির মাশুল কি আমরাই দিয়ে যাবো আজীবন?

অদৃশ্য শিকলে বন্দি আমাদের নোঙর,

অসহায় নাবিক দেখে--

দিগন্ত জুড়ে কেবল আদেশের কালো ছায়া।

​যদি ঝড়ের মুখেও মাথা নত করতে হয় পরের দুয়ারে,

তবে সেই স্বাধীনতার গান কি কেবলই অলীক কোনো সুর?

বুকের ভেতর জমে থাকা আগ্নেয়গিরিই শুধু জানে--

দখল করা মাটি ফেরানো যায়,

কিন্তু বিকিয়ে দেওয়া মেরুদণ্ড সোজা করা বড় কঠিন।

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

১০ /০৪/২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...