জনগণের আমানত রক্ষা হোক: ইসলামী ব্যাংকের সামনে লুটেরাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
আজ ১ জুন ২০২৬, রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আবারও এক নজিরবিহীন ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা যখন তাদের কষ্টের আমানত ও প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা রক্ষার দাবিতে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন, তখন তাদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ বাহিনী। রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান আর টিয়ার শেলের আঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মতিঝিল এলাকা।
খবর অনুযায়ী, পুলিশের এই অতর্কিত ও বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এত বড় দমন-পীড়নের পরেও গ্রাহক ও সাধারণ জনতা দমে যাননি। তাদের দৃঢ় প্রতিরোধ এবং অনড় অবস্থানের কারণে হামলার পরেও তারা প্রধান কার্যালয়ের সামনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
আন্দোলনের মূল কারণ কী?
বিগত বছরগুলোতে দেশের অন্যতম শীর্ষ শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকটিকে যেভাবে এস আলম গ্রুপ এবং তাদের দোসররা ক্ষমতার জোরে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, তার ক্ষত এখনও শুকায়নি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ—বিতর্কিত এস আলম বাহিনীর সেই পুরোনো দখলদারিত্ব এবং প্রভাব নতুন কোনো কৌশলে আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এমন একজনকে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে, যাকে সাধারণ গ্রাহকরা লুটেরা সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে দেখছেন।
আজ যখন সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, ঠিক তখনই সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন নাগরিকরা নিজেদের আমানত ও ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা: "লুটেরা এবং ব্যাংক ধ্বংসকারীদের কোনো পুনর্বাসন ইসলামী ব্যাংকে চলতে দেওয়া হবে না। জনগণের পকেট কেটে যারা ব্যাংক ফাঁকা করেছে, তাদের পাহারাদারদের হটিয়ে ব্যাংকের পূর্ণ সংস্কার করতে হবে।"
এই দমন-পীড়ন কার স্বার্থে?
প্রশ্ন জাগে, যারা ব্যাংকের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো যারা নিজেদের আমানত ও দেশের আর্থিক খাত রক্ষায় রাজপথে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ওপর কেন এই বর্বর পুলিশি অ্যাকশন? সাউন্ড গ্রেনেড আর রাবার বুলেট মেরে কি জনগণের ন্যায়সঙ্গত কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব?
ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ সিন্ডিকেটের সম্পত্তি নয়, এটি এ দেশের কোটি গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। অতীতে যেভাবে এই ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা নামে-বেনামে বের করে নিয়ে আর্থিক খাতকে পঙ্গু করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ আর হতে দেবে না।
উপসংহার
আজকের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রমাণ করে, দেশের সাধারণ মানুষ এখন তাদের অধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে কতটা সচেতন। অন্যায় ও বুলেটের মুখে দাঁড়িয়েও গ্রাহকদের এই বীরত্বপূর্ণ অবস্থান প্রশংসার দাবিদার। অবিলম্বে এই দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংককে সম্পূর্ণভাবে এস আলম বা অন্য যেকোনো লুটেরা গোষ্ঠীর কালো থাবা থেকে মুক্ত করে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
জনগণের আমানত রক্ষা পাক, জয় হোক ন্যায়ের প্রতিরোধের!
✍️ মোহাম্মদ মিজান
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন