সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

​জনগণের আমানত রক্ষা হোক: ইসলামী ব্যাংকের সামনে লুটেরাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ! ✊🇧🇩

 ​জনগণের আমানত রক্ষা হোক: ইসলামী ব্যাংকের সামনে লুটেরাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ! ✊🇧🇩

​আজ ১ জুন ২০২৬, রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আবারও এক নজিরবিহীন ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা যখন তাদের কষ্টের আমানত ও প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা রক্ষার দাবিতে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন, তখন তাদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ বাহিনী। রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান আর টিয়ার শেলের আঘাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মতিঝিল এলাকা।

​খবর অনুযায়ী, পুলিশের এই অতর্কিত ও বর্বর হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এত বড় দমন-পীড়নের পরেও গ্রাহক ও সাধারণ জনতা দমে যাননি। তাদের দৃঢ় প্রতিরোধ এবং অনড় অবস্থানের কারণে হামলার পরেও তারা প্রধান কার্যালয়ের সামনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

​📌 ইতিহাসের আয়নায় ইসলামী ব্যাংক: এই সম্পদ কার?

১৯৮৩ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (বর্তমান নাম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি) প্রতিষ্ঠার পেছনে ২২ জন দেশীয় উদ্যোক্তা (ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব) অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

​ইতিহাস এবং নথিপত্র অনুযায়ী, এই স্বপ্নদ্রষ্টা ও উদ্যোক্তাদের প্রধান কয়েকজন ব্যক্তির নাম নিচে দেওয়া হলো:

​মোহাম্মদ ইউনুস (মরহুম) — যার প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অন্যতম মূল ভিত্তি ধরা হয়।

​আব্দুর রাজ্জাক লস্কর (মরহুম)

​মফিজুর রহমান

​মাওলানা আব্দুর জব্বার (মরহুম) — বায়তুশ শরফের পীর।

​মোশাররফ হোসেন

​জাকি উদ্দীন আহমেদ — যিনি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নিয়ে আত্মজীবনীমূলক বইও লিখেছেন।

​মোহাম্মদ হোসেন — বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (নর্থব্রুক হল রোড)।

​আলহাজ্ব বশির উদ্দিন

​সফিউদ্দিন দেওয়ান

​নূরুজ্জামান

​অধ্যাপক আব্দুল্লাহ

​ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আনোয়ার

​নাসির উদ্দিন

​দাউদ khan

​এ.কে.এম ফজলুল হক

​এম.এ রশীদ চৌধূরী

​আব্দুল মালেক মনার

জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী: তিনি ছিলেন ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ও পরিচালক。

স্বৈরাচার হাসিনা যাকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে। 


#​বিশেষ_দ্রষ্টব্য: এই ২২ জন দেশীয় উদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ সরকার (যাদের সম্মিলিত শেয়ার ছিল ১৫%) ছাড়াও এই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠায় বড় অবদান ছিল সৌদী আরব ও কুয়েতের বেশ কয়েকজন বিদেশী উদ্যোক্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (যেমন: ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা IDB, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, দুবাই ইসলামিক ব্যাংক ইত্যাদি)। বিদেশী উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ফুয়াদ আব্দুল হামিদ আল-খতিব (ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন সৌদী রাষ্ট্রদূত), সাঈদ আহমেদ লুতাহ এবং সোলায়মান আল-রাজী।

​এছাড়াও সোনালী ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে ব্যাংকের প্রথম কান্ডারী বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়ে এম আযীযুল হক (ফাদার অব ইসলামিক ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ) এই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করাতে অনন্য ভূমিকা রাখেন।

​আজ যারা ক্ষমতার জোরে বা পেছনের দরজা দিয়ে এই ব্যাংকটি দখল করতে চাচ্ছে, তারা হয়তো ভুলেই গেছে এই প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তনের ইতিহাস।

​দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম শরিয়াহ ব্যাংক: ১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম সুদমুক্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড তার যাত্রা শুরু করে।

​ভিত্তিপ্রস্তর ও প্রতিষ্ঠাতা: এই ব্যাংকটি কোনো ব্যক্তি বা একক পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশ সরকার, দেশের ২২ জন বিশিষ্ট ও দূরদর্শী ব্যবসায়ী এবং মধ্যপ্রাচ্যের খ্যাতনামা ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

​আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব: মুসলিম উম্মাহর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (IDB) এবং সৌদি ও কুয়েতের মতো বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা এর প্রাথমিক মূলধনের ৭০% জোগান দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের সততা ও কোটি গ্রাহকের আস্থার ওপর ভর করে এটি দেশের শীর্ষ ব্যাংকে পরিণত হয়েছিল।

​🛑 আন্দোলনের মূল কারণ কী?

​বিগত বছরগুলোতে দেশের অন্যতম শীর্ষ শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকটিকে যেভাবে এস আলম গ্রুপ এবং তাদের দোসররা ক্ষমতার জোরে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, তার ক্ষত এখনও শুকায়নি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ—বিতর্কিত এস আলম বাহিনীর সেই পুরোনো দখলদারিত্ব এবং প্রভাব নতুন কোনো কৌশলে আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এমন একজনকে বসানোর প্রক্রিয়া চলছে, যাকে সাধারণ গ্রাহকরা লুটেরা সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে দেখছেন।

​আজ যখন সেই বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পুনর্বহাল বা যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, ঠিক তখনই সাধারণ গ্রাহক ও সচেতন নাগরিকরা নিজেদের আমানত ও ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

​আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বার্তা: > "লুটেরা এবং ব্যাংক ধ্বংসকারীদের কোনো পুনর্বাসন ইসলামী ব্যাংকে চলতে দেওয়া হবে না। জনগণের পকেট কেটে যারা ব্যাংক ফাঁকা করেছে, তাদের পাহারাদারদের হটিয়ে ব্যাংকের পূর্ণ সংস্কার করতে হবে।"

​❓ এই দমন-পীড়ন কার স্বার্থে?

​প্রশ্ন জাগে, যারা ব্যাংকের টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো যারা নিজেদের আমানত ও দেশের আর্থিক খাত রক্ষায় রাজপথে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ওপর কেন এই বর্বর পুলিশি অ্যাকশন? সাউন্ড গ্রেনেড আর রাবার বুলেট মেরে কি জনগণের ন্যায়সঙ্গত কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব?

​ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ সিন্ডিকেটের সম্পত্তি নয়, এটি এ দেশের কোটি গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। অতীতে যেভাবে এই ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা নামে-বেনামে বের করে নিয়ে আর্থিক খাতকে পঙ্গু করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ আর হতে দেবে না।

​📢 আমাদের দাবি ও উপসংহার

​আজকের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ প্রমাণ করে, দেশের সাধারণ মানুষ এখন তাদের अधिकार ও আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে কতটা সচেতন। অন্যায় ও বুলেটের মুখে দাঁড়িয়েও গ্রাহকদের এই বীরত্বপূর্ণ অবস্থান প্রশংসার দাবিদার।

​অবিলম্বে এই দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে এবং ইসলামী ব্যাংককে সম্পূর্ণভাবে এস আলম বা অন্য যেকোনো লুটেরা গোষ্ঠীর কালো থাবা থেকে মুক্ত করে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদার ও দেশীয় উদ্যোক্তাদের গড়া এই প্রতিষ্ঠানকে কোনো একক সিন্ডিকেটের গ্রাসে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

​জনগণের আমানত রক্ষা পাক, জয় হোক ন্যায়ের প্রতিরোধের! ✊

​#SaveIslamiBank #StopLooting #PublicResistance #IslamiBankBangladesh #BankingSectorReform #DhakaMotijheel

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫