সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

প্রয়োজন ও উপেক্ষার সমীকরণ

প্রয়োজন ও উপেক্ষার সমীকরণ

-:-কবিতা-:-

মানুষ তোমাকে ততক্ষণই মূল্য দিবে, 

যতক্ষণ তুমি তার প্রয়োজন মিটাবে।

মানুষ তোমাকে সে'সময় দূরে ঠেলে দিবে,

যে সময় তুমি তোমার নিজের চিন্তা করবে।

​এখানে কেউ কাউকে অকারণে মনে রাখে না, বন্ধু।

এই শহরের আলো-ঝলমলে চত্বর কিংবা গ্রামের ধুলোমাখা পথ—

সবখানেই সম্পর্কের সুতোগুলো বাঁধা থাকে এক অদৃশ্য প্রয়োজনে।

​ততক্ষণই তুমি প্রিয়, ততক্ষণই তুমি অনিন্দ্য সুন্দর,

যতক্ষণ তোমার দুহাত উজাড় করে তুমি বিলিয়ে দিতে পারো স্বার্থের অর্ঘ্য।

যতক্ষণ অন্যের তৃষ্ণায় তুমি হয়ে ওঠো শীতল জলপ্রপাত,

কিংবা তাদের ক্লান্তিতে এক চিলতে বটবৃক্ষের ছায়া।

ততক্ষণই তোমার কদর, ততক্ষণই তোমার নামে চারদিকে জয়ধ্বনি।

​কিন্তু যেই মুহূর্তে ফুরিয়ে যায় সেই চড়া চাহিদার দিন,

কিংবা যখন ক্লান্ত পায়ে তুমি একটু থমকে দাঁড়াও,

আর নিজের ক্ষয়ে যাওয়া বুকটার দিকে তাকিয়ে ভাবো—

"এবার একটু নিজের জন্য বাঁচি,"

ঠিক তখনই অলিখিত নিয়মেরা রঙ বদলাতে শুরু করে।

​নিজের একটুখানি ভালো থাকা, নিজের একটুখানি আত্মমর্যাদা—

যখনই তুমি এসব নিয়ে ভাবতে যাবে,

পৃথিবী তোমাকে এক নিমেষে দাগিয়ে দেবে 'স্বার্থপর' বলে।

যে হাতগুলো চিলড্রেন-পার্কের দোলনার মতো তোমাকে মাথায় তুলে রেখেছিল,

তারাই তোমাকে এক ঝটকায় ঠেলে দেবে একাকীত্বের অতল গহ্বরে।

​মানুষ তোমাকে ততক্ষণই বুকে আগলে রাখবে,

যতক্ষণ তুমি তাদের চাওয়া-পাওয়ার আয়না হয়ে থাকবে।

আর যখনই তুমি নিজের অবয়ব দেখতে চাইবে সেই আয়নায়,

তখনই তারা তোমাকে দূরে সরিয়ে দেবে, এক ভাঙা কাঁচের টুকরোর মতো।

​এটাই এই পৃথিবীর নির্মম ধারাবাহিকতা,

প্রয়োজনের বৃত্তে বন্দি এক অদ্ভুত মানবিক নাট্যমঞ্চ।

----:----

লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০৩/০৬/২০২৬  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...