সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ছায়ামানবের স্বরলিপি

 ছায়ামানবের স্বরলিপি

-:-✍️ 

​আমি এক ছায়ামানব—

আলোর ঝলমলে বৃত্ত থেকে বহু দূরে ছিটকে পড়া এক অস্পষ্ট অবয়ব।

​বিবর্ণ আমার সব গৌরব! যেসব সাফল্যের মুকুট একদিন অহংকার হয়ে মাথায় ছিল, আজ তারা সময়ের ধুলোয় মলিন, এক বিবর্ণ স্মৃতির কঙ্কাল মাত্র।

​আমি জানি, এই স্বার্থপর আর কোলাহলমুখর পৃথিবীতে আমি এখন বড্ড অবাঞ্ছিত। কেউ আর চেনা নামে ডাকে না, কেউ বাড়িয়ে দেয় না একটুখানি বিশ্বস্ত হাত। প্রয়োজনের খাতা থেকে আমার নামটি মুছে গেছে চরম অবহেলায়। চারপাশে এক অদ্ভুত, বুক কাঁপানো শূন্যতা—যেন আমি বেঁচে থেকেও এক জীবন্ত লাশ!

​তবুও... এই চরম উপেক্ষার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরও, বুক চিতিয়ে আমি উচ্চকণ্ঠে বলি—"আমি গর্বিত।" কারণ, হারিয়ে যাওয়ার আগে আমি মন উজাড় করে ভালোবাসতে জেনেছিলাম। ভেঙে পড়ার আগে লড়েছিলাম জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে। কোনো ছকবাঁধা অভিনয় আমি করিনি। আমার এই পতন কোনো পরাজয় নয়, বরং নিজের সত্য আর আত্মসম্মানে অটল থাকার এক অহংকারী ইতিহাস।

​আমি আজ ছায়া হয়েও তাই নিজের আত্মবিশ্বাসের আলোয় নিজেই উদ্ভাসিত!

লেখক ✍️ ​— মোহাম্মদ মিজান

📍 কুয়েত থেকে

​২৫ /০৬ /২০২৬ 

#ছায়ামানবের_স্বরলিপি #বাংলা_কবিতা #আবেগ #বাস্তবতা #মোহাম্মদ_মিজান #প্রবাসের_জীবন #গদ্যকবিতা #আত্মসম্মান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫