সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি আলোর মিছিলের অপেক্ষা " লেখক : মোহাম্মদ মিজান "

কবিতা =একটি আলোর মিছিলের অপেক্ষা"
লেখক : মোহাম্মদ মিজান "
প্রতিদিনের মতো আজো আমি একটি
আলোর মিছিলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি,
প্রান্ত পথের ক্লান্ত পথিক আমি তবু নির্ভয়ে
আমার অধিকারের কথা বলতে দাঁড়িয়ে আছি ।
আমার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার কথা বলব-
আমার অস্তিত্ব ধ্বংস হওয়ার কথা বলব আজ,
ঘুষ দূর্নীতি আর মাদক দিয়ে কিভাবে নষ্ট করে
টগবগে বেড়ে ওঠা আমার মেধাবী যুব সমাজ ।
আমি সেই ধ্বংসের কিছু চিত্র তুলে ধরতে এসেছি,
প্রান্ত পথের ক্লান্ত পথিক আমি তবু নির্ভয়ে
আমার অধিকারের কথা বলতে দাঁড়িয়ে আছি ।
আমি সেই সব গুম হওয়া সন্তানের মায়ের আর্তনাদ ,
আহাজারির করুণ কান্না নিয়ে এসেছি ।
প্রতিদিনের মতো আজো আমি একটি
আলোর মিছিলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি।
এইযে দেখছ আমার হাতে রক্ত মাখা শাড়ি!
এটা আমার নিঃস্ব পাপ ধর্ষিতা বোনের শেষ চিহ্ন
যে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে
লাশ হয়ে ফিরে আসে বাড়ি।
ঐ যে দেখছ একটি লাশের বাক্স!
হে হে লাশের বাক্স ?
ওখানে ঘুমিয়ে আছে আমার অতি আদরের ভাই,
গত কাল ও ডোবার জলে পড়ে ছিল
ক্ষত বিক্ষত পচা গলিত দেহ নিয়ে
ছিলোনা তো কোন চেনার উপাই ।
আমি আমার ভাইয়ের লাশ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি,
প্রতিদিনের মতো আজো আমি একটি
আলোর মিছিলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি,
আমার ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে,
কেড়ে নিয়েছে বাক স্বাধীনতা,
আমি সে কথা বলতে এসেছি ।
সাথে করে নিয়ে এসেছি আমরা মুক্তিযোদ্ধা বাবার
রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতি,
বলতে এসেছি বাবা তোমার দেয়া স্বাধীন দেশে
আমি আমরা আজ কেমন আছি?
প্রতিদিনের মতো আজো আমি একটি
আলোর মিছিলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছি,
রচনাকাল : ২৯ /০৬ / ২০১৮ ইং

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...