সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মসজিদে হামলা চালায় বিএনপি'

 

প্রশ্নঃ মসজিদের ভিতরে দারসুল কুরআন প্রোগ্রাম করা যদি অপরাধ হয়, তবে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর করা কি অপরাধ নয়? মসজিদের ভিতরে দারসুল কুরআন প্রোগ্রাম করা যদি অপরাধ হয়, তবে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর করা কি অপরাধ নয়?

উত্তরঃ অপরাধের মানদণ্ড: দারসুল কুরআন বনাম মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর"
​ইসলামের পবিত্রতম স্থান হলো মসজিদ, যাকে আল্লাহর ঘর বলা হয়। এই ঘর ইবাদত, জ্ঞানচর্চা ও সৎকাজের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। আর সেই পবিত্র মসজিদে হামলা- এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুতর এবং স্পর্শকাতর, যেখানে দুটি ভিন্ন প্রকৃতির কাজের তুলনামূলক অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে: মসজিদের ভেতরে 'দারসুল কুরআন' প্রোগ্রাম করা (যা কোনো কোনো মহলে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে) এবং মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর করা।
​বিষয়টির গভীরতা অনুধাবন করতে হলে, ইসলামি শরিয়ত এবং নৈতিকতার মানদণ্ডে উভয় কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করা আবশ্যক।
​১. দারসুল কুরআন প্রোগ্রাম: বিতর্ক বনাম উদ্দেশ্য
​'দারসুল কুরআন' বা কুরআনের পাঠ ও ব্যাখ্যা দেওয়া একটি জ্ঞানভিত্তিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি, যার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া এবং তাদের ঈমান ও আমলকে মজবুত করা।
​ইসলামি দৃষ্টিকোণ: সাধারণভাবে মসজিদে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাদান অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসূল (সা.) এর যুগেও মসজিদে তালিম বা শিক্ষার ব্যবস্থা ছিল। কুরআন শিক্ষা দেওয়া এবং শেখা উভয়ই পুণ্যের কাজ হিসেবে বিবেচিত।
​বিতর্কের কারণ: যদি কোনো বিশেষ দারসুল কুরআন প্রোগ্রামের বিষয়বস্তু বা পদ্ধতি নিয়ে মতভেদ বা বিতর্ক থাকে, তবে সেই বিতর্ককে অহিংস ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই ইসলামের নির্দেশনা। যদি কেউ মনে করে যে এই প্রোগ্রাম শরিয়ত বিরোধী, তবে তাদের উচিত হবে উপযুক্ত দলিল-প্রমাণ সহকারে তার বিরোধিতা করা, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই সহিংস রূপ না নেয়।
​তবে, মসজিদের ভেতরে কুরআনের শিক্ষা দেওয়াকে কোনোভাবেই "অপরাধ" হিসেবে গণ্য করা যায় না, বরং একে সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ বলেই বিবেচনা করা হয়, যদি না তা মৌলিকভাবে কোনো হারাম কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়। যদি কোনো মতপার্থক্য থাকেও, তার সমাধান কখনোই জোর-জবরদস্তি হতে পারে না।
​২. মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর: সর্বোচ্চ জুলুম
​অন্যদিকে, মসজিদে হামলা করা, ভাঙচুর করা, অগ্নিসংযোগ করা, বা ইবাদত করতে বাধা দেওয়া ইসলামে সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুতর অপরাধ ও জুলুম হিসেবে গণ্য হয় ।
​মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:
​"আর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং এগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করে? অথচ ভীত-সন্ত্রস্ত না হয়ে তাদের জন্য সেগুলোতে প্রবেশ করা সঙ্গত ছিল না। দুনিয়াতে তাদের জন্য লাঞ্ছনা ও আখিরাতে রয়েছে মহাশাস্তি।" (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২:১১৪)
​এই আয়াত থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:
​আল্লাহর সাথে যুদ্ধ: মসজিদ হলো আল্লাহর ঘর। এটি ধ্বংসের চেষ্টা করা বা তাতে ইবাদত বন্ধ করতে চাওয়া সরাসরি আল্লাহর সাথে শত্রুতামূলক আচরণের শামিল।
​পৃথিবীর বুকে লাঞ্ছনা: যারা এমন কাজ করে, তাদের জন্য দুনিয়াতেই রয়েছে অপমান ও লাঞ্ছনা।
​আখিরাতে মহাশাস্তি: পরকালে তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কঠিনতম শাস্তি।
​নৈতিক ও ধর্মীয় পতন: মসজিদে হামলাকারীরা শুধু আইনগত অপরাধী নয়, বরং তারা নৈতিকতা বিবর্জিত এবং ইসলামের চিরশত্রু ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কাজের সাথে সাদৃশ্য রাখে, যারা যুগে যুগে আল্লাহর ঘরে ইবাদত করতে বাধা দিয়েছে।
​৩. উপসংহার: অপরাধের মানদণ্ড
​প্রশ্নটির সরল উত্তর হলো, অপরাধের মানদণ্ডে দারসুল কুরআন প্রোগ্রাম করা (যা কোনো কোনো মহলে বিতর্কিত হতে পারে) এবং মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর করা—এর মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না।
​১.  দারসুল কুরআন: এটি একটি শিক্ষা ও ইবাদতের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য সৎ। যদি এতে কোনো ভুল থাকেও, তা সংশোধনের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। এটিকে "অপরাধ" আখ্যা দেওয়া হলে তা হবে ইসলামি জ্ঞানের প্রতি অবিচার।
২.  মসজিদে হামলা ও ভাঙচুর: এটি মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনার লঙ্ঘন, ইবাদতে বাধা প্রদান এবং আল্লাহর ঘরকে ধ্বংসের অপচেষ্টা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের যুলম (অবিচার) এবং মহাশাস্তির কারণ।
​কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যদি দারসুল কুরআনের বিষয়বস্তু নিয়ে ঘোরতর আপত্তি থাকেও, তাদের উচিত হবে যুক্তিতর্ক, দলিল-প্রমাণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সুরাহা করা। সহিংসতা, হামলা বা ভাঙচুর—এগুলো কখনোই ইসলামি বা সভ্য সমাজের কোনো সমাধান হতে পারে না, বিশেষত আল্লাহর ঘরের ক্ষেত্রে।
​অতএব, কেউ যদি এক বা একাধিক দারসুল কুরআন প্রোগ্রামকে 'অপরাধ' মনে করেও থাকে, তবে সেই যুক্তিতে মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে হামলা ও ভাঙচুরকে বৈধতা দেওয়া যায় না। কারণ, সামান্যতম মতবিরোধের অজুহাতে আল্লাহর ঘরকে ক্ষতিগ্রস্ত করাটা একটি অমার্জনীয় অপরাধ, যার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে।
মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি আল্লাহ পাক আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করুন এবং আপনার দ্বীন প্রচার করতে সাহায্য করুন। আমীন
✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২০ /১০ /২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...