সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শিবিরের জয়জয়কার কি বার্তা দিচ্ছে :-

 শিবিরের জয়জয়কার কি বার্তা দিচ্ছে :

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র শিবিরের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে!

জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, এটাকে যেভাবে দেখছি:


এটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার জন্ম দেওয়া পরিবর্তন। জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে বা কার্যক্রমে যে বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের সাফল্য, তা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে:

​১. ছাত্র রাজনীতির শূন্যতা পূরণ:

​দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে, বিশেষ করে ক্যাম্পাসগুলোতে, একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের (যেমন পূর্বে ছাত্রলীগ) একক আধিপত্য ছিল। অন্যান্য দল, বিশেষ করে শিবির, অনেক ক্যাম্পাসে প্রায় নিষিদ্ধ বা নিষ্ক্রিয় ছিল বলা চলে না তাদেরকে কোন প্রোগ্রাম করতে দেওয়া হয়নি।

এমনকি ইফতার মাহফিলের মতো ধর্মিয় কাজ গুলোও করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ। 

টাকনুর উপর কাপড়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ভালো ব্যবহার করলেই শিবির বলে অত্যাচার করা এমনকি হত্যা করাও জায়েজ ছিল আধিপত্যবাদী ছাত্র লীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের কাছে! 


২০২৪ এর ​জুলাই বিপ্লবের পর সেই একক আধিপত্যের পতন ঘটে এবং এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়।

​ছাত্র সংসদ নির্বাচন বা প্রকাশ্যে কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে ছাত্রশিবির সেই শূন্যতা পূরণে সক্ষম হয়েছে। তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি এবং একটি শক্তিশালী ক্যাডার-ভিত্তিক কাঠামো এই পরিবর্তনে সহায়ক হয় ।


​২. সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও বিকল্পের সন্ধান:

​জুলাই বিপ্লব ছিল মূলত পূর্ববর্তী সরকারের বৈষম্য, দমন-পীড়ন এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ।

​অনেক শিক্ষার্থী এমন একটি বিকল্প খুঁজছিলেন যা পূর্বের আধিপত্যবাদী বা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির বাইরে ছাত্র ছাত্রী বান্ধব।


​যেহেতু জুলাই আন্দোলনের মূল নেতৃত্ব (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ও বাম ছাত্র সংগঠনগুলো) ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তাই অনেক শিক্ষার্থী হয়তো প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বা কার্যকর বিকল্প হিসেবে শিবির সমর্থিত প্যানেলকে বেছে নিয়েছে,

শিক্ষিত মানুষেরা জানে জুলাই বিপ্লবের আসল মাষ্টারমাইড ছিল এই শিবিরের ছেলে মেয়েরা। 

যদিও তাদের পুরোনো রাজনৈতিক ইতিহাস তথাকথিত বিতর্কিত। তবুও এটি একটি 'নতুন' রাজনৈতিক শক্তির প্রতি তাদের আকর্ষণ বা তরুণ প্রজন্মের হতাশার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।


​৩. আদর্শিক পরিবর্তন:

​এই পরিবর্তনের পিছনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আদর্শিক পরিবর্তন কাজ করছে কিনা, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। অর্থাৎ, তারা কি সত্যিই শিবিরের মূল আদর্শে বিশ্বাসী হচ্ছে! নাকি তারা কেবল একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্রতিপক্ষকে ভোট দিয়েছে?

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এমন একটা সংগঠন যারা আদর্শ ও আনুগত্যের এক অন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। 

এই ছাত্র সংগঠনে অন্তঃকোন্দোল নেই, এদের ক্ষমতার লোভ নেই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারীবাজির মতো এমন জঘন্য কাজের সাথে শিবির জড়িত নয়। 


​জুলাই বিপ্লব একটি নির্দলীয় আন্দোলন হিসেবে শুরু হলেও, পরবর্তী সময়ে শিবির গোপনে এই বিপ্লবের অন্যতম অংশিধার, যদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এতে যুক্ত হয়।

অনেকেই শিবিরের প্রকাশ্যে আসার বিষয়টি সামগ্রিক ছাত্র সমাজের মতাদর্শিক দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।


​৪. জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন:

​জুলাই বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে আন্দোলনের পরবর্তী নেতৃত্ব বা সুবিধাভোগী কারা হচ্ছে, তা নিয়ে একটি বিভ্রান্তি বা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

​শিবিরের উত্থানকে অনেকে জুলাই বিপ্লবের চেতনার দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, যেখানে মূল আন্দোলনকারীরা প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।


​৫. গণতন্ত্রের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ:

​জুলাই বিপ্লবের অন্যতম ফল হলো ক্যাম্পাসে বহুমুখী ছাত্র রাজনীতি ফিরে আসার সুযোগ। পূর্বে দমন-পীড়িত একটি সংগঠনের প্রকাশ্যে আসার সুযোগ পাওয়াকে অনেকেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখতে পারেন।

​তবে, ছাত্রশিবিরের অতীত ইতিহাস এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর কারণে তাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা একটি চ্যালেঞ্জও তৈরি করতে অনেক বাধাগস্ত হতে হয়েছে বর্তমানে সবাই শিবের প্রশংসা করে । শিবিরের এই আদর্শ ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা এবং শিক্ষার পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা দেখার বিষয়।

​উপসংহার:

​জুলাই বিপ্লবের পর ছাত্র সমাজে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা হলো রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের (যার মধ্যে ছাত্রশিবির অন্যতম) পুনরুত্থান। একে দেখা উচিত একটি জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি হিসেবে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দমন-পীড়িত রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে এবং ক্ষমতার লড়াইয়ে নামছে। এই পরিবর্তনটি বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে।


বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের (Jamaat-e-Islami এর ছাত্র সংগঠন) বিজয় জাতীয় নির্বাচনে অবশ্যই প্রভাব ফেলতে পারে, তবে এটি একটি জটিল বিষয় এবং প্রভাবের মাত্রা বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে।

​সাধারণত, এই বিজয়ের প্রভাবগুলো নিম্নরূপ হতে পারে:


​১. রাজনৈতিক বার্তা ও জনমত (Political Message)

​তরুণ প্রজন্মের সমর্থন: বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলো তরুণ সমাজের রাজনৈতিক মনোভাবের একটি সূচক। ছাত্রশিবিরের এই জয় ইঙ্গিত দিতে পারে যে দেশের তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে, আকৃষ্ট হচ্ছে।

​ক্ষমতার কাছাকাছি বিএনপির মতো বড় দলের প্রতি অসন্তোষ: 


এই ফলাফলকে অনেকে বিগত সরকারের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখতে পারে। এই অসন্তোষ জাতীয় নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

​ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পুনরুত্থান: ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের বিজয় ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি সমর্থন পুনরুজ্জীবিত হওয়ার একটি ইঙ্গিত হতে পারে। এটি জাতীয় রাজনীতিতে জামায়াতের মতো দলগুলোর গুরুত্ব বাড়াতে পারে।


​২. সাংগঠনিক ও প্রচারণামূলক প্রভাব (Organizational Impact)

​কার্যকর প্রচারণা কৌশল: ছাত্রশিবির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য যে সংগঠন ও কৌশল ব্যবহার করেছে, তা জাতীয় নির্বাচনে তাদের মূল দল বা জোটের জন্য একটি মডেল হতে পারে।


​নতুন নেতৃত্ব তৈরি: ছাত্র সংসদগুলো জাতীয় রাজনীতির জন্য নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার মঞ্চ। এই জয় ছাত্রশিবির বা জামায়াতের জন্য তরুণ, শিক্ষিত ও পরীক্ষিত নেতা সরবরাহ করবে, যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

​সংগঠন চাঙ্গা করা: দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে থাকা একটি সংগঠনের জন্য এই বিজয় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে, যা জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় শক্তি যোগাবে।

​৩. জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি প্রভাবের সীমাবদ্ধতা

​যদিও ছাত্র সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, এর প্রভাবের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে:


​ভোটার সংখ্যায় পার্থক্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোটার সংখ্যা (শিক্ষার্থী) জাতীয় নির্বাচনের কোটি কোটি ভোটারের তুলনায় খুবই কম।

​নির্বাচনী ইস্যুর ভিন্নতা: ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আবাসিক হল, ক্যান্টিন, বা ফি সংক্রান্ত ছাত্র-কেন্দ্রিক ইস্যু বেশি কাজ করে, যা জাতীয় নির্বাচনে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, ও সামগ্রিক শাসন-এর মতো বড় ইস্যু দ্বারা প্রভাবিত হয়।


​ছাত্র রাজনীতির প্রভাবের পরিবর্তন: অতীতে ছাত্র রাজনীতি জাতীয় রাজনীতিতে সরাসরি বড় প্রভাব ফেললেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই প্রভাব কিছুটা কমে এসেছিল। তবে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ছাত্র রাজনীতির ভূমিকা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

​মোটকথা, শিবিরের এই বিজয় সরাসরি জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল বদলে দেবে না, তবে এটি জাতীয় জনমতের গতিপথ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে, কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি শক্তিশালী বার্তা এবং মূল দল জামায়াত ইসলামীর জন্য নির্বাচনী মাঠে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

-----:-----

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

১৬ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...