সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

​পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের বিনিময়ে আমার প্রসিকিউশন কেউ কিনতে পারবে না ​- মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চিফ প্রসিকিউটর

 পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের বিনিময়ে আমার প্রসিকিউশন কেউ কিনতে পারবে না

​- মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চিফ প্রসিকিউটর

​ভূমিকা: নৈতিকতার এক অগ্নিশপথ

​বিচারিক প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ নীতিগত অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, চিফ প্রসিকিউটর, ঘোষণা করেছেন— "পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের বিনিময়ে আমার প্রসিকিউশন কেউ কিনতে পারবে না।" এই উক্তিটি নিছক ব্যক্তিগত অহংকার নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে একজন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আপোসহীন অবস্থানের এক অগ্নিশপথ। এই বাক্যটি কেবল একটি বক্তব্য নয়, এটি সমগ্র বিচার ব্যবস্থার নৈতিক মেরুদণ্ড এবং আইনের শাসনের প্রতি তার অবিচল প্রতিশ্রুতির প্রতিধ্বনি।

​প্রসিকিউটরের গুরুদায়িত্ব ও পবিত্রতা

​প্রসিকিউটর বা কৌঁসুলি রাষ্ট্রের পক্ষে অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। তাঁর ভূমিকা শুধু দোষী সাব্যস্ত করা নয়, বরং সত্যকে উদ্ঘাটন করা এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে তাজুল ইসলামের অবস্থান সেই পবিত্র প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন চরম নিরপেক্ষতা, সততা এবং নির্ভীকতা।

​যখন তিনি ঘোষণা করেন যে তাঁর প্রসিকিউশন 'পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের' বিনিময়েও বিক্রীত হবে না, তখন তিনি মূলত অর্থের প্রলোভন, ক্ষমতার চাপ এবং প্রভাবশালীদের হুমকি— এই তিন প্রধান দুর্নীতির উৎসকে প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেন। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর দায়িত্বকে পার্থিব যেকোনো মূল্যের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। তাঁর কাছে ন্যায়বিচারই হলো সর্বোচ্চ সম্পদ।

​আইনের শাসন বনাম অর্থের ক্ষমতা

​একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনের মূল কথা হলো— আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু যখন অর্থ বা ক্ষমতা আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন এই সমতা ভেঙে পড়ে। সমাজের প্রভাবশালী এবং বিত্তশালীরা প্রায়শই নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য বিচার বিভাগকে অর্থ, ভয় বা প্রভাব খাটিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করে।

​তাজুল ইসলামের এই উক্তি সেই কালো শক্তির বিরুদ্ধে এক নৈতিক প্রতিরোধ। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রসিকিউশন ব্যবস্থা কোনোভাবেই অর্থের কাছে মাথানত করবে না। যদি একজন প্রসিকিউটরকে কেনা যায়, তবে তা কেবল একটি মামলার পরাজয় নয়, বরং তা সমাজের দরিদ্র ও দুর্বল অংশের বিচার পাওয়ার অধিকারের উপর চরম আঘাত। এই ঘোষণাটি সাধারণ মানুষের মনে বিচার ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে আস্থা ও ভরসা জাগায়, যা আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।

​আপোসহীনতা: একজন আদর্শের জন্ম

​এই ধরনের আপোসহীনতা বিচার বিভাগের অন্যান্য সদস্য এবং নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ স্থাপন করে। এটি প্রমাণ করে যে, সততা ও নীতিকে অবলম্বন করে যেকোনো পরিস্থিতিতে ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সম্ভব।

​'পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ' বলতে কেবল টাকা-পয়সা বোঝানো হয়নি; এর মধ্যে রয়েছে লোভ, পদোন্নতির আশ্বাস, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক চাপ। এই সবকিছুকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে তাজুল ইসলাম দেখিয়েছেন যে, একজন প্রসিকিউটরের নৈতিক সাহসই হলো তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তাঁর এই দৃঢ়তা এক বার্তা দেয়— ন্যায়বিচার কোনো পণ্য নয়, যার ক্রয়-বিক্রয় চলতে পারে।

​উপসংহার: ন্যায়বিচারের মহৎ মূল্য

​মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের এই সাহসী উক্তিটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি নীতিগত মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির নৈতিক প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি একটি জাতিকে এই বার্তা দেয় যে, এখনও এমন মানুষ আছেন, যাঁরা ক্ষমতার লোভে কিংবা অর্থের মোহে নিজেদের নীতিকে বিসর্জন দেন না।

​যে সমাজে প্রসিকিউটররা এই ধরনের দৃঢ়তা প্রদর্শন করেন, সেই সমাজের গণতন্ত্র কেবল টেকসই হয় না, তা মজবুতও হয়। তাঁর এই ঘোষণা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ন্যায়বিচার পৃথিবীর যেকোনো সম্পদের চেয়ে মূল্যবান এবং এর পবিত্রতা রক্ষা করাই হলো একটি সভ্য সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।

আর তাই বাংলাদেশের সমস্ত জনগণ

আপনার সাথে আছে,

মহান আল্লাহ আপনার সহায় হোন -

আমীন ইয়া রব

---:---

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

২৩ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...