সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঝড় থামলে শকুন নামে

 "ঝড় থামলে শকুন নামে"

----:----

যখন আকাশ ভারী ছিল, বজ্রপাতের ভয় ছিল,

তখন এরা ছিল কোথায়?

আওয়ামী নেতার কাঁধে হাত রেখে হাসছিল,

ব্যবসা চলছিল নিরাপদে, ঘর ছিল অটুট।

আর যে মানুষটা এক যুগ দেশান্তরী - বাড়ি গেছে, সম্পদ গেছে, স্বজন গেছে,

হাজারো কবিতায়, গানে, নাটকে, গল্পে

সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল একা একা - আজ তার বিরুদ্ধে হাজারখানেক অভিযোগ জমা পড়েছে

নব্য বিএনপির দফতরে।

এটাই ইতিহাসের পুরনো নিষ্ঠুর রসিকতা।

যারা ঝড়ের রাতে গর্তে ছিল, তারাই রোদ উঠলে সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়ায়। যারা স্বৈরাচারের সাথে "গলায় গলায় খাতির" রেখে টিকে ছিল, তারাই আজ দলের "কর্ণধার"।

আর যে মানুষ সত্যিকারের মূল্য দিয়েছে - নির্বাসন, ক্ষতি, একাকীত্ব - তাকে আজ "দলবিরোধী" তকমা দেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্নটা সহজ কিন্তু জরুরি - ৫ আগস্টের আগে এই নব্য নেতাদের ভূমিকার হিসাব কে রাখছে?

কোথায় ছিল তখন তাদের সাহস? কোথায় ছিল তখন তাদের কলম? কোথায় ছিল তখন তাদের মঞ্চ?

একটা দলকে শেষ করতে বাইরের শত্রু লাগে না।

ভেতরের সুবিধাভোগীরাই যথেষ্ট।

যে দলে ত্যাগীকে সন্দেহ করা হয়,

আর সুযোগসন্ধানীকে পুরস্কার দেওয়া হয় - সে দলের পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বিএনপিকে যদি সত্যিই ভালোবাসো,

তাহলে আগে জিজ্ঞেস করো - - 

এই নব্য নেতারা দুর্দিনে কোথায় ছিল?

কারণ ক্ষমতার রোদে সবাই ফুল ফোটায়,

আসল পরীক্ষা হয় ঝড়ের রাতে।

- আমি দেশান্তরী হয়েছি, 

 কিন্তু বিক্রি হয়নি।

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০৮/০৪/২০২৬

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫