সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

​একটি শিক্ষিত স্বপ্নের অপমৃত্যু

 শিক্ষা আর ভদ্রতা যখন বখাটেপনার কাছে হেরে যায়, তখন জন্ম নেয় এমন এক বিষাদসিন্ধু। সোনাগাজীর এক শিক্ষিত মেয়ের জীবনের করুণ আর্তনাদ, যা আজ আমাদের বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রবাসে বসে এই খবরটি পাওয়ার পর কলম না ধরে পারলাম না..."

​একটি শিক্ষিত স্বপ্নের অপমৃত্যু: আমরা কি তবে এভাবেই হারবো?

​কলমে: মোহাম্মদ মিজান (কুয়েত থেকে)

​একটা সাজানো জীবনের ধ্বংসাবশেষ দেখতে কি খুব বেশি সময় লাগে? না, লাগে না। মাঝে মাঝে একটা ভুল সিদ্ধান্ত আর একটা পশুর মতো মানুষের সংস্পর্শ আস্ত একটা পরিবারকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

​মেয়েটি মাস্টার্স পাস। মার্জিত, শিক্ষিত এবং অসম্ভব ধৈর্যশীল। এলাকার মানুষ জানতো মেয়েটি তাদের মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের গর্ব। কিন্তু সেই গর্বের নীল পদ্মটি আজ সমাজ আর সংসারের আস্তাকুঁড়ে পড়ে কাঁদছে। দোষ ছিল একটাই—সে ভালোবেসে এক বখাটেকে "মানুষ" করতে চেয়েছিল।

​নিঃস্ব হওয়ার গল্প:

মেয়ের সুখের কথা ভেবে বৃদ্ধা মা আর মেয়ে মিলে জীবনের সবটুকু সঞ্চয় বিলিয়ে দিলেন। নিজেদের শরীরের সমস্ত সোনার গয়না বিক্রি করে সেই টাকা তুলে দিলেন স্বামীর হাতে—যেন সে বিদেশ গিয়ে অন্তত একটা আলোর মুখ দেখে। কিন্তু প্রবাস তাকে টানেনি, তাকে টেনেছে এলাকার নোংরা রাজনীতি আর মাদকের নেশা।

​নেতা হওয়ার নেশায় অন্ধ পিতা:

বিদেশের কাজ কামাই করে বারবার দেশে পালিয়ে আসা সেই বখাটে এখন নব্য "নেতা"। সারাদিন মিছিল-মিটিং আর নেশার আড্ডায় তার সময় কাটে। অথচ ঘরে ছয় বছরের কলিজার টুকরো মেয়েটা রোগে ধুঁকছে, তার চিকিৎসা করার টাকা নেই। যে স্ত্রী নিজের সবটুকু বিলিয়ে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিল, আজ তাকেই সহ্য করতে হচ্ছে পাওনাদারদের অকথ্য গালিগালাজ আর ভাইদের অপমান। প্রতিবাদ করলে কপালে জোটে খুনের হুমকি।

​বিবেকের মরণ:

শিক্ষিত মেয়েটি শেষ পর্যন্ত হার মানল। নিজের দুধের শিশুকে নিয়ে সে আজ নিখোঁজ। সে কি স্বেচ্ছায় গিয়েছে? না, তাকে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ নয়। সেই বখাটে স্বামী আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যে কান্নাকাটির নাটক করছে। শিক্ষিত শ্বশুরবাড়ির মান-সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে মেয়েটির ছবি আর তার সরকারি কর্মকর্তা বাবার ফোন নম্বর ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। সে একবারও ভাবেনি, এই একটা পোস্ট মেয়েটির জীবনকে চিরতরে অন্ধকারে ঠেলে দিল।

​আজকের প্রশ্ন:

একজন মাস্টার্স পাস করা মেয়ে আজ কেন এতটা অসহায়? রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট আর বখাটেদের ভয়ে কেন আজ একটি সুন্দর জীবনকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে? সমাজ কি শুধু এই নাটকটাই দেখবে, নাকি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে?

​আফসোস হয় সেই পরিবারের জন্য, যারা আজ শিক্ষিত হয়েও এক অশিক্ষিত বখাটের কাছে জিম্মি। আমাদের বোনদের এই আর্তনাদ কি কোনোদিন শেষ হবে না?

✍️ ​২২ /১২ /২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...