সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমার_মতো_সিন্ডিকেটের_কাছে_হেরে_গেল_একটি_স্বপ্ন

 #আমার_মতো_সিন্ডিকেটের_কাছে_হেরে_গেল_একটি_স্বপ্ন

৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি বিক্রি করা কি অপরাধ? বাংলাদেশে মনে হচ্ছে সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নবীন পাঞ্জাবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন, যিনি নবীন হাশেমি নামেও পরিচিত, সিন্ডিকেটের হুমকি ও চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থেকে ফেসবুকে লেখা তাঁর সেই কথাগুলো অনেকের বুকে বিঁধে গেছে — "সিংহের মতো বাঁচতে চাই, কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না।"
কে এই মানুষ, কী ছিল তাঁর স্বপ্ন?
তিনি একজন প্রবাসী। করোনার সময় দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল একটাই — ন্যায্য মূল্যে গ্রাহকের কাছে ভালো পণ্য পৌঁছে দেওয়া। তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, হিজড়া সম্প্রদায় এবং মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা মানুষেরা। সরবরাহকারীরাও কম দামে পণ্য দিতেন, ফলে মাত্র ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করা সম্ভব হতো। এটা শুধু ব্যবসা ছিল না। এটা ছিল একটা সামাজিক উদ্যোগ।
তাহলে সমস্যা কোথায়?
পাশের দোকান 'প্রিন্স'-এর মালিক মাইকেলসহ একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পুলিশ নিয়ে তাদের দোকান বন্ধ করে দেয় এবং ক্রেতাদেরও হয়রানি করে। সিন্ডিকেটের শর্ত ছিল — এই মার্কেটে ৪,৫০০ টাকার কমে পাঞ্জাবি এবং ১,৫০০ টাকার কমে পাজামা বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ সস্তায় পাঞ্জাবি পাক, এটা তাদের সহ্য হয়নি।
শুধু দোকান বন্ধ নয়, ফোন করে হুমকিও দেওয়া হয় — ভিডিও ডিলিট না করলে বাকি সব শোরুমও বন্ধ করে দেওয়া হবে।  মগবাজার দিয়ে আসার সময় তিনি এতটাই ভয়ে ছিলেন যে গাড়ির জানালার পর্দা নামিয়ে রেখেছিলেন।  (The Daily Campus)
এই পরিণতি কী বলে আমাদের?
একজন মানুষ প্রবাস ছেড়ে দেশে এলেন, সমাজের প্রান্তিক মানুষদের কর্মসংস্থান দিলেন, কম দামে পণ্য বিক্রি করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ালেন — আর তার পুরস্কার হলো হুমকি, দোকান বন্ধ এবং দেশত্যাগ।
তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার তাঁদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করে না, বরং বড় ব্যবসায়ীরাই সুবিধা পায়।
নবীন হাশেমির গল্পটা একা তাঁর না। এটা এই দেশের সেই প্রতিটি সৎ মানুষের গল্প, যারা সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু করতে চেয়েছেন এবং থেঁতলে গেছেন। সিন্ডিকেট জিতেছে, মানুষ হেরেছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভর করার চেষ্টা করে আমি হেরে গেছি ১২ বছর আগে, চাদাঁ দিতে অস্বীকার করায় ঘর বাড়ি সম্পদ হারিয়েছি-- দেশান্তরী হয়ে আছি এক যুগ ধরে ।
আমি আজও ফিরতে পারিনি ইনশাআল্লাহ, একদিন ফিরবেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন থাকে — সেই পরিস্থিতি কি আদৌ তৈরি হবে?
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২৫ /০৩ /২০২৬
#Daily_Sokaler_Somoy #Bvnews24 #The_Daily_Ittefaq

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...