সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২৪-এর বিপ্লব, বিএনপির ভবিষ্যৎ এবং গণআকাঙ্ক্ষার সমীকরণ

চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত শক্তি। তবে স্বৈরাচার পতনের পর দেশের অন্যতম প্রধান দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একাংশের আচরণ ও নতুন প্রজন্মের সাথে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্য গভীর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​১. জুলাই বিপ্লব এবং ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অবদান

​জুলাইয়ের রক্তাক্ত আন্দোলন কেবল একটি সাধারণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

​মূল চালিকাশক্তি: হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সাদিক কায়েম এবং নাহিদ ইসলামের মতো ছাত্রনেতারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

​রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি: এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে, দীর্ঘ কারাবাসের পর বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বহু নেতাকর্মী রাজনৈতিক নিপীড়ন থেকে মুক্ত হন।

​শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব: এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মূল অবদানকে খাটো করে দেখা বা এর পেছনের আত্মত্যাগকে ভুলে যাওয়া যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই মস্ত বড় ঐতিহাসিক ভুল।

​২. আদর্শিক বিচ্যুতি এবং তৃণমূলের শৃঙ্খলাহানি

​শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ছিল জাতীয়তাবাদ, সংযম ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় না থাকা ও হঠাৎ সুযোগ তৈরির কারণে দলের তৃণমূল ও কিছু সুবিধাবাদী নেতাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে:

​আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া: অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলের ওপর চড়াও হতো, কিংবা আজ উস্কানিমূলক বক্তব্যের জবাবে অরাজকতা ও হামলা চালানো হচ্ছে—তা প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো অপসংস্কৃতিকেই ফেরাতে সাহায্য করে।

​তারেক রহমানের প্রতি বার্তা: দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উচিত জিয়াউর রহমানের নীতিতে বিশ্বাসী নয় এমন স্বার্থপর, সুবিধাবাদী ও দখলদারিত্বে লিপ্ত নেতাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার করা। নেতৃত্ব সংস্কার না হলে জনগণের মাঝে বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অসম্ভব।

​৩. জনরোষ এবং ইতিহাসের শিক্ষা

​ইতিহাস প্রমাণ করে, সাধারণ জনগণ কোনো নির্দিষ্ট দলকে চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় বা শ্রদ্ধার জায়গায় দেখতে বাধ্য নয়।

​জুলাইয়ের বার্তা: ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ যে উস্কানি ও দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ।

​ভবিষ্যতের সতর্কতা: আজ যদি বিএনপিও একইভাবে ক্ষমতার দাপট দেখায়, বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করে এবং ছাত্র-জনতার অবদানকে অস্বীকার করে, তবে দেশের সচেতন নাগরিক ও ‘জেড জেনারেশন’ (Gen Z) পুনরায় বিদ্রোহী হতে দ্বিধা করবে না।

​৪. রাজনৈতিক উত্তরণের পথ ও উপসংহার

​বিএনপিকে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হলে এবং শহীদ জিয়ার প্রকৃত রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি:

​সহনশীলতা: প্রতিপক্ষের উস্কানিতে আইন হাতে না তুলে নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা।

​মূল্যায়ন: ২৪-এর বিপ্লবের ছাত্রনেতাদের অবদান স্বীকার করে তাদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।

​দলীয় শোধন: দখলবাজ ও সুবিধাবাদীদের দল থেকে ছেঁটে ফেলে দলের ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীদের সামনে নিয়ে আসা।

​সংগ্রামের পর দেশ পুনর্গঠনের এই সময়ে বিএনপি যদি নিজেদের সংশোধন না করে, তবে জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় জনতা যে কোনো ভুল আচরণের সঠিক জবাব রাজপথেই দেবে।

 আমি মনে করি আওয়ামী লীগ চায় বিএনপির নেতা কর্মীদের আচরণ আওয়ামী লীগের মতোই হোক,

আর জনগণ জুলাই বিপ্লবের মতো বিদ্রোহী হয়ে আওয়ামী লীগকে যেভাবে দেশ ছাড়া করেছে বিএনপিকে ও তাই করবে।

স্বার্থপর কিছু নেতাদের কারণে বিএনপি শহীদ জিয়াউর রহমানের ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে,

এটা বিএনপির জন্য শুভ লক্ষণ নয়— তারেক রহমানের উচিত এই নেতাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বহিষ্কার করা।

উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলেই কি আইন হাতে তুলে নেয়া উচিত?

গত ১৭ বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা কম উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে!

বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে রাজাকার পর্যন্ত বলেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বতল খোর বলেছে, তখন বিএনপির এই নেতা কর্মীদের তো টু শব্দ করতেও দেখিনি ।

আজকে বিএনপির কর্মীরা যাদের উপর হামলা করে, তাদের কারণেই স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে, ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফিরে, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সাদিক কায়েম সহ ২৪ এর জুলাই-যোদ্ধা ছাত্র জনতার অবদান অনস্বীকার্য এটা বিএনপিকে মাথায় রাখতে হবে।

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...