সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

কবিতা :- ন্যায়ের দাবি

 কবিতা :-  ন্যায়ের দাবি ----:----- মিলেমিশে একাকার- স্বৈরাচার আর তাঁবেদার- তবুও দোষীরা শুধু রাজাকার- কোথাও নেই স্বাধিকার অধিকার -  বৃথা গেল বুঝি রক্ত ঘাম বাপ দাদার! শুনো হে নব্য জমিদার-  এই দেশটা শুধুই জনতার-  সজাগ দেশপ্রেমিক পাহারাদার-  সাবধান থেকো সব চোর বাটপার-  তোমাদের রুখতে জুলাই হবে আবার।  ঘরে ঘরে বাংলার- জন্মেছে হাজার হাজার-  আবু সাঈদ হাদী আবরার- মুগ্ধ ইয়ামিন আসিফ আতিয়ার- অপেক্ষারত মুক্তির মিছিলে ফেরার। সংবিধান সংস্কার  দাবীটা কিন্তু পরিষ্কার  বন্ধ কর তালবাহানা দরবার পাশ করে জুলাই সনদ জনতার  তা নাহলে পথ পাবে না যে পালাবার।  ----:----- লেখক ✍️মোহাম্মদ মিজান  কুয়েত থেকে  ১৪ /০৪/২০২৬ 
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

কবিতা :- দায়মুক্তির_প্রতিলিপি

 (জুলাই বিপ্লবের সেই তপ্ত দিনগুলোর স্মৃতি আর বর্তমানের টানাপোড়েন নিয়ে তোমার জন্য একটি গদ্য কবিতা)  #​দায়মুক্তির_প্রতিলিপি ----:---- ​রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি রাজপথের পিচঢালা কালোয়, শরীরের ঘ্রাণ লেগে আছে শহীদি মিছিলে-- অথচ বাতাসের ভঙ্গি কি ভীষণ দ্রুত বদলে যায়! আমরা তো চেয়েছিলাম এক নতুন ভোরের ইশতেহার, যেখানে সুবিচারের পাল্লায় কোনো নামের ভার থাকবে না। ​শহীদের হাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে যখন ক্ষমতার পাশাখেলা চলে, যখন নেপালের খবর পড়ে আমাদের দীর্ঘশ্বাস দীর্ঘায়িত হয়- তখন মনে পড়ে সেই অগণিত চোখের কথা, যারা বুক পেতেছিল কেবল এক চিলতে স্বচ্ছতার আশায়। আমরা কি তবে সেই পুরোনো বৃত্তেই আটকে রইলাম? যেখানে ত্যাগের মহিমা ফিকে হয়ে আসে চেয়ারের লোভে, আর স্বজনপ্রীতির বিষবৃক্ষ ডালপালা মেলে বিপ্লবেরই আঙিনায়। ​বলেন্দ্রনাথের সাহস আমাদের মাটিতে হয়তো বিরল, কিন্তু লজ্জিত হওয়ার দায় তো কেবল আমজনতার নয়। রক্তের অক্ষরে লেখা সেই জুলাইয়ের শপথ ✊- সে কি কেবলই কিছু মানুষের গদিতে বসার সিঁড়ি ছিল? নাকি এক নির্মল রাষ্ট্রের স্বপ্ন, যেখানে আপোষ নেই, অন্যায় নেই। মনে রেখো ​বন্ধু, ইতিহাস বড় নির্মম সাক্ষী; বিপ্লবীদের আর্তনাদ যদি কারো কান...

ঝড় থামলে শকুন নামে

 "ঝড় থামলে শকুন নামে" ----:---- যখন আকাশ ভারী ছিল, বজ্রপাতের ভয় ছিল, তখন এরা ছিল কোথায়? আওয়ামী নেতার কাঁধে হাত রেখে হাসছিল, ব্যবসা চলছিল নিরাপদে, ঘর ছিল অটুট। আর যে মানুষটা এক যুগ দেশান্তরী - বাড়ি গেছে, সম্পদ গেছে, স্বজন গেছে, হাজারো কবিতায়, গানে, নাটকে, গল্পে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল একা একা - আজ তার বিরুদ্ধে হাজারখানেক অভিযোগ জমা পড়েছে নব্য বিএনপির দফতরে। এটাই ইতিহাসের পুরনো নিষ্ঠুর রসিকতা। যারা ঝড়ের রাতে গর্তে ছিল, তারাই রোদ উঠলে সবচেয়ে উঁচুতে দাঁড়ায়। যারা স্বৈরাচারের সাথে "গলায় গলায় খাতির" রেখে টিকে ছিল, তারাই আজ দলের "কর্ণধার"। আর যে মানুষ সত্যিকারের মূল্য দিয়েছে - নির্বাসন, ক্ষতি, একাকীত্ব - তাকে আজ "দলবিরোধী" তকমা দেওয়া হচ্ছে। প্রশ্নটা সহজ কিন্তু জরুরি - ৫ আগস্টের আগে এই নব্য নেতাদের ভূমিকার হিসাব কে রাখছে? কোথায় ছিল তখন তাদের সাহস? কোথায় ছিল তখন তাদের কলম? কোথায় ছিল তখন তাদের মঞ্চ? একটা দলকে শেষ করতে বাইরের শত্রু লাগে না। ভেতরের সুবিধাভোগীরাই যথেষ্ট। যে দলে ত্যাগীকে সন্দেহ করা হয়, আর সুযোগসন্ধানীকে পুরস্কার দেওয়া হয় ...

কবিতা - শৃঙ্খলিত জলপথ

 #শৃঙ্খলিত_জলপথ ------:---- ​মানচিত্রের কাঁটাতার কি তবে মিশে গেছে নোনা জলে? শতাব্দীর পুরনো সেই দাসত্ব কি আবার নতুন নামে পাহারা দিচ্ছে আমাদের সমুদ্রসীমা? আমরা ভেবেছিলাম রক্ত দিয়ে কেনা এই মাটি স্বাধীন, ভেবেছিলাম সার্বভৌমত্বের ঝান্ডা উড়বে দিক-বিদিক-- অথচ মেঘনার মোহনায় আজ অন্য কারো নির্দেশের অপেক্ষা। ​রাজার বদলে রাজা আসে, পতাকার রঙ হয়তো বদলায়, কিন্তু সুতোটা কি রয়ে গেছে সেই এক-ই আঙুলের ডগায়? যাদের আমরা বন্ধু বলি, তারা কি আড়ালে পালনকর্তা? যাদের আদেশ শিরোধার্য করে থমকে যায় আমাদের মাস্তুল, তাদের ইশারায় কি তবে নির্ধারিত হবে-- কোন বন্দরে ভিড়বে আমাদের স্বপ্নের জাহাজ? ​দূর দেশের শত্রু-মিত্রের সমীকরণ কষছে পাশের দেশ, আর সেই হিসেবের খাতায় কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে আমাদের অধিকার। মিত্রের 'মিত্র' যদি হয় কারো কাছে পরম আরাধ্য, তবে সেই ভক্তির মাশুল কি আমরাই দিয়ে যাবো আজীবন? অদৃশ্য শিকলে বন্দি আমাদের নোঙর, অসহায় নাবিক দেখে-- দিগন্ত জুড়ে কেবল আদেশের কালো ছায়া। ​যদি ঝড়ের মুখেও মাথা নত করতে হয় পরের দুয়ারে, তবে সেই স্বাধীনতার গান কি কেবলই অলীক কোনো সুর? বুকের ভেতর জমে থাকা আগ্নেয়গিরিই শুধু জানে-- দখল করা মাট...

কবিতা : শিয়ালের পাঠশালা

 শিয়ালের পাঠশালা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -০৭/০৪/২০২৬ -  শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা, শুটকির পাহারাদার বিড়াল, দেখো কুটনি-বুড়ি আবারো শাক দিয়ে মাছ করে আড়াল। চোরের কাছে চাবি গচ্ছিত ডাকাতের হাতে থানার ভার, মিষ্টি কথার আড়াল ঢেকে নেকড়েরা বসিয়েছে দরবার। কাকের হাতে ধানের গোলা ভিমরুলের কাছে ফুলের বাগান, যে যত বড় ফন্দিবাজ এখন  সেই পায় তত মান-সম্মান। বকধার্মিকের গলায় মালা চোখে তার ভক্তির ধারা, রাতের আঁধারে গণনা করে কতটুকু হলো পকেটে ভরা। যুগের পর যুগ এরীতি নীতিতেই   স্বাধীন এই দেশটা চলে আসছে, মাজলুমের চোখে ধুলো দিয়ে  জালিম রোদের আলোতে হাসছে। তবুও একদিন ভোর হবেই ধুয়ে যাবে মিথ্যার এই রঙ,  শিয়াল চিনবে সবাই তখন ভাঙবে তার পুরনো এই ঢং। শুধু সেই জুলাই বিপ্লবের মতো আবারো নামতে হবে রাস্তায়, আবু সাঈদ মুগ্ধ হাদীদের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না সস্তায়। প্রয়োজনে পিচঢালা রাজপথ আবারো রক্তে হবে লাল, ইয়ামিনের মতো রোজা রেখে হয়তো শহীদ হবো কাল। ----:----- কুয়েত থেকে

অন্দরের আয়না ও আগন্তুক

 অন্দরের আয়না ও আগন্তুক -----:----- ​দেয়ালেরও কান থাকে, এ কথা পুরনো-কিন্তু দেয়ালেরও যে চোখ থাকে, সে কথা আমরা ভুলে যাই। নিজের এক চিলতে উঠোন আর অন্দরের নোনা ধরা দেয়ালটুকু সযতনে ঢেকে রাখাই শ্রেয়। কারণ, সব উঁকিঝুঁকি কৌতূহল নয়, কিছু দৃষ্টি থাকে আগল ভাঙার নেশায় মত্ত। ​আপনার ঘরের প্রতিটি সুখের আলাপ, কিংবা ছোট কোনো প্রাপ্তি - যখন মাটির হাঁড়ির মতো বাইরে গড়াগড়ি খায়, তখন একদল মানুষ আসে মিঠে হাসির পসরা নিয়ে। সেই হাসির ঝিলিক সব সময় হৃদয়ের গভীর থেকে আসে কি?  ঠোঁটের কোণে ঝুলে থাকা সেই স্নিগ্ধতা আসলে এক ধরনের মুখোশ। ​সবাই আপনার ভালো চায় না--এই রূঢ় সত্যটুকু হজম করা শিখতে হয়। কিছু মানুষ আছে, যারা আপনার উন্নতির সিঁড়ি দেখে মুগ্ধতা দেখায় ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাদের দীর্ঘশ্বাসে মিশে থাকে তীব্র ঈর্ষার বিষ। তারা পাশে এসে বসে স্নেহের পরশ দেয়, অথচ সুযোগ পেলেই আপনার সাজানো বাগানে আগাছা বুনে দিয়ে যেতে ভুল করে না। ​তাই নিজের ঘরকে আগলে রাখুন গোপনীয়তার দুর্ভেদ্য চাদরে। আপনার আনন্দগুলো হোক নিভৃতবাসের সম্পদ। মনে রাখবেন, যে শিখা কাঁচের আবরণে ঢাকা থাকে, বাইরের দমকা হাওয়া তাকে নেভাতে পারে না। ​উন্মুক্ত উঠোনে...

যে বিপ্লবের দাবি নিয়ে এখন বিতর্ক একটি রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার গল্প:

  যে বিপ্লবের দাবি নিয়ে এখন বিতর্ক একটি রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার গল্প:-👇 ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ছাত্র-জনতার রক্তে লেখা সেই আন্দোলন শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু সেই বিপ্লবের "মালিকানা" নিয়ে এখন যে রাজনৈতিক খেলা চলছে, তা নতুন এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুটি বিপরীত বক্তব্য, একই দল তখন যা বলা হয়েছিল:- আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন - এই আন্দোলনের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ছাত্রদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। এখন যা দাবি করা হচ্ছে:- ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে - এই বিপ্লব আসলে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো - দুটো কথা একসঙ্গে সত্য হয় কীভাবে? কেন তখন দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর বুঝতে হলে সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফিরে যেতে হবে। ১. আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি আন্দোলন তখনও অনিশ্চিত। সরকার যদি দমন করতে সফল হতো, তাহলে বিএনপির সরাসরি সম্পৃক্ততা দলের জন্য ভয...