সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ঢাকা বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও ভাঙচুরে প্রবাসীর কান্না

 "দেশে এসেও এই অভিজ্ঞতা?— ঢাকা বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও ভাঙচুরে প্রবাসীর কান্না ​ঢাকা:- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (HSIA) আবারও প্রবাসীদের লাগেজ ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ নভেম্বর বিকেলে লাগেজ সংগ্রহের পর এক প্রবাসী তার সুটকেসের তালা ভাঙা এবং ভেতরের জিনিসপত্র খোয়া যাওয়া দেখে বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদেশে দীর্ঘ কষ্টের উপার্জনে কেনা জিনিসপত্র হারানোর এই অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ​ কষ্টের উপহার উধাও ​ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের জন্য জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিলেন। লাগেজ বেল্ট থেকে ব্যাগটি হাতে পাওয়ার পরই তিনি লক্ষ্য করেন তার সুটকেসের তালা ভাঙা এবং বহু মূল্যবান সামগ্রী উধাও। ​তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, "বিদেশে কষ্ট করে কাজ করি। পরিবারের জন্য কিছু নিয়ে আসি। কিন্তু দেশে আসার পর এমন অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।" ​এই ঘটনায় বিমানবন্দরের অন্য যাত্রীদের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রবাসীর কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ...

জাতীয় পতাকার রং ও রাজনৈতিক মঞ্চ - 👇 সম্মান ও বিতর্কের দোলাচল

 🇧🇩 জাতীয় পতাকার রং ও রাজনৈতিক মঞ্চ - 👇 সম্মান ও বিতর্কের দোলাচল ​জাতীয় পতাকা একটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে লাল-সবুজ রং আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, লক্ষ শহীদের রক্ত এবং সবুজ প্রকৃতির প্রতিনিধিত্ব করে—যা সকল নাগরিকের জন্য এক আবেগময় ঐক্যের ভিত্তি। এই রংগুলো কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং সমগ্র জাতির। ​আমার প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় পতাকার এই রং-এর মিশ্রণে রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করা কি ঠিক? এই বিষয়টি দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে। ​১. সম্মানের দৃষ্টিকোণ: ঐক্যের প্রকাশ ​জাতীয় পতাকার রং (লাল ও সবুজ) ব্যবহার করে মঞ্চ তৈরি করার পক্ষে যুক্তি হলো:👉 ​জাতীয়তাবাদের প্রতিফলন ও রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করতে পারে যে, তারা জাতীয় চেতনা ও দেশের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য রাজনীতি করে। মঞ্চে এই রং ব্যবহার করে তারা তাদের দেশপ্রেম এবং জাতীয় আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার তুলে ধরতে চায়। এটি জনমনে একটি ঐক্যবদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। ​আবেগ ও উদ্দীপনা লাল-সবুজ রং জনগণের মধ্যে দেশাত্মবোধক আবেগ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, যা যেকোনো বড় সমাবেশে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি কর...

আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে ভারতীয় পেঁয়াজ: ক্রেতারা ঝুঁকছেন পাকিস্তান ও চীনের দিকে

 🧅 আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে ভারতীয় পেঁয়াজ: ক্রেতারা ঝুঁকছেন পাকিস্তান ও চীনের দিকে ​একসময় আন্তর্জাতিক পেঁয়াজ বাজারে ভারত ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু সম্প্রতি সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। যে দুই দেশ ভারতের পেঁয়াজের প্রধানতম ক্রেতা ছিল— বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—তারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতার বাজার হাতছাড়া হওয়ার ফলে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখন এক ভয়াবহ মন্দার মুখে। ​ক্রেতা বদলের কারণ নির্ভরযোগ্যতার অভাব ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ​ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো বাংলাদেশ। তবে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা বলে বারবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এই একপেশে রাজনীতি অনির্দিষ্টতা ও নির্ভরযোগ্যতার অভাব বাংলাদেশের আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করেছে। ​অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাজার সৌদি আরবও আমদানি কমিয়েছে। এই দুই দেশই এখন অপেক্ষাকৃত কম দামে এবং নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা নিয়ে আসা পাকিস্তান ও চীনের পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকছে। ​বাংলা...

সর্বস্ব হারিয়ে সখিনা এখন সোনাগাছি পতিতা পল্লীতে👇

 ​💔 সর্বস্ব হারিয়ে সখিনা এখন সোনাগাছি পতিতা পল্লীতে👇 ​একসময় সখিনার জীবন ছিল উপচে পড়া সুখ আর প্রাচুর্যের প্রতিচ্ছবি। তার স্বামী বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাঠাতেন, আর সেই টাকায় সখিনা গয়না, দামি শাড়ি আর বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। গ্রামের মধ্যে তাদের বাড়িটি ছিল সবচেয়ে ঝলমলে। সখিনা তার সম্পদ নিয়ে ভীষণ অহংকারী ছিলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামান্য মেলামেশাও করতেন না। তার জুলুম অত্যাচারে গ্রামের প্রতিবেশী থেকে শুরু করে, ফকির পর্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। ​কিন্তু আত্ম অহংকারী সখিনার সুখের সে দিন বেশিদিন স্থায়ী হলো না। সখিনার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বিদেশেই মারা গেলেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে তার দেবরদের সঙ্গে শুরু হলো মামলা-মোকদ্দমা। ও হেলমেট বাহিনী ব্যবহার কর। একদিকে যেমন হেলমেট বাহিনীর হাত খরচ আর মামলায় জলের মতো টাকা খরচ হতে থাকল, অন্যদিকে সখিনার নিজের হাতেও অর্থ ধরে রাখার অভ্যাস ছিল না। তিনি তখনও তার পুরোনো জাঁকজমক বজায় রাখতে গিয়ে হাতে থাকা শেষ পুঁজিও অকারণে খরচ করে ফেললেন। ​মামলার রায় সখিনার বিপক্ষে গেল। রাতারাতি তিনি তার বাড়ি, জমি, এবং স্বামীর সঞ্চিত সব ...

আপসহীন নেত্রী’র অশ্রুসজল প্রতিচ্ছবি:

 💔 ‘আপসহীন নেত্রী’র অশ্রুসজল প্রতিচ্ছবি: এক দীর্ঘ রাজনৈতিক বন্দিদশা থেকে মুক্তির পর ​প্রিয় মানুষটির মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে এক নীরব কথোপকথন হয়েছে আমার। তিনি মুখে কোনো কথা বলেননি , কিন্তু আমার চোখ আর হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা সব অনুভূতি দিয়ে আমি বলেছি.. শুনেছি প্রিয় মানুষের না বলা আত্মচিৎকার। কত সময় পেরিয়েছে জানি না,    তবে চোখের কোণে ঝমে থাল জল গড়াতে শুরু করলেই সংবিৎ ফিরে আসে, আর সেই মুহূর্তে মনে হয়, এই জল শুধু ব্যক্তিগত কষ্টের নয়, এই জল একটি জাতির রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অবিচার দেখার যন্ত্রণা। ​দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজ যেন এক ভিন্ন, মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। যে নেত্রী একসময় রাজপথ কাঁপিয়েছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, আজ তিনিই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কার্যত গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।  বন্দি জীবনের কঠিন সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আকুতি বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। স্বৈরশাসকের পক্ষ থেকে দণ্ডাদেশ স্থগিত করে সাময়িক মুক্তির যে সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার আইনি শর্ত...

বহুবিবাহ আল্লাহর বিধান

 বহু বিবাহ ✍️ মোহাম্মদ মিজান :- তুলি আপা ভুলি গেছে খোদা'তালার বিধান, ভুলি গেছে তুলি আপা সে মুসলমানের সন্তান । বহু বিবাহে আপত্তি তার ভাইরাল হবার নেশায়, মনে হয় মহিলাটা নামছে নতুন কোনো পেশায়! মুখে মুখে মদিনার সনদ মনে মনে নাস্তিক, অনৈতিক কর্ম কান্ড দিয়ে লাভবান আর্থিক।  মুসলিম বিদ্বেষী তসলিমা সমর্থন করে যারে, মনে রেখো বাংলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করে তারে। লোভ লালসা ত্যাগ করে মান ধর্মের বিধান, মহা গন্থ আল কুরআনেই আছে সব সমাধান । -----:---- কুয়েত থেকে ১৫ /১১/২০২৫ 

আমি স্বপ্ন দেখি

 গান :আমি স্বপ্ন দেখি  লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  ----:---- আমি স্বপ্ন দেখি ছাত্র-দলের কর্মীরা ঐ ছাত্র শিবিরের চেয়ে ও ধার্মিক, আমি স্বপ্ন দেখি মহিলাদলের নেত্রীরা বোরখা হেজাব পর্দা করে অধিক,  আমি স্বপ্ন দেখি বিএনপির নেতারাও মসজিদে ইমামতি করে দৈনিক। আমি স্বপ্ন দেখি  ঘুস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ মুক্ত  হয়েছে আমার প্রিয় এই বাংলাদেশ, আমি স্বপ্ন দেখি কোট কাছারী আইন আদালতে আজ ন্যায় ইনসাফের হচ্ছে আদেশ। আমি আরো স্বপ্ন দেখি--  প্রিয় বিএনপির নেতা কর্মী সমর্থকেরা জামায়াত শিবিরের মতো রিপোর্ট রাখছে মাসিক।। আমি স্বপ্ন দেখি ছাত্র-দলের কর্মীরা ঐ ছাত্র শিবিরের চেয়ে ও ধার্মিক, আমি স্বপ্ন দেখি মহিলাদলের নেত্রীরা বোরখা হেজাব পর্দা করে অধিক,  আমি স্বপ্ন দেখি বিএনপির নেতারাও মসজিদে ইমামতি করে দৈনিক।  আমি স্বপ্ন দেখি সব রাজনৈতিক দল  দাঁড়িয়েছে মজলুমের পাশে,  আমি স্বপ্ন দেখি দুঃখিনী মায়ের দুধের শিশু  পেট'ভরে খায় মুখ'ভরে হাসে। আমি স্বপ্ন দেখি  হিন্দু মুসলিম জাত গত্র ভেদাভেদ হীন  সকলের এই এক দেশ।।  আমি স্বপ্ন দেখি  ঘুস, দুর্নীতি, চাঁদাবা...

দাম বাড়লে আর কমে না

 🥔 দাম বাড়লে আর কমে না: বাংলাদেশের বাজারে এক 'দুর্ভেদ্য' অর্থনীতির গল্প! 📈 ​আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সিঙারা, পরোটা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দামের ওঠানামা একটি সাধারণ ঘটনা। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারের একটি চিরন্তন সত্য হলো: এখানে একবার কোনো কিছুর দাম বাড়লে, তা আর কমার নামও নেয় না! ​যদি বলি সিঙারা ও পরোটার উদাহরণটি এই পরিস্থিতির যেন এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। যখন ১ কেজি আলুর দাম কিছুটা বাড়ে, তখন বিক্রেতারা আলুর দাম বাড়ার অজুহাতে ৫ টাকার সিঙারাকে মুহূর্তে ১০ টাকা করে দেয়। একইভাবে, ময়দার সামান্য দাম বাড়ায় ৫ টাকার পরোটা হয়ে যায় ১০ টাকা। যদিও আলু এখন ৫ কেজি ১০০ টাকা মাত্র।  ​📉 দাম কমার 'অদৃশ্য জাদু' ​এরপর বাজারে আলুর দাম স্বাভাবিক হয়, ময়দার দাম কমে, এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও পড়ে যায়। কিন্তু সেই 'নতুন' দামের সঙ্গে সিঙারা বা পরোটার দামের কোনো সম্পর্ক থাকে না। ​যা ঘটে তা হলো: ​দাম স্থির: সিঙারা বা পরোটার দাম ১০ টাকাই থেকে যায়। ​পণ্যের আকার হ্রাস: দাম না কমিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের আকার বা পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়। ১০ টাকার সিঙারা পরোটা হয়তো আকারে ছোট হয়...

ছোট্ট গল্প : দুটো চায়ের কাপ

 ছোট গল্প ​👨‍👦 "দুটো চায়ের কাপ" ☕ ​গৌতম আর তার একমাত্র ছেলে অর্ণবের সম্পর্কটা ছিল দু'টো সমান্তরাল রেখার মতো—একে অপরের খুব কাছাকাছি, কিন্তু কখনোই সেভাবে মিলিত না হওয়া। ভালোবাসা ছিল, গভীর শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু সেই পরিচিত 'আমি তোমাকে ভালোবাসি, বাবা' বা 'ভালো আছি, বাবা' গোছের কথাবার্তা তাদের মধ্যে ছিল না। তাদের প্রকাশের ভাষা ছিল কাজ। ​অর্ণব সদ্য তার ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে একটি ভালো কোম্পানিতে যোগ দিয়েছে। সকাল সাতটার ট্রেন ধরতে হয় তাকে। ​প্রতিদিন সকালে, ঠিক ৬টা ১৫ মিনিটে, অর্ণব যখন ঘুম থেকে উঠে নিজের ঘরে ঢুকত, দেখত তার পড়ার টেবিলে একটি স্টিলের ফ্লাস্ক রাখা। ফ্লাস্কের ঢাকনাটা সাবধানে খোলা, যাতে গরম চা থেকে হালকা ধোঁয়া বের হতে পারে। পাশে থাকত খবরের কাগজটা ভাঁজ করা। গৌতমবাবুকে সে কখনোই চা রাখতে দেখত না। তিনি হয়তো তার আগেই স্নানে বা মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে যেতেন। ​অর্ণবও কোনোদিন জিজ্ঞেস করেনি, "বাবা, এত সকালে উঠে চা কেন করো?" বা "ধন্যবাদ, বাবা।" সে নিঃশব্দে ফ্লাস্কের চা-টুকু ঢেলে খেত আর কাজে বেরিয়ে পড়ত। ​গৌতমবাবু ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। ত...

নীতির কষ্টিপাথরে গাজী ও শহীদ: এক কঠিন জিজ্ঞাসা

 🔥 নীতির কষ্টিপাথরে গাজী ও শহীদ: এক কঠিন জিজ্ঞাসা ​মানবতার ইতিহাসে 'শহীদ' এবং 'গাজী'—এই দুটি শব্দ ত্যাগ, বীরত্ব ও আত্মোৎসর্গের প্রতীক হিসেবে চিরভাস্বর। তাঁরা দেশের জন্য, ধর্মের জন্য অথবা মহৎ কোনো আদর্শের জন্য জীবন বাজী রেখেছিলেন। কিন্তু ইসলামি দর্শন ও নৈতিকতার গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, শুধুমাত্র কাজের বাহ্যিক রূপই শেষ কথা নয়, বরং এর ভেতরের উদ্দেশ্য এবং সারা জীবনের নীতিই চূড়ান্ত বিচার নির্ধারণ করে। ​১. 💔 উদ্দেশ্য যখন কলুষিত: শহীদও কেন জাহান্নামে? ​সাধারণ দৃষ্টিতে যারা শাহাদাৎ বরণ করেছেন, তাদের স্থান জান্নাতে। কিন্তু হাদিস শরিফে এমন সতর্কবাণীও এসেছে, যা আমাদের ভাবায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর একটি বিখ্যাত হাদিসের মর্মার্থ হলো, কিয়ামতের দিন প্রথম যে তিন শ্রেণির মানুষের বিচার হবে, তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি থাকবে, যে শহীদ হয়েছে, কিন্তু তার নিয়ত বা উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কাছে বীর হিসেবে পরিচিত হওয়া বা বাহবা কুড়ানো। ​নীতিহীনতার প্রধান প্রকাশ: এক্ষেত্রে নীতিহীনতা হলো—আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে মানুষের প্রশংসা কামনা করা। ​ফলাফল: আল্লাহর কাছে তার এই শাহাদাৎ কোনো মর্যাদা পাবে ...

বিসমিল্লাহ এর উপর প্রস্রাব

  ​✊ প্রতিবাদের ভাষা: ফেনী-১ আসনে জনরায় ও অপমানের ন্যাক্কারজনক চিত্র ​বক্তব্য: বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কোনো প্রচার-প্রচারণা না হলেও রেকর্ড ব্যবধানে তাঁর জয় সুনিশ্চিত, ইন শা আল্লাহ। কিন্তু এই সুনিশ্চিত জনরায়ের প্রতি যে নির্লজ্জ অপমান করা হয়েছে, তা দেশের রাজনীতিতে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ​১. নীরবতার শক্তি, জনসমর্থনের ভিত্তি ​ফেনী-১ আসনটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এটি প্রমাণিত সত্য যে এই আসনে তাঁর বিজয় কোনো প্রচারণার ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তা তাঁর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা, ভালোবাসা এবং সমর্থন-এর বহিঃপ্রকাশ। একজন কারাবন্দী নেত্রী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সামনে অনুপস্থিত, তাঁর নামেই যদি ভোটের ফলাফল নির্ধারিত হয়, তবে এটিই প্রমাণ করে – জনগণ কাকে তাদের নেত্রী হিসেবে দেখতে চায়। এই নীরব সমর্থনই হলো গণতন্ত্রের আসল শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, প্রচারণার অভাব সত্ত্বেও তাঁর বিজয় হবে ঐতিহাসিক ব্যবধানে। ​২. ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি চরম অবমাননা ​কিন্তু সম্প্রতি যে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে, তা কেবল একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানারের ওপর আক্রমণ নয়, বরং দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর চরম আঘ...

মনোনয়ন বঞ্চিতদের ক্ষোভ

🚨 মনোনয়নের ক্ষোভ: সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধ, রাজনীতিতে অশনি সংকেত? ​চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাটি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির একটি চিরায়ত চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লায়ন আসলাম চৌধুরীর সমর্থিত নেতাকর্মীদের এই প্রতিবাদী পদক্ষেপ একদিকে যেমন তাঁদের নেতার প্রতি আনুগত্য এবং মনোনয়ন না পাওয়ার গভীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে তেমনি এটি জনভোগান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া এই আন্দোলন বার্তা দিচ্ছে যে, দলীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সাহস ও শক্তি তৃণমূলের কাছেও মজুত আছে। ​🛣️ সীতাকুণ্ডের ঘটনার তাৎপর্য ​এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় প্রতিবাদ নয়, এর গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে: ​সংগঠনের দুর্বলতা: এটি ইঙ্গিত দেয় যে, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হয়তো তৃণমূলের প্রত্যাশা ও আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের হিসেব ঠিকঠাক করতে পারেনি। ​নেতার প্রভাব: লায়ন আসলাম চৌধুরীর সমর্থকদের এমন অবরোধ প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট নেতার নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি এবং অনুসারীদের ওপর তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ​ভোটে প্রভাবের আশঙ্কা: ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা য...

নোংরা প্রচ্ছদ আর যৌনতার খুনসুটি না থাকলে যত ভালো লেখাই হোক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা

  ​🎨 সাহিত্যের জনপ্রিয়তা: প্রচ্ছদ ও যৌনতার 'বাস্তবতা' ​মানুষের রুচি, সাহিত্য এবং বাজার—এই তিনের জটিল সমীকরণের ফল হলো জনপ্রিয়তা। আমার উত্থাপিত মন্তব্যটি আজকের প্রকাশনা জগতের এক নির্মম সত্যের দিকে ইঙ্গিত করে: "নোংরা প্রচ্ছদ আর যৌনতার খুনসুটি না থাকলে যত ভালো লেখাই হোক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা।" এই প্রবন্ধে আমি আলোচনা করব, কেন এমন ধারণা তৈরি হয়েছে এবং এই 'বাস্তবতা' সাহিত্যের মূল্যায়নে কতটা প্রভাব ফেলে। ​১. 👀 প্রথম দর্শন: প্রচ্ছদ একটি বিজ্ঞাপন ​একটি বইয়ের প্রচ্ছদ হলো তার নীরব বিক্রেতা (Silent Salesperson)। বইয়ের দোকানে পাঠকের প্রথম আকর্ষণ তৈরি হয় প্রচ্ছদ দেখেই। ​দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল: প্রকাশকরা জানেন, জনাকীর্ণ বইয়ের মেলা বা দোকানে পাঠকের চোখকে মুহূর্তের মধ্যে আটকে দেওয়ার জন্য প্রচ্ছদ একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। অনেক সময় গল্পের গভীরতা বা লেখকের নামের চেয়েও উত্তেজক, রহস্যময় বা বিতর্কিত একটি প্রচ্ছদ বেশি কাজ করে। ​তাৎক্ষণিক চটক: যখন কোনো প্রচ্ছদে প্রথাগত শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা হয় বা কোনো নোংরা ইঙ্গিত থাকে, তখন তা কৌতূহলী পাঠকের মনোযোগ ...

জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক: 'ফাঁসির ফল' ও রাজনৈতিক ভাষা পরিবর্তন

​"এতোদিন জামায়াতকে ব্যবহার করে এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে বিএনপি। ফাঁসিতে ঝুলেছে জামায়াত নেতারা আর ফল ভোগ করছে বিএনপি।" ​এই উক্তিটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণধর্মী আলোচনার জন্ম দেয়। নিচে এ বিষয়ে একটি প্রবন্ধ রচনা করা হলো: ​🇧🇩 জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক: 'ফাঁসির ফল' ও রাজনৈতিক ভাষা পরিবর্তন ​ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের আলোচ্য উক্তিটি বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতির একটি জটিল ও স্পর্শকাতর দিককে উন্মোচিত করে। তার এই বক্তব্যটি কেবল দুটি রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে না, বরং জোট রাজনীতিতে আদর্শিক আপস, ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কেও গভীর ইঙ্গিত বহন করে। ​১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: জোট ও কৌশলগত ব্যবহার ​বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক গাঁটবন্ধন শুরু হয় মূলত ১৯৯৯ সালে চারদলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে। এই জোটের মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানো। জামায়াত তার সাংগঠনিক শক্তি এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক দিয়ে বিএনপিকে শক্তিশালী করেছিল। এই সময়কালে, বিএ...