সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

রক্তের দায় ও আমাদের বিচারহীনতার শঙ্কা

 শিরোনাম: রক্তের দায় ও আমাদের বিচারহীনতার শঙ্কা ​বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে! ​জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গাইতে হয়। ছাত্র-জনতার সেই রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান কোনো সাধারণ ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল এক দীর্ঘস্থায়ী অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই। কিন্তু আজ যখন আমরা ওসমান হাদীর মতো বিপ্লবীদের বিচার নিয়ে কথা বলি, তখন এক অজানা আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করে। ​আমরা কি তবে আবারও সেই পুরোনো বৃত্তে আটকে যাচ্ছি? ​সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আজ আমাদের বিচারব্যবস্থার জন্য এক চরম উপহাসে পরিণত হয়েছে। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য আজও অন্ধকারেই রয়ে গেল। ওসমান হাদীর রক্তে ভেজা এই নতুন বাংলাদেশে যদি আবারও সেই 'সাগর-রুনি' স্টাইলের দীর্ঘসূত্রতা ফিরে আসে, তবে তা হবে শহীদদের আত্মার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। ​কেন এই বিচার জরুরি? ১. বিপ্লবের স্পিরিট রক্ষা: ওসমান হাদীরা রাজপথে জীবন দিয়েছিল একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রের আশায়। তাদের বিচার না হওয়া মানে সেই স্বপ্নের অপমৃত্যু। ২. আস্থার সংকট দূর করা: যদি জুলাইয়ের বীরদের খুন...

​একটি শিক্ষিত স্বপ্নের অপমৃত্যু

 শিক্ষা আর ভদ্রতা যখন বখাটেপনার কাছে হেরে যায়, তখন জন্ম নেয় এমন এক বিষাদসিন্ধু। সোনাগাজীর এক শিক্ষিত মেয়ের জীবনের করুণ আর্তনাদ, যা আজ আমাদের বিবেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। প্রবাসে বসে এই খবরটি পাওয়ার পর কলম না ধরে পারলাম না..." ​একটি শিক্ষিত স্বপ্নের অপমৃত্যু: আমরা কি তবে এভাবেই হারবো? ​কলমে: মোহাম্মদ মিজান (কুয়েত থেকে) ​একটা সাজানো জীবনের ধ্বংসাবশেষ দেখতে কি খুব বেশি সময় লাগে? না, লাগে না। মাঝে মাঝে একটা ভুল সিদ্ধান্ত আর একটা পশুর মতো মানুষের সংস্পর্শ আস্ত একটা পরিবারকে জীবন্ত কবর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ​মেয়েটি মাস্টার্স পাস। মার্জিত, শিক্ষিত এবং অসম্ভব ধৈর্যশীল। এলাকার মানুষ জানতো মেয়েটি তাদের মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের গর্ব। কিন্তু সেই গর্বের নীল পদ্মটি আজ সমাজ আর সংসারের আস্তাকুঁড়ে পড়ে কাঁদছে। দোষ ছিল একটাই—সে ভালোবেসে এক বখাটেকে "মানুষ" করতে চেয়েছিল। ​নিঃস্ব হওয়ার গল্প: মেয়ের সুখের কথা ভেবে বৃদ্ধা মা আর মেয়ে মিলে জীবনের সবটুকু সঞ্চয় বিলিয়ে দিলেন। নিজেদের শরীরের সমস্ত সোনার গয়না বিক্রি করে সেই টাকা তুলে দিলেন স্বামীর হাতে—যেন সে বিদেশ গিয়ে অন্তত একটা আলোর মুখ দেখে। কিন্ত...

একটি নীল পদ্মের অপমৃত্যু

 একটি নীল পদ্মের অপমৃত্যু — মোহাম্মদ মিজান (কুয়েত থেকে) ​মেয়েটার নাম ছিল নীলা (ছদ্মনাম)। মাস্টার্স শেষ করা একটা মার্জিত মেয়ে। সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নে তাদের পরিবারের একটা বিশেষ সুনাম ছিল। সরকারি কর্মকর্তা বাবার আদরের মেয়েটি যখন স্থানীয় স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করল, সবাই ভেবেছিল ওর জীবনটা হবে বসন্তের মতো। কিন্তু সেই জীবনে কালবৈশাখী হয়ে এলো আকাশ। ​অন্ধ ভালোবাসার চরম মূল্য: ভদ্র ঘরের শিক্ষিত মেয়েরা অনেক সময় বখাটে ছেলেদের "পরিবর্তন করার" এক অদ্ভুত মায়ায় পড়ে। নীলাও ভেবেছিল তার ভালোবাসা দিয়ে সে আকাশকে ভালো করবে। আকাশ নামের সেই মাদকসেবী বখাটে যুবককে সুস্থ ধারার জীবনে ফেরাতে নীলা আর তার মা নিজেদের জীবনের সবটুকু বিলিয়ে দিলেন। মা আর মেয়ের সমস্ত সোনার গয়না বিক্রি করে সেই টাকা তুলে দিলেন আকাশের হাতে— যাতে সে বিদেশ গিয়ে একটা কাজ করে মানুষ হতে পারে। ​বিদেশের হাতছানি বনাম রাজনীতির নেশা: কিন্তু যার রক্তে মিশে আছে চাঁদাবাজি আর নেশার অন্ধকার, তাকে কি কোনো দেশ বদলাতে পারে? আকাশ বিদেশ গিয়েও মন টেকেনি। কাউকে কিছু না বলে, কাজের মায়া ছেড়ে সে বারবার দেশে পালিয়ে আসত। গত ৫ই আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের প...

গল্প মরীচিকার পেছনে এক জীবন

 গল্প : মরীচিকার পেছনে এক জীবন-:​নীলার বাবা যখন সরকারি কর্মকর্তার পদ থেকে অবসরে যান, তখন পুরো সোনাগাজী এলাকায় তাদের পরিবারের একটা আলাদা সম্মান ছিল। সেই সম্মানের মুকুটে উজ্জ্বল পালক ছিল নীলা। মাস্টার্স পাস করা নম্র, শান্ত মেয়েটি যখন স্থানীয় স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করল, সবাই ভেবেছিল ওর ভবিষ্যৎ হবে আলোয় ঘেরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে নীলার পরিচয় হলো আকাশের সাথে। এলাকার বখাটে হিসেবে যার পরিচিতি থাকলেও, সে সময় সে নিজেকে বদলে ফেলার এক নিখুঁত অভিনয় করেছিল। ​মিথ্যে আশার বিদেশ বিভুঁই ​বিয়ের পর নীলা ও তার মা ভেবেছিলেন, আকাশকে ভালো পথে আনার একটাই উপায়—তাকে দেশের বাইরে পাঠানো। "মানুষ দূরে গেলে হয়তো সংসারের টান বুঝবে"—এই আশায় মা-মেয়ে নিজেদের জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিলিয়ে দিলেন। নীলার গয়না, তার মায়ের জমানো অলঙ্কার—সব বিক্রি করে আকাশকে বিদেশে পাঠানো হলো। কিন্তু নেশা আর অসাধু রাজনীতি যার রক্তে, তাকে কি আর মরুভূমির তপ্ত হাওয়া ভালো করতে পারে? ​কাউকে কিছু না বলে, কাজের মায়া ত্যাগ করে আকাশ বারবার দেশে ফিরে আসত। তার মাথায় তখন চাদাবাজি আর তথাকথিত "নেতা" হওয়ার ভূত। ৫ই আগস্টের পর যখন রাজনৈ...

ম্যাকডোনাল্ডস ভক্তরা শক্ত করে বসেন, কি খেয়েছেন এতদিন ভালো করে দেখেন।

 ম্যাকডোনাল্ডস ভক্তরা শক্ত করে বসেন, কি খেয়েছেন এতদিন ভালো করে দেখেন। 🍔 ম্যাকডোনাল্ডস: খাদ্যের মান বনাম বিষক্রিয়ার অভিযোগ 🤢 ​প্রিয় পাঠক, ​মোহাম্মদ মিজান সাহেব কুয়েত থেকে যে বার্তাটি দিয়েছেন, তা আজকের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে: "ম্যাকডোনাল্ডের ভক্তরা শক্ত করে বসেন, কী খেয়েছেন এতদিন ভালো করে দেখেন।" বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় এই ফাস্ট-ফুড চেইন, যার কোটি কোটি ভক্ত, তাদের খাবারে কি সত্যিই বিষক্রিয়া বা স্বাস্থ্যের জন্য অনুপযোগী উপাদান থাকে? এই প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত। ​ম্যাকডোনাল্ডস (McDonald's) একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, যা তাদের দ্রুত পরিষেবা এবং তুলনামূলকভাবে কম দামে খাবারের জন্য পরিচিত। তবে এর জনপ্রিয়তার আড়ালে খাদ্যের মান, পুষ্টিগুণ এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ​১. 🍟 উচ্চ প্রক্রিয়াজাতকরণ (Highly Processed Food) ​ম্যাকডোনাল্ডসের খাবারগুলি, বিশেষত তাদের বার্গার প্যাটি, চিকেন নাগেট এবং ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সাধারণত উচ্চ প্রক্রিয়াজাত (highly processed) হয়ে থাকে। ​সংরক্ষক ও কৃত্রিম উপাদান: এই খাবারগুলিকে দীর্ঘদিন ধরে ত...

প্রবাসীর লাগেজ

  ​প্রবাসীর লাগেজ: ঘামের বিনিময়ে কেনা স্বপ্নের সিন্দুক, শুধু ব্যাগ নয়... ​প্রবাসীর লাগেজ—এই কয়েকটি শব্দে কেবল চামড়া বা কাপড়ের তৈরি একটি ভ্রমণ-উপকরণ বোঝায় না। এটি আসলে একজন প্রবাসীর হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি, যেখানে বছরের পর বছর ধরে জমানো ত্যাগ, ধৈর্য আর নিঃশব্দ কান্নার ইতিহাস সংরক্ষিত থাকে। ​দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার-পরিজন থেকে বহুদূরে, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার মাঝে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যে মানুষটি মাসের পর মাস টাকা জমায়, সেই টাকা দিয়েই কেনা হয় লাগেজের ভেতরের প্রতিটা জিনিস। এই লাগেজ যখন দেশে ফিরে, তখন এর ওজন পরিমাপ করা হয় কেবল কিলোগ্রামে কিন্তু একজন প্রবাসী এর পরিমাপ করে এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা হাজারো আশা ও স্বপ্নের ভারে। ​আবেগ ও ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি ​প্রবাসীর লাগেজের ভেতরের জিনিসগুলো কেবল বস্তু নয়, এগুলি হলো ​মায়ের হাসি: লাগেজের এক কোণে রাখা সামান্য কিছু ওষুধ বা শাড়ি, যা কেবল মায়ের সুস্থতা আর মুখের হাসির জন্য আনা। ​আর বাবার জন্য কেনা একটা পাঞ্জাবি বা চশমা, যার বিনিময়ে প্রবাসী চায় শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া সেই চিরায়ত দোয়া। প্রতিটি প্রবাসীর ​স্ত্রীর অপেক্ষা, স্ত্রীর জন্য আনা ...

বিবেকহীন শিক্ষক

বিবেকহীন শিক্ষক লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান ----০৪ /১২ /২০২৫ - - -  অল্প টাকার চাকরি ছাড়িয়া করিস না কেন অন্য ধান্দা!  তোদের বদলে শিক্ষক হতে দেশে আছে অনেক বান্দা। ছাত্র ছাত্রীর পরিক্ষার সময়  নামলি তোরা আন্দোলনে,  তোরা কেমন শিক্ষক  বুঝেছে অভিবা'বক  ধ্বংস যে ভবিষ্যত তোদের কারণে। ছাত্র ছাত্রীর পরিক্ষার সময়  নামলি তোরা আন্দোলনে, অল্প টাকার চাকরি ছাড়িয়া করিস না কেন অন্য ধান্দা!  তোদের বদলে শিক্ষক হতে দেশে আছে অনেক বান্দা। ছাত্র ছাত্রীর পরিক্ষার সময়  নামলি তোরা আন্দোলনে,  তোরা কেমন শিক্ষক  বুঝেছে অভিবা'বক  ধ্বংস যে ভবিষ্যত তোদের কারণে। স্কুলে তো মোটেও পড়াও না  করো যে টিউশনি বানিজ্য, অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীর অভিবাবক  হারাচ্ছে আজ সবাই ধৈর্য্য। শিক্ষকতা আর সেবা দাতা বেছা যায় না কোনো দামে, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড  করলি তোরা লন্ডভন্ড  তোদের নিজের স্বার্থে  আন্দোলনের নামে।  শিক্ষকতা আর সেবা দাতা বেছা যায় না কোনো দামে, ছাত্র ছাত্রীর পরিক্ষার সময়  নামলি তোরা আন্দোলনে,  তোরা কেমন শিক্ষক  বুঝেছে অভিবা'বক...

কবিতা / অমানবিক আচরণ

 অমানবিক আচরণ  লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  --০৩ /১২/২০২৫ - -  কুকুর মারলে জেলে যেতে হয় হারাতেও হয় চাকরি,  হোকনা যতোই বড় অফিসার  অমানুষ নয় দরকারী।  শত্রুতার জেরে মাছের গেরে কর যদি বিষ প্রয়োগ,  তবে তোমার জীবন থেকেও সুখ শান্তি হবে বিয়োগ।  ফসলের ক্ষেতে পাখি নিধনে থাকতে হবে সতর্ক,  এমন কোনো পাখি মারবে না যাতে সৃষ্টি হয় বিতর্ক।  আইন মান মানবিক হও সবে মানুষ যদি হয়ে থাকো,  তুমি যে সৃষ্টিকর্তার সেরা জীব  নিজ কর্মে প্রমাণ রাখো। হারমাদের মতো উন্মাদ হয়ে করিওনা কোনো কর্ম,  স্রষ্টার কাছেও ক্ষমা পাবে না মানো যতই সত্য ধর্ম। সভ্যসমাজে ঠাই হবে না কভু যদি মানবিক না হও,  হিংসা বিদ্বেষ হানাহানি ছেড়ে সৎ যোগ্য হয়ে যাও। ----:---- কুয়েত থেকে "অমানবিক আচরণ" শিরোনামে লেখা এই কবিতাটির মর্মার্থ,নিচে তুলে ধরা হয়েছে।  ​📜 কবিতার মর্মার্থ: "অমানবিক আচরণ" ​এই কবিতাটির মূল বক্তব্য হলো: মানুষকে অবশ্যই মানবিক হতে হবে এবং প্রাণী ও পরিবেশের প্রতি নিষ্ঠুরতা ত্যাগ করতে হবে। অমানবিক কাজের জন্য কেবল সামাজিক বা আইনি শাস্তি নয়, স্রষ্টার কাছেও জবাবদিহি ...

আটটি নীরব চিৎকার /একটি মানবিক লেখা

 ​৮টি নীরব চিৎকার, এক মা'য়ের বুকফাটা কান্না 😢 ​পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরের সেই পুকুরপাড়ের ঘটনাটি কেবল একটি সংবাদ নয়—এটি সভ্যতার মুখে এক নির্মম কালো চুনকালি। যে মাটিতে আমরা মানবিকতার বীজ বুনি, সেখানেই বস্তাবন্দি অবস্থায় পাওয়া গেল আটটি সদ্যোজাত কুকুরছানার নিথর দেহ। তাদের অপরাধ কী ছিল? হয়তো কোনো সরকারি কর্মকর্তার বাসভবনের আঙিনায় ভূমিষ্ঠ হওয়াই ছিল তাদের 'অপরাধ'। ​এক সপ্তাহ আগে মা কুকুর 'টম' সেখানে জন্ম দিয়েছিল তার আটটি প্রাণ। সেই ছোট্ট প্রাণগুলো হয়তো কেবলই পৃথিবীর রূপ দেখছিল, পরিচিত হচ্ছিল মায়ের আদর আর খেলার আনন্দটুকুর সঙ্গে। কিন্তু নিষ্ঠুর মানবতা তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অন্ধকার জলাধারের ভেতরে। ​💔🦮 মা কুকুরের আর্তনাদ: এক অসহায় সাক্ষী 👇 ​সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যটি ছিল সেই মা কুকুরটির। ছানাগুলোকে না পেয়ে সে নাকি সারা চত্বর ঘুরে ঘুরে আর্তনাদ করছিল—এক বুকফাটা কান্না, যা শুনতে পেলেও আমরা বুঝতে পারিনি। তার ডাক অনুসরণ করেই একসময় উদ্ধার হলো সেই ভেজা বস্তা, যার ভেতর ছিল তার না-বলা স্বপ্নগুলোর মৃত শরীর। ​বস্তার ভেতর দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সেই শেষ মুহূর্তগুলো কেমন ছিল...

গল্প ​🌟 সংগ্রামের উষ্ণতা 🌟

  গল্প ​🌟 সংগ্রামের উষ্ণতা 🌟 ​দমদম, হাবড়া, বারুইপুর আর ক্যানিং—এই চারটি অঞ্চলের ছোট ছোট ঘরগুলোর ভেতরের জীবনটা লক্ষ্মীর মতোই শত সংগ্রামের সাক্ষী। লক্ষ্মী, যার জীবনটা ছিল কেবলই ধোঁয়া আর হেঁশেলের কাঠ-কয়লার গন্ধমাখা। তার হাত দুটো সংসারের জন্য নিত্যদিন রুটি তৈরি করেছে, উনুন জ্বালিয়েছে, কিন্তু নিজের জন্য কোনো স্বপ্ন তৈরি করতে পারেনি। ​তবুও লক্ষ্মীর মনে একটা সুপ্ত আগুন ছিল—নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, নিজের আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার। ​একদিন সেই আগুনেই জন্ম নিল এক নতুন উষ্ণতা। অরণ্যজ নামের একটি সংস্থা এগিয়ে এলো এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে। তারা বড় বড় বক্তৃতা নয়, বরং কাজের সুযোগ নিয়ে এলো সমাজের পিছিয়ে পড়া এই নারীদের কাছে। লক্ষ্মী সেই সুযোগ লুফে নিলেন। ​যে হাত এতদিন কেবল উনুন সামলেছে, সেই হাতেই লক্ষ্মী তুলে নিলেন সুঁই-সুতো, তুলা আর নরম কাপড়। প্রতিদিন সংসারের সব কাজ সামলে, মাত্র তিন ঘণ্টা করে সময় দিতে লাগলেন নতুন একটি শিল্পে—দোহার বা লেপ তৈরিতে। প্রতিটি সেলাই যেন তার অতীত দুঃখকে ঢেকে দিচ্ছিল আর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের নকশা আঁকছিল। ​অবশেষে, সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত এলো। লক্ষ্মীর হাতে তৈরি সফলতার প্রথম আলো—প...