সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

গল্প ​🌟 সংগ্রামের উষ্ণতা 🌟

  গল্প ​🌟 সংগ্রামের উষ্ণতা 🌟

​দমদম, হাবড়া, বারুইপুর আর ক্যানিং—এই চারটি অঞ্চলের ছোট ছোট ঘরগুলোর ভেতরের জীবনটা লক্ষ্মীর মতোই শত সংগ্রামের সাক্ষী। লক্ষ্মী, যার জীবনটা ছিল কেবলই ধোঁয়া আর হেঁশেলের কাঠ-কয়লার গন্ধমাখা। তার হাত দুটো সংসারের জন্য নিত্যদিন রুটি তৈরি করেছে, উনুন জ্বালিয়েছে, কিন্তু নিজের জন্য কোনো স্বপ্ন তৈরি করতে পারেনি।

​তবুও লক্ষ্মীর মনে একটা সুপ্ত আগুন ছিল—নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, নিজের আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার।

​একদিন সেই আগুনেই জন্ম নিল এক নতুন উষ্ণতা। অরণ্যজ নামের একটি সংস্থা এগিয়ে এলো এক ভিন্ন বার্তা নিয়ে। তারা বড় বড় বক্তৃতা নয়, বরং কাজের সুযোগ নিয়ে এলো সমাজের পিছিয়ে পড়া এই নারীদের কাছে। লক্ষ্মী সেই সুযোগ লুফে নিলেন।

​যে হাত এতদিন কেবল উনুন সামলেছে, সেই হাতেই লক্ষ্মী তুলে নিলেন সুঁই-সুতো, তুলা আর নরম কাপড়। প্রতিদিন সংসারের সব কাজ সামলে, মাত্র তিন ঘণ্টা করে সময় দিতে লাগলেন নতুন একটি শিল্পে—দোহার বা লেপ তৈরিতে। প্রতিটি সেলাই যেন তার অতীত দুঃখকে ঢেকে দিচ্ছিল আর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের নকশা আঁকছিল।

​অবশেষে, সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত এলো। লক্ষ্মীর হাতে তৈরি সফলতার প্রথম আলো—প্রথম দোহারটি তৈরি! এটি ছিল কেবল একটি উষ্ণ কম্বল নয়, এটি ছিল লক্ষ্মীর সাহস, তার শ্রম, তার আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

​আর সেই দোহার কেনার জন্য এগিয়ে এলেন আমাদের ফেসবুক পরিবারের একজন শুভানুধ্যায়ী, শোভা রায়। তিনি শুধু একটি পণ্য কিনতে আসেননি, তিনি এসেছেন একটি স্বপ্নকে সমর্থন জানাতে। দোহারের খরচ হয়েছিল মাত্র ২৫০ টাকা, কিন্তু শোভা রায় নিজে থেকে এগিয়ে এসে লক্ষ্মীকে দিলেন ১,০০০ টাকা। অতিরিক্ত সেই ৭৫০ টাকা ছিল লক্ষ্মীর পরিশ্রমের প্রকৃত মূল্য।

​যখন ৭৫০ টাকা লক্ষ্মীর হাতে এলো, তখন তার চোখে জল, মুখে হাসি। এই টাকা শুধু রোজগার নয়, এটা ছিল তার নিজের পরিচয়ের প্রথম স্বীকৃতি।

​লক্ষ্মী এখন জানেন, যদি তিনি মাসে মাত্র ১০টি দোহারও বানাতে পারেন, তবে শীতকালে ঘরে বসেই তার উপার্জন হবে ৮,০০০ টাকারও বেশি! সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো—বিক্রির চিন্তা তার নয়, সেই দায়িত্ব নিয়েছে অরণ্যজ। নারীদের শুধু নিষ্ঠার সাথে কাজ শিখতে হবে, দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। এরপর অরণ্যজ তাদের হাতে তুলে দেবে সেলাই মেশিনও।

​লক্ষ্মীর একটি ছোট সিদ্ধান্ত আজ তার পরিবারে এক নতুন জীবন শুরু করেছে। তাঁর গল্প আজ দমদম, হাবড়া, বারুইপুর, আর ক্যানিং-এর শত শত পিছিয়ে থাকা মায়ের জন্য অনুপ্রেরণা। এটিই প্রকৃত Women Empowerment—মেয়েদের হাতে রোজগারের সুযোগ তুলে দিয়ে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার বাস্তব পথ।

​✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০২/১২/২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...