শিরোনাম: রক্তের দায় ও আমাদের বিচারহীনতার শঙ্কা
বিচারের বাণী যেন নিভৃতে না কাঁদে!
জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গাইতে হয়। ছাত্র-জনতার সেই রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান কোনো সাধারণ ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল এক দীর্ঘস্থায়ী অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই। কিন্তু আজ যখন আমরা ওসমান হাদীর মতো বিপ্লবীদের বিচার নিয়ে কথা বলি, তখন এক অজানা আতঙ্ক আমাদের গ্রাস করে।
আমরা কি তবে আবারও সেই পুরোনো বৃত্তে আটকে যাচ্ছি?
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার আজ আমাদের বিচারব্যবস্থার জন্য এক চরম উপহাসে পরিণত হয়েছে। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য আজও অন্ধকারেই রয়ে গেল। ওসমান হাদীর রক্তে ভেজা এই নতুন বাংলাদেশে যদি আবারও সেই 'সাগর-রুনি' স্টাইলের দীর্ঘসূত্রতা ফিরে আসে, তবে তা হবে শহীদদের আত্মার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
কেন এই বিচার জরুরি?
১. বিপ্লবের স্পিরিট রক্ষা: ওসমান হাদীরা রাজপথে জীবন দিয়েছিল একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্রের আশায়। তাদের বিচার না হওয়া মানে সেই স্বপ্নের অপমৃত্যু।
২. আস্থার সংকট দূর করা: যদি জুলাইয়ের বীরদের খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের মনে বিচারব্যবস্থার ওপর আর কোনো আস্থা অবশিষ্ট থাকবে না।
৩. নতুন ক্ষত রোধ: প্রতিটি বিচারহীনতা বিপ্লবীদের হৃদয়ে এক একটি নতুন ক্ষতের জন্ম দেয়। এই ক্ষতগুলো যখন পুঞ্জীভূত হয়, তখন তা জাতীয় হতাশায় রূপ নেয়।
আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—ওসমান হাদীর বিচার নিয়ে কোনো টালবাহানা বা কালক্ষেপণ সহ্য করা হবে না। আমরা কোনো তারিখের পর তারিখ চাই না, আমরা চাই দৃশ্যমান এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার। যারা আমাদের ভাইদের বুকে গুলি চালিয়েছে, যারা এই বিপ্লবকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আসতেই হবে।
মনে রাখবেন, ওসমান হাদীর মতো হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমরা কথা বলছি। এই রক্ত আমাদের দায়বদ্ধতা বাড়ায়। যদি আমরা তাদের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদেরও অপরাধী হয়ে থাকতে হবে।
২০১৩ /২০১৪ সালে আমার বাড়ি ঘরে হামলা করে, আমার অপরাধ কি ছিল!
আমি আমার কবিতা গল্প উপন্যাসে অন্যায় অবিচার দূর্শাসন জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি তাই।
৫৭ জন সেনা অফিসার হত্যার প্রতিবাদ করেছি তাই,
একটি আলোর মিছিলের অপেক্ষায় :
আমিই বাংলাদেশ আমার আরেক নাম লজ্জা আমি লাল সবুজের কাফনে ধর্ষিতা মা বোনেরা ফুল সজ্জা :
প্রান্ত পথের প্রতিক :
গাধার দলে রাষ্ট্র চালায় বলতে গেলে পুলিশ পাঠায় :
এমন অশংখ্য কবিতা লিখেছি তাই
আমার বাড়ি ঘর লুট করে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা, দশ বছর দেশে আসতে পারিনি।
জুলাই বিপ্লবের সময় গোপনে দেশে গিয়ে নিজের সোনাগাজী উপজেলার অন্তর্গত তিন নং মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সমপুর গ্রামে আমার জন্মস্থানে যেতে পারিনি।
প্রিয় দাদুর মৃত্যুর খবর শুনে আসতে তো পারিনি কবরটাও জেয়ারত করতে পারি নাই।
এতো জুলুমের শিকার হয়েও এখনো একটা মামলা দায়ের করতে পারি নাই,
২৪ এর রক্তে ভেজা বিপ্লবের এমাঠে দাঁড়িয়ে আমাকে ইনসাফ চাইতে নাকি নেতার অনুমতি লাগবে!!!
আমি আমার উপর করা অন্যায়ের বিচার না পাই তাতে আমার দুঃখ নাই,
কিন্তু শরিফ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দেখতে চাই।
ওসমান হাদী হ/ত্যার বিচার যদি হয়
সাগর রুনির মতো!
তবে সমস্ত জুলাই বিপ্লবীদের অন্তরে
সৃষ্টি হবে নতুন ক্ষত।
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২৪ /১২ /২০২৫
বিচার চাই! স্বচ্ছ বিচার চাই! দ্রুত বিচার চাই!
#JusticeForOsmanHadi #JulyRevolution #JusticeDelayedIsJusticeDenied #জুলাই_বিপ্লব #ওসমান_হাদী #ন্যায়বিচার
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন