সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দাম বাড়লে আর কমে না

 🥔 দাম বাড়লে আর কমে না: বাংলাদেশের বাজারে এক 'দুর্ভেদ্য' অর্থনীতির গল্প! 📈

​আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সিঙারা, পরোটা থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দামের ওঠানামা একটি সাধারণ ঘটনা। কিন্তু বাংলাদেশের বাজারের একটি চিরন্তন সত্য হলো: এখানে একবার কোনো কিছুর দাম বাড়লে, তা আর কমার নামও নেয় না!

​যদি বলি সিঙারা ও পরোটার উদাহরণটি এই পরিস্থিতির যেন এক নিখুঁত প্রতিচ্ছবি। যখন ১ কেজি আলুর দাম কিছুটা বাড়ে, তখন বিক্রেতারা আলুর দাম বাড়ার অজুহাতে ৫ টাকার সিঙারাকে মুহূর্তে ১০ টাকা করে দেয়। একইভাবে, ময়দার সামান্য দাম বাড়ায় ৫ টাকার পরোটা হয়ে যায় ১০ টাকা।

যদিও আলু এখন ৫ কেজি ১০০ টাকা মাত্র। 

​📉 দাম কমার 'অদৃশ্য জাদু'

​এরপর বাজারে আলুর দাম স্বাভাবিক হয়, ময়দার দাম কমে, এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও পড়ে যায়। কিন্তু সেই 'নতুন' দামের সঙ্গে সিঙারা বা পরোটার দামের কোনো সম্পর্ক থাকে না।

​যা ঘটে তা হলো:

​দাম স্থির: সিঙারা বা পরোটার দাম ১০ টাকাই থেকে যায়।

​পণ্যের আকার হ্রাস: দাম না কমিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের আকার বা পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়। ১০ টাকার সিঙারা পরোটা হয়তো আকারে ছোট হয়ে যায়, কিন্তু দাম সেই ১০ টাকাই থাকে।

​ক্রেতাদের মনে তখন প্রশ্ন জাগে: যে অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়েছিল, সেই কারণগুলো দূর হয়ে যাওয়ার পরও কেন দাম কমানো হয় না এই বাংলাদেশে?

​🚫 এই 'দাম-না-কমার' কারণ কী?

​এই প্রবণতার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করে:

​১. একবার বাড়ার সুবিধা: একবার দাম বাড়াতে পারলে ব্যবসায়ীরা একটি উচ্চ মুনাফার মার্জিন উপভোগ করেন, যা তাঁরা আর হারাতে চান না।

২. ঐক্যবদ্ধতা: সাধারণত ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ী একটি অলিখিত ঐকমত্যে পৌঁছান—যেহেতু সবাই বেশি দামে বিক্রি করছে, তাই একা দাম কমানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

৩. সরকারের নজরদারির অভাব: বাজারে কার্যকর এবং ধারাবাহিক নজরদারির অভাব থাকায় দাম বাড়ানোর পর কমানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না।

৪. ক্রেতার নীরবতা: সাধারণ ক্রেতারাও একসময় এই নতুন দামকে 'স্বাভাবিক' বলে মেনে নিতে বাধ্য হন, যার ফলে দাম কমানোর জন্য কোনো শক্তিশালী চাপ তৈরি হয় না ব্যবসায়ীদের উপর ।

​😔 একটি দীর্ঘশ্বাস

​আলু-সিঙারার এই গল্পটি কেবল একটি উদাহরণ। পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে গ্যাস-বিদ্যুতের দামের অজুহাতে যখনই কোনো পণ্যের দাম বাড়ে, তখন তা দেশের অর্থনীতিতে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়ায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয়কে ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে তোলে।

​আফসোস! আমাদের দেশে দাম কমার এই 'অদৃশ্য জাদু' কবে ভাঙবে, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। হয়তো শক্তিশালী বাজার মনিটরিং, ভোক্তাদের সচেতনতা এবং নৈতিক ব্যবসার চর্চা এই অচলায়তন ভাঙতে পারে।

​এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো? কমেন্ট করে জানাবেন প্লিজ।

:✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান 

কুয়েত থেকে ১১:১১/২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫