মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?
ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,
অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো।
মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র।
মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা
রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল:
রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত।
বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন।
শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার প্রধান কেন্দ্র ছিল মসজিদ।
সামরিক প্রস্তুতি: যুদ্ধের প্রস্তুতি সভা, সামরিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং যুদ্ধের জন্য যোদ্ধাদের তালিকা তৈরির কাজও মসজিদে করা হতো।
সামাজিক কেন্দ্র: এটি ছিল জনগণের সাথে শাসকদের সরাসরি যোগাযোগের স্থান। সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ, অভাবীদের আশ্রয় দেওয়া (যেমন: সুফ্ফা), এবং সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনার জন্য মসজিদ ছিল উন্মুক্ত।
সুতরাং, ইসলামের প্রাথমিক যুগে মসজিদ ছিল একই সাথে উপাসনা, শিক্ষা, সমাজসেবা এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কেন্দ্র। খলিফারা সাধারণ জনগণের মতোই অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন এবং বেশিরভাগ সময় মসজিদেই তাঁদের দায়িত্ব পালন করতেন।
কিছু কিছু গন্ড-মূর্খ মুসলিম হয়েও ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য না জেনে তর্কে লিপ্ত হয়,এরা দলের আনুগত্য করতে গিয়ে ইসলামী বিধি বিধানকেই অস্বীকার করে অনেক ক্ষেত্রে।
যদি এদের কাছে জানতে চাই, মুসলিমদের মসজিদের সুউচ্চ মিনার কেন! তারা এর সঠিক ইতিহাস ও কার বলতে পারবে না। কারণ এরা দলের জন্য যতটা সময় ব্যয় করে, ইসলামকে জানার জন্য তার সিকি ভাগ ও ব্যয় করে না।
আল্লাহ এদের কে হেদায়েত দান করুন।
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২৯ /০৯ /২০২৫
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন