সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ঢাকা বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও ভাঙচুরে প্রবাসীর কান্না

 "দেশে এসেও এই অভিজ্ঞতা?—

ঢাকা বিমানবন্দরে লাগেজ চুরি ও ভাঙচুরে প্রবাসীর কান্না


​ঢাকা:- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (HSIA) আবারও প্রবাসীদের লাগেজ ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গত ২৭ নভেম্বর বিকেলে লাগেজ সংগ্রহের পর এক প্রবাসী তার সুটকেসের তালা ভাঙা এবং ভেতরের জিনিসপত্র খোয়া যাওয়া দেখে বিমানবন্দরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিদেশে দীর্ঘ কষ্টের উপার্জনে কেনা জিনিসপত্র হারানোর এই অভিজ্ঞতা তাকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তুলেছে।


​ কষ্টের উপহার উধাও

​ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি পরিবারের জন্য জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিলেন। লাগেজ বেল্ট থেকে ব্যাগটি হাতে পাওয়ার পরই তিনি লক্ষ্য করেন তার সুটকেসের তালা ভাঙা এবং বহু মূল্যবান সামগ্রী উধাও।

​তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, "বিদেশে কষ্ট করে কাজ করি। পরিবারের জন্য কিছু নিয়ে আসি। কিন্তু দেশে আসার পর এমন অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।"

​এই ঘটনায় বিমানবন্দরের অন্য যাত্রীদের মাঝেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রবাসীর কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।


​প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানান, লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে লাগেজ চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগ নতুন নয়। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বারবার এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়াচ্ছে।


​ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী অবিলম্বে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং হারানো জিনিসপত্রের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তিনি আশা করেন, দায়ী ব্যক্তিরা দ্রুত আইনের আওতায় আসবেন।

​বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, চুরি ও লাগেজ ভাঙচুর রোধে লাগেজ হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীরা এখন কর্তৃপক্ষের দেওয়া আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখতে চান। তাদের প্রত্যাশা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্রুতই একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে, যেখানে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কষ্টার্জিত সম্পদ সুরক্ষিত থাকবে।

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

৩০ /১১ /২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...