সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সর্বস্ব হারিয়ে সখিনা এখন সোনাগাছি পতিতা পল্লীতে👇

 ​💔 সর্বস্ব হারিয়ে সখিনা এখন সোনাগাছি পতিতা পল্লীতে👇


​একসময় সখিনার জীবন ছিল উপচে পড়া সুখ আর প্রাচুর্যের প্রতিচ্ছবি। তার স্বামী বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাঠাতেন, আর সেই টাকায় সখিনা গয়না, দামি শাড়ি আর বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। গ্রামের মধ্যে তাদের বাড়িটি ছিল সবচেয়ে ঝলমলে। সখিনা তার সম্পদ নিয়ে ভীষণ অহংকারী ছিলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সামান্য মেলামেশাও করতেন না।

তার জুলুম অত্যাচারে গ্রামের প্রতিবেশী থেকে শুরু করে, ফকির পর্যন্ত অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।


​কিন্তু আত্ম অহংকারী সখিনার সুখের সে দিন বেশিদিন স্থায়ী হলো না। সখিনার স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বিদেশেই মারা গেলেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে তার দেবরদের সঙ্গে শুরু হলো মামলা-মোকদ্দমা।

ও হেলমেট বাহিনী ব্যবহার কর।


একদিকে যেমন হেলমেট বাহিনীর হাত খরচ আর মামলায় জলের মতো টাকা খরচ হতে থাকল, অন্যদিকে সখিনার নিজের হাতেও অর্থ ধরে রাখার অভ্যাস ছিল না। তিনি তখনও তার পুরোনো জাঁকজমক বজায় রাখতে গিয়ে হাতে থাকা শেষ পুঁজিও অকারণে খরচ করে ফেললেন।

​মামলার রায় সখিনার বিপক্ষে গেল।


রাতারাতি তিনি তার বাড়ি, জমি, এবং স্বামীর সঞ্চিত সব অর্থ হারালেন। যে গয়নাগুলো তার গর্বের কারণ ছিল, সেগুলোও বিক্রি হয়ে গেল ঋণের ভারে। একসময়কার সেই ধনী সখিনা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।

​অসহায় সখিনা মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে শহরে এলেন। কিন্তু এতোদিন যিনি কেবল হুকুম করেছেন,

যার হুকুমে গুম খুন ধর্ষণ চাঁদাবাজি চলতো সর্বত্র 

সেই সখিনা এখন পলাতক ।


তিনি জানেন না কীভাবে খেটে খেতে হয়! অহংকারী স্বভাবের কারণে পুরোনো কোনো পরিচিতজনও তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না।

​শহরের ফুটপাতের এক কোণে কিছু দিন তার দিন কাটে। একসময় যিনি দামি পোশাকে গা ঢাকতেন, আজ তিনি ছেঁড়া শাড়িতে দিনের পর দিন কাটান। একসময় যিনি কেবল সোনা-রুপার হিসাব করতেন, আজ তিনি অন্নের সংস্থানের জন্য মানুষের কাছে হাত পাতেন।


এক ​শীতের রাতে ফুটপাতের ঠাণ্ডা কনক্রিটে শুয়ে সখিনা কেবল তার ফেলে আসা দিনগুলোর কথা ভাবেন। বুঝতে পারেন, সম্পদ শুধু টাকা-পয়সার স্তূপ নয়, সম্পদ হলো মানুষের সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্ক, যা তিনি অহংকার করে একসময় ভেঙে দিয়েছিলেন। আজ তার কাছে কিছুই নেই—না অর্থ, না আপনজন। সর্বস্ব হারিয়ে সখিনা এখন শুধুই একজন রাস্তার ফকির, 

সখিনা যখন তার অতীত নিয়ে ভাবছি ঠিক তখন দূতি পরা সাধুর মতো দেখতে এক লোক সখিনার সামনে এসে দাঁড়ায়। 


সখিনা ছায়া অনুস্বরণ করে আস্তে আস্তে মাথা উঁচু করে সেই লোকের মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হওয়ার জোগাড়, নিজের অজান্তেই বলে- আরে তুমি এখানে? 

লোকটা গম্ভীর কন্ঠে মৃদুহাসি হাসি মাখা মুখে বলল - তোমার এ অবস্থা কেন? 

সখিনা তার ঝুলি থেকে একটা পেপার বের করে দাদাকে দিয়ে বলে বসো, দাদা বলল না এখানে বসা যাবে না মানুষ খারাপ ভাব'বে চলো ঐ পার্কে গিয়ে বসি। 


প্রিয় পাঠক এই সেই দাদা যে সখিনার সুখের সময় মদ সহ পছন্দের নেশা দ্রব্য এনে দিতো, লোকে জানতো এই দাদা হলো দুধের ব্যবসা করে কিন্তু দাদার আসল ব্যবসা ছিল মাদক দ্রব্য ও নারী পাচার করা ।

সখিনা দাদার কাছে তার কষ্টের কথা গুলো একে একে বলতে লাগলো, 

বাপের সম্পত্তি ও স্বামীর সম্পদ সব হারিয়ে এখন আশ্রয় হীন রাস্তায় রাস্তায়। 

সখিনার দুঃখের কথা শুনে দাদা বলল চিন্তা করিস না, আমিতো আছি একটা ব্যবস্থা করে দিবো। 


সাধু দাদা সখিনাকে নিয়ে সেই রাতে একটা হোটেলে উঠে স্বামী স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে, দুই দিন ঐ হোটেলে থেকে বেনাপোল দিয়ে ভারতের কলকাতা চলে যায়। 

সেখানে গিয়ে সখিনা তার নাম ও পোশাক পরিবর্তন করে নেয়, যদিও 

দাদার সাথে দেখা হওয়ার পর ঐ রাতেই সে হিন্দু সাজে এখন পুরোপুরি 

হিন্দু ধর্মের মহিলাদের মতো। 


দাদা সখিনাকে সবিতা নামে ডাকে এবং স্বামী স্ত্রীর মতো গা গেষে চলছে, 

দাদা সখিনাকে নিয়ে একটি গাড়িতে উঠে সকালে সন্ধ্যা বেলায় গিয়ে তারা একটা বাজারে গাড়ি থেকে নেমে যায়। 

তার পর একটা রিক্সায় দুজন উঠে বসে, দাদা রিক্সাওয়ালাকে বলল সোগাছি যাবো রিক্সার ড্রাইভার বলল জ্বী আইচ্ছা । মনে হলো রিক্সাওয়ালা আগে থেকেই দাদাবাবুকে চিনে, আধঘন্টা পর একটা গলির মুখে রিক্সা থামে ।

দাদা সখিনাকে বলল সবিতা নেমে আসো, সখিনাকে নিয়ে দাদা চলতে লাগলো সখিনা গলির দুই পাশে দাড়িয়ে থাকা অর্ধ উলঙ্গ নারীদের দেখে বুঝে নেয় দাদা তাকে কোথায় নিয়ে এসেছে। 


দাদা সখিনার হাত ধরেই চলছিলো তখনো এবার হাতে একটা হালটকা চাপ-দিয়ে বলে - 

যেভাবে বলেছি ঠিক সেই ভাবেই চলবে মাঝে মাঝে আমি এসে দেখে যাবো। আর কখনো ভুলেও তোমার নাম সখিনা বলবে না, এখন থেকে তোমার নাম সবিতা চন্দ্র পাল। 


সখিনা সাধু দাদাকে বলে তুমি আমার কথা কাউকে বলবে না আমি যে এখানে আছি, বাংলাদেশে আমার নামে যে সমস্ত মামলা আছে তাতে আমার ফাঁসি হয়ে যেতে পারে। 

বেঁচে থাকার জন্য পতিতা হলেও সমস্যা নাই আমার, 

বেচেঁ আছি এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো আমার।। 

—কেবল অর্থ ও ক্ষমতার অহংকার মানুষকে এক মুহূর্তেই যে শূন্য করে দিতে পারে এই ​গল্পটি তার জলজ্যান্ত প্রমাণ।

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

২৬/১১/২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫