🧅 আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে ভারতীয় পেঁয়াজ: ক্রেতারা ঝুঁকছেন পাকিস্তান ও চীনের দিকে
একসময় আন্তর্জাতিক পেঁয়াজ বাজারে ভারত ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু সম্প্রতি সেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। যে দুই দেশ ভারতের পেঁয়াজের প্রধানতম ক্রেতা ছিল— বাংলাদেশ ও সৌদি আরব—তারা এখন মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতার বাজার হাতছাড়া হওয়ার ফলে ভারতের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখন এক ভয়াবহ মন্দার মুখে।
ক্রেতা বদলের কারণ নির্ভরযোগ্যতার অভাব ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি
ভারতীয় পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হলো বাংলাদেশ। তবে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত তার অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখার কথা বলে বারবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে। এই একপেশে রাজনীতি অনির্দিষ্টতা ও নির্ভরযোগ্যতার অভাব বাংলাদেশের আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করেছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাজার সৌদি আরবও আমদানি কমিয়েছে। এই দুই দেশই এখন অপেক্ষাকৃত কম দামে এবং নিয়মিত সরবরাহের নিশ্চয়তা নিয়ে আসা পাকিস্তান ও চীনের পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকছে।
বাংলাদেশ দেশটি এখন অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে এবং সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনতে মরিয়া। এই কারণে, বাজারের চাহিদা মেটাতে তারা ভারত নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তান, মিশর বা চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে। অনেক সময় ভারতীয় পেঁয়াজ আসার পরও দেশি পেঁয়াজ বা অন্য দেশের পেঁয়াজের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
আগেই বলেছি ভারত বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক খেলা খেলছে তাতে ভারতের পেঁয়াজ চাষীদের শুধু নয়,
সব ধরনের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের পেঁয়াজের বড় ক্রেতা ছিল। কিন্তু সেখানেও এখন অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে সৌদি আরব ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
সংকটে ভারতীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা
ক্রেতাদের এই বাজারের পরিবর্তন ভারতীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে।
রপ্তানি হ্রাস সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় এমন দুটি দেশ বাজার হারালে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
অবিক্রিত পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়ায় ভারতে শত শত টন পেঁয়াজ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় গুদামে বা মাঠে পেঁয়াজে পচন ধরার ঘটনাও বাড়ছে, যা কৃষকদের বিপুল লোকসানের মুখে ফেলছে।
দামের পতন অভ্যন্তরীণ বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমছে, ফলে কৃষকরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ভবিষ্যতের পথ
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ভারতীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের দিকে নজর দিতে হবে। রপ্তানির ক্ষেত্রে একটি সুসংগঠিত ও স্থির নীতি গ্রহণ করা জরুরি, যাতে ক্রেতা দেশগুলো ভারতে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে আস্থা ফিরে পায়। অন্যথায়, আঞ্চলিক বাজারে পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
পরামর্শ: ভারতের উচিত উগ্রবাদী আচরণ পরিহার করা ও আঞ্চলিক সম্পর্ক তৈরি করা, ধর্মীয় বৈষম্য থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
বিশেষ করে গনহত্যার সাথে জড়িত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের আশ্রয় না দিয়ে, বাংলাদেশের জনগণের সাথে সুন্দর ব্যবহার ও সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
তা না হলে ভারত আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এখনতো ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগামীতে ভাতের কিছু প্রদেশ ও কৃতজ্ঞতা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে, যেমন আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ সহ সেভেন সিস্টার হারাতে পারে ভারত।
আর উগ্রবাদী হিন্দু ধর্মের মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতি হবে ।
আরবের দেশ গুলো ভারত থেকে, আর লেবার নাও নিতে পারে।
✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২৮ /১১/২০২৫
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন