সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতা-তুরাগ নদীর পাড়ে

---তুরাগ নদীর পাড়ে
-----মোহাম্মদ মিজান
গাট্টি কাঁন্ধে লইয়া দাদায়
দিছে যে রওয়ানা ,
পিছন থেকে দাদি বলে
যাচ্ছ কোথায় বলনা ?

দাদা বলে তাবলীগে যাই
করতে কামাই নেকী,
পিছন থেকে ডাকলি কেন
ও অপদার্থের ঢেঁকি ?

ঢেঁকি বল, বেঁকি বল
বল যত অপদার্থ,
এই ইলিয়াসী তাবলীগের পিছনে
বল আছে কার স্বার্থ?

নবীর সময় ছিল কি বল
এই তাবলীগ ইজতেমা?
সর্বপ্রথম ভারতে হয়
এই তাবলীগের সুচনা ।

১৯৪৪ থেকে১৯৪৮ সালে প্রথম
চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ,
এর পর ১৯৫৮ সালে
হয় সিদ্ধির গঞ্জে।

এর পর ১৯৬৬ সালে টঙ্গী
পাগার গ্রামের মাঠে,
এই তাবলীগের ইজতেমা
ধীরে ধীরে হাটে ।

তারপর ১৯৬৭ সাল থেকে
তুরাগ নদীর তীরে
কথিত বিশ্ব ইজতেমা নামে
আসলো সবলে ফিরে ।

এখন তো দুইবার হয়
শুধু মানুষ যায়গা দিতে ,
জেলায় জেলায় হবে হয়তো
কোনো একদিন আগামীতে ।

আম বয়ানে, জাম বয়ানে
বলে কি বলো শুনি?
ফাজায়েলে আমল -আমল করো
কোরআন হাদিস শিখনী।

কুরআনের তাফসীরের আলোচনা নেই
নেই সুদ ,ঘুষ ,জিনা,ব্যভিচার কথা,
অশ্লীলতা বেপর্দা ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে
হুশিয়ারী সহ নেই কোন বিরুধিতা।

উর্দুতে এক লম্বা চওড়া
বেদাআতি মুনাজাত,
যার ভাষা অনেকেই জানে না
তবু ভর্তি ইজতেমার মাঠ।

দিক নিদর্শনা মুলক আলোচনা নাই
আছে শুধু মেহেনতের বয়ান ,
কিসের মেহেনত করছো তোমরা
ছেড়ে জীহাদের ময়দান ।

দাদীর কথায় দাদাজানের
বাড়ে ভীষণ রাগ,
ধমক দিয়ে বলে দাদীকে
এখান থেকে ভাগ ।

টঙ্গীর তুরাগ নদীর পাড়ে
দাদা খুঁটি চারটি গাড়ে,
দাদীর হাতের খাবার ছেড়ে
নিজের হাতে ই রাঁধে।

তিনদিন পর দাদা যখন
এলো আবার বাড়ি,
দাদী বলে কি শিখেছ
বলো তাড়াতাড়ি ।

দাদা বলে শিখতে হলে
যেতে হবে চিল্লায়,
চল্লিশ দিনের চিল্লা দিবো
নাম লেখাইছি হিল্লাই।

দাদি বলে বেশ ভালো
করছো ধর্মের কাম,
তবে আরো কিছু কাম করলে
বাড়ত যে সুনাম ।

দাদা বলে কি কামে সুনাম বাড়ে
বলতো একটু শুনি ?
সে কাম করে পেতে চাই আমি
রবের মেহেরবানী।

অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে ,
হক কথা বলতে হবে ,
জিহাদ ফি ছাবিলিল্লাহ
এটা করতেই হবে ।

তবেই পাবে রবের মেহেরবানী
শোনো ওগো প্রিয়তম স্বামী ,
মনে রেখো মহান আল্লাহর কাছে
শহীদেরা সবচেয়ে বেশি দামী।

দাদীর কথা শুনে ভীষণ ভাবনায়
পড়ে যায় দাদা,
তাবলিগ ইজতেমাতে বাধা নেই
কোরআনের মাহফিলে বাধা! !

গভীর এক ষড়যন্ত্রের মধ্যে
আছে মুসলিম জাতি,
দাদা আমায় ডেকে বলে
বুঝলি প্রিয় নাতী ?

শেরেক বেদায়াতে ও জড়িয়ে যাচ্ছে
আজ বিশ্ব মুসলমান ,
পবিত্র হজ্বের পরে দ্বিতীয় নাকি
এই ইজতেমার ময়দান ।

নায়ুজু বিল্লাহ বলে দাদাজান
তওবা করছে দেখি  ,
দাদাজানের দোয়া কবুল করো
ওহে মাহবুদে এলাহী।
রচনাকাল : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীস্টাব্দ



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫