সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নাটক -আদম ব্যাপারি

নাটক
(আদম ব্যাপারি )
লিখক মোহাম্মদ মিজান
------শিল্পী বৃন্দ ----
আবুল /আদম ব্যাপারি
রফিক /আবুলের শালা
করিম /গ্রামের কৃষক
করিমের সহ কৃষক /
রহিম /করিমের ছোট ভাই
দুই যুবক /
বলদিয়ার লোক/
চেয়ারম্যান, ম্যাম্বার ও তার চামছা/
------মোট=১১ জন
~~~~~প্রথম দৃশ্য - - - - -
আবুল বিদেশ থেকে আরাবিয়ান পোশাকে হাতে ব্যাগ নিয়ে
প্রবেশ করে,
আবুল / ঠক ঠক শব্দ করে, রফিক ইয়া রফিক
ইয়া আখঁই হোয়েনেক ইন্তা? জোরে জোরে ডাকে
রফিক ঘর থেকে বের হয়ে আসে, আরাবিয়ান লোক দেখে
কাঁপতে কাঁপতে একটা লম্বা সালাম দে,
আবুল /ওয়াআলাইকুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া ভরাকাতুহু । কেবল হাল ইয়া রফিক শোনেক শেখবারেক?
শুনেই রফিক দোঁড় মারে , মনে হচ্ছে সে ভয় পেয়েছে ।
আবুল / রফিক, ইয়া রফিক, লেশ খোপ ।! ইয়া আঁখোই-
আই এম ইউর দুলাভাই , রফিক উকি দিয়ে দেখে -
আবুল /তাল তাল , তালে হিনী।
রফিক / আঁ-আঁ-আঁন্নে কে?আর আঁর নাম জা জা জানেন কে কে কেন্নে ?
আবুল /আরে বোকা আমি তোর দুলাভাই বিদেশেত্তুন আইসছি।
রফিক / মা মা মানে আঁ-আঁ-আঁন্নে আঁ-আঁ-আঁনগো আবুল ভা-ভা-ভাই?
আবুল / হ আনা জজ মাল ইন্তা ইউখতি।
রফিক একটু দূরে দূরে থাকে দেখে
আবুল বলে-  তাল হিনী আনা ফি কালাম ।
রফিক / আঁ-আঁ-আঁন্নে হে হে হেনী তা তা তালগাছ তলে
কা কা কালইমার কা কা  কাছে যা যা যাইবেন ।
আবুল /আরে না , আমি বলছি এ দিকে আস তোমার সাথে কথা আছে, যাক এখন কথা শুনো
রফিক /ব ব বলেন,
আবুল / আনা জিব ফোর টুয়েন্টি ভিসা
ওয়ান ইন্তা ফ্রি,
রফিক / আঁ-আঁ-আঁন্নে আঁরে ফো ফো ফোটুয়েন্টি গা গা গালি দে দে দেন কিল্লাই।
আবুল / আরে গালি নঅ গালি নঅ, আমি বলছি
আমার কাছে 420 টা ভিসা আছে, একটা তোমার জন্য ফ্রি 
এমন সময়ে ঐ পথে দুই যুবক যাচ্ছে
আবুল / হালা হালা শোনেক, শেখবারেক কেবল হাল
আবুলের কথা শুনে যুবকেরা বলে উঠল
ঐ মিয়া আমরা আন্নে র হালা সমন্ধি কিচ্ছু না,
আর আমাদের নাম বারেক কিংবা কেবলা ও না ।
আবুল বলে উঠল তোমরা ত দেখছি আরবি মোটেও বুঝোনা।শোনো আমি আরব দেশ থেকে আসছি
সাথে 420 টা ভিসা আনছি, তোমরা যদি বিদেশ যাইতে চাও আমার সাথে যোগাযোগ করবা, দাম কিছু কমাই দিমু
যে খানে দশ লাখ লাখ নিতাম, সে খানে সাত লাখ টাকা নিমু।
যুবক দুটি খুশি হয়ে বলে ঠিক আছে আমরা যাবো ।
আপনার সাথে যোগাযোগ করবো,
রফিক / রো  রো রহিম ভাই আঁ-আঁ-আঁনেগো ল ল লগে আঁ-আঁ-আঁইও যা যা যামু ।
----''''''''---------দৃতীয় দৃশ্য - - - -
করিম গ্রামের কৃষক তাই ক্ষেতে কাজ করছে
এমন সময়  তার ছোট ভাই রহিম আসে
করিম রহিম কে এক নজর দেখে আবার কাজ করতে থাকে,
রহিম /ভাই  আমার সাত আট লক্ষ টাকা লাগবো
করিম / করিম কাজ করতে করতে=কি করবি টাকা দিয়ে?
রহিম / বিদেশ যামু
করিম উঠে দাঁড়াল
করিম/ তোর লেখা পড়া শেষ না -হাতের কোনো কাজ জানা নাই বিদেশ যাই করবি টা কি?
রহিম/ যা খুশি তা করুম তুমি টাকা দিবা কিনা কও ?
করিম/আমার কাছে এত টাকা নাই
রহিম / টাকা কেমনে বাহির করতে হয় আমি জানি,
টাকা তো দিবা আরো ভালাও কইবা।
করিম/ এ রহিম তুই কি কস আমারে ?
সারাদিন টো টো করে ঘুরে ফিরে খাস
একটা কাজ করসনা কলেজে যাস না যাস কিচ্ছু বুঝিনা
এখন আবার এত্ত গুলো টাকা চাস ,
টাকা কি গাছে ধরে? মা বাপ না থাকার কারণে
আদর করি করি মাথায় তুলেছি তোরে ।
রহিম / তোমার আদর লাইগবোনা আমার টাকা চাই
যদি ভালোয় ভালোয় না দাও দেখবা আমি  কি করি।
করিম তাকিয়ে থাকে, রহিম চলে যায়।
- - - - - - তৃতীয় দৃশ্য - - -
করিমের জন্য রহিম বিচার ডাকে, চেয়ারম্যান ,ম্যাম্বার ও তার চামছা, আরো দু একজন ।সবাই বসে আছে,
রহিম দাড়িয়ে ।
মেম্বার রহিম কে জিজ্ঞেস করে তোমার ভাই কই?
রহিম / ঘরেই আছে,
ম্যাম্বার /তোমার ভাইরে ডাক
রহিম /আপনারা ডাকেন,
ম্যাম্বার চামছা কে ইশারাকরে,
চামছা / একটু উকি দিয়ে দেখে - ডাকতে থাকে, ঐ করিম মিয়া, করিম মিয়া, চেয়ারম্যান সাব তোমারে ডাকে,
করিম বেরিয়ে আসে, পরনে একটা লুঙ্গি গেঞ্জি গায়ে একটা  গামছা কাঁধে ।
ম্যাম্বার /চেয়ারম্যান সাব করিম আসছে
কি বলবেন বলেন ।
চেয়ারম্যান করিমের দিকে না তাকিয়ে  রহিমের দিকে তাকিয়ে বলে,
চেয়ারম্যান /বলার কি আছে রহিম তার বাপের সম্পত্তির ভাগ চায়, এবং সে তা বিক্রি করে বিদেশে যাবে,
এখানে করিমের কিছু বলার থাকে না,
করিম রহিমের দিকে একবার তাকিয়ে
সবার দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে ঠাই দাড়িয়ে থাকে ।
ম্যাম্বার / আপনি ঠিক বলেছেন চেয়ারম্যান সাব
চামছা /আমার একখান কথা আছে,
ম্যাম্বার / কি কথা ?
চামছা /রহিম করিমের ছোট ভাই, করিম অবশ্যই রহিমের ভালো চাইবো, সে জন্য বলছিলাম ধানের জমি রহিম ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো, আর রহিমের ও অনেক টাকার দরকার তাই বাড়ি করিমের কাছে থাকুক, আর
চেয়ারম্যান সাব রহিমের জমি গুলো কিনে তারে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেন ।
ম্যাম্বার /তুমি ঠিক বলেছ,
চেয়ারম্যান /করিম মিয়া ধান টান কাঁটি ওনা আমি রহিমেরে টাকা দিয়া দিতাছি ,
করিমের দু চোখ বেয়ে পানি পড়ছে
আর মনে মনে ভাবছে চেয়ারম্যান এত দিনে তার স্বার্থ উদ্ধার করলো আমার ভাইকে দিয়ে ।
আমাকে চার শতকের বাড়ি আর ভাঙা ঘর
ভাইকে দিয়ে আমার ধান সহ বিশ শতক জমি লিখে নিলো
কাল থেকে পরের বদলা দিতে হবে,
একটা নিঃশ্বাস ফেলে
গামছা দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে চলে যায় ।
-----------৪ নাম্বার দৃশ্য--------
করিম তার বন্ধু সহ এক ব্যক্তির জমিতে বদলা দিচ্ছে,
তারা দুজন ক্ষেত পরিষ্কার করছে,
করিমের বন্ধু কাজ করতে করতে বলছে -করিম ভাই  তোমার  ভাই কি বিদেশ চলে গেছে ?
করিম/একটা বড় করে নিঃশ্বাস ফেলে বলে -শুনছি চলি যাইবো/ঠিক এমন ঐ পথ দিয়ে রহিম বিদেশ যাচ্ছে,
করিম কে দেখে রহিম একটু থমকে দাঁড়িয়ে একটা নজর দেখে হেঁটে ছলে যায় ।
করিম ভাই কে দেখে উঠে দাঁড়ায়।
রহিম কিছু না বলে সোজা চলে যায় ।
করিমের বন্ধু ও উঠে দাঁড়ায়, আস্তে করে করিমের কাঁধে হাত রেখে বলে, করিম ভাই দুঃখ করিওনা,
কথায় আছে না - ভাই হয়েছে যে দিন -
ভিন্ন হয়েছে সে দিন ।
করিম / দোস্ত আজকে আর কাজে মন বসবে না,
আমি বাড়িতে চলে যাচ্ছি,
করিমের বন্ধু  বলে ঠিক আছে চলো
আমার ও মন বসবে না
--------------পঞ্চম - শেষ দৃশ্য ----------
একজন বলদিয়ার লোক
রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করছেন,
হাতে ব্রুস আর ময়লার ড্রাম,
কিছু দূর যেতেই একজন মানুষ কে দেখতে পান-
মাথার নিচে একটা ব্যাগ দিয়ে শুয়ে আছে,
বলদিয়ার লোক / এই যে ভাই, এই  উঠেন  উঠেন,
এখানে ঘুমানোর যায়গা না, উঠেন ।
রহিম =চোখ ডলতে ডলতে উঠে,
রহিম / কি ভাই ? কি হইছে ?
বলদিয়ার লোক / আপনে এই খানে ঘুমিয়ে পড়েছেন কেন ? বাসায় গিয়ে ঘুমান ।
রহিম / বাসা পামু কই?
বলদিয়ার লোক / কেনো কোম্পানি আপনেরে বাসা দেয় নাই ? নতুন আসলেন বুঝি ?
রহিম /  হ ভাই আইজ তিন মাস হইছে আসছি যে,
কিন্তু  আমি বিরাট একটা সমস্যায় আছি,
বলদিয়ার লোক / কি সমস্যা ?
রহিম / আমি যে দালালের মাধ্যমে আসছি-
সে পালাই গেছে, আজকে তিন মাস কোনো কাজ কামনাই
কাগজ পত্র ও নাই, গতকাল আমাদের সবাইকে
বিল্ডিং এর  মালিক বাহির করে দিছে ,
সে গত পাঁচ মাস ধরে ভাড়া দিচ্ছে না,
রহিম কথা বলতে পারছে না বার বার ঢোক গিলছিলো,
বলদিয়ার লোক টা তার পিছনে পকেটে রাখা পানির বলত
রহিমের দিকে দিয়ে বলে নেন পানি খান,
রহিম পানি পান করে, এমন সময়ে লোকটি জিজ্ঞেস করে,
কিছু খেয়েছেন ?
রহিম / কখন খেয়েছি  মনে নেই, তবে দু তিন দিন আগে
একটা রুটি খেয়েছি,
বলদিয়ার লোক /  আপনি বাড়ি যাচ্ছেন না কেনো ?
রহিম -নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না ,
ছোট্ট বাচ্চাদের মত কেঁদে উঠে,
রহিম / কোন মুখ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাব ?
আমি আমার বাবার মত শ্রদ্ধেয় ভাই কে চরম অপমান করে
বাবার জায়গা জমি বিক্রি করে এসেছি,
কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবো ভাইয়ের সামনে?
আমি কি ভাবে মুখ দেখাবো আত্মিয় সজন কে ?
বলদিয়ার লোক / এভাবে ভেঙে পড়লে ছলবে না ।
আমাকে দেখুন, আমি তো ভেঙে পড়েনি,
প্রবাসে বেশীরভাগ মানুষ ই
আপনার মতো প্রতারিত হয়েছে
এই দালালদের দারা ।
আমরাই একমাত্র জাতি -যারা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে
ভিসা কিনে বিদেশে আসি,
আর প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব মানবেতর জীবন যাপন করছি ।
আমরা করোই সহযোগিতা পাইনা,
যদি ও পাঁচআশি লক্ষের ও বেশী প্রবাসী শ্রমিকের
পাঠানো রেমিটেন্স দিয়েই দেশটা চলছে ।
আমরা প্রবাসীরা বড়ই অবহেলিত ,
কোন মিডিয়াতে ও
আমাদের দুঃখ দুর্দশার কথা  তুলে ধরা হয়না ।
একটি রাষ্ট্রের সুক্ষ অপপ্রচারনায়
আমরা প্রবাসে ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি ।
আমাদের এমব্যাসী গুলো ও
আমাদেরকে সেরকম সাহায্য করছে না,
তাই বলে জীবন যুদ্ধে পরাজিত হওয়া যাবে না।
প্রিয় ভাই আপনি নিজেকে আরো শক্ত করুন ।
মহান আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন,
আর ধৈর্য্য ধারণ করুন ।
ইন্নালাহা মা ছওয়াবেরিন।
আমাদের ধৈর্যের প্রতিদান দিবেন ।
এমন সময়ে একটি গান গাইতে গাইতে সবাই প্রবেশ করে ।
রহিম কে  মাথায় হাত বুলিয়ে দাড় করানো হয়,
এবং সবাই সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে
এই গানটি পরিবেশন করেন ।--------সমাপ্ত
প্রবাস
        মোহাম্মদ মিজান
- - - - - - - - - - - - - - - -
প্রবাসে কেউ আছে ভালো কেউ মন্দ
কেউ দু হাতে কামায় টাকা কারো হাত শুন্য ।
যায়গা জমি বেচিয়া বিদেশে  আসিয়া
হায়রে কপাল হলো একি মন্দ,
প্রবাসে কেউ আছে ভালো কেউ মন্দ //

ভেবে তো পাইনা আমি  কি করি এখন (রহিম /
লজ্জায় বলেনা কেউ আছে হাজার এমন  (বলদিয়ার লোক
সবার অজান্তে মরুভূমির ঐ প্রান্তে -
অশ্রু জলে ভাসে দু নয়ন ।
ভিটামাটি বেচিয়া বিদেশে আসিয়া
হায়রে কপাল হলো একি মন্দ//
কেউ দু হাতে কামায় টাকা কারো হাত শুন্য । ঐ

প্রবাসে কেউ আছে ভালো কেউ মন্দ
কেউ দু হাতে কামায় টাকা কারো হাত শুন্য ।
মা বাবা যদি সব জানতো -
অশ্রু জলে বুক ভাসতো//
বলি বলি করে তবু বলা হলো না,
বলি বলি করে তবু বলা হলো না ।
মা বাবার বেড়ে যাবে কষ্ট //

প্রবাসে কেউ আছে ভালো কেউ মন্দ
কেউ দু হাতে কামায় টাকা কারো হাত শুন্য ।
যায়গা জমি বেচিয়া বিদেশে আসিয়া
হায়রে কপাল হলো একি মন্দ,
প্রবাসে কেউ আছে ভালো কেউ মন্দ ।

ভেবে তো পাইনা আমি  কি করি এখন (রহিম /
লজ্জায় বলেনা কেউ আছে হাজার এমন  (বলদিয়ার লোক
সবার অজান্তে মরুভূমির ঐ প্রান্তে -
অশ্রু জলে ভাসে দু নয়ন ।
রচনা কাল:২৩/০১/২০১৭ইং

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫