বর্তমান প্রেক্ষাপট
--------নাটক -------
লিখক ~~~~~মোহাম্মদ মিজান
------ শিল্পী বৃন্দ---
ডিসি ---
ওসি মেহেদী হাসান
হাবিলদার = কুদ্দুস
হাবিলদার =শুক্কুর খাঁ
যুবক = শিমুল বিশ্বাস চন্দ্রপাল
যুবকের বাবা, নারায়ণ বিশ্বাস চন্দ্রপাল
---প্রথম দৃশ্য ----------
দুই হাবিলদার থানার মধ্যেই ঘুমাচ্ছে
ওসির চেয়ারে কুদ্দুস আর টেবিলে শুক্কুর খাঁ
কুদ্দুস চেয়ারে বসে টেবিলে শোয়া শুক্কুর খাঁর গায়ের উপরে
তুলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে,
এমন সময়ে মাতাল অবস্থায় ওসির প্রবেশ -
ওসি= খালি বলে জঙ্গি ধর জঙ্গি কি গাছে ধরে ?
(বলতে বলতে নিজের চেয়ারেরদিকে তাকান)
বাহ দে ঘুম কি মজা এর নাম থানা হা হা হা
ঐ কুদ্দুসচ্ছা , ঐ শুক্কুর ই রা ।
সবাই হতভম্ব হয়ে জেগে ওঠে, হেলে দুলে একটা সের্লুট দে
কুদ্দুস = না- মানে - ডিউটি করতে করতে একটু ক্লান্ত হয়ে -
ওসি=ডিউটির দেখছ কি? আগামীকাল যদি কোনো জঙ্গি জমা না দিতে পারো - খবর আছে হে
শুক্কুর = বলেন কি?
ওসি= উপরের নির্দেশ । যে ভাবে হোক জঙ্গি ধরতে হবে,
না ফেলে বানিয়ে নিয়ে আসবে, আমাকে উপরের ল্যাবেলের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
যাও কাজে লেগে যাও, আর শোনো সপ্তাহ কালেকশন করে আমার ভাগ বাসায় দিয়ে এসো,
(হাবিলদার দুজন ওকে বলে চলে যায় )
এই দিকে ওসি পকেট থেকে সারা দিনের চাঁদা বাজির টাকা গুলো বের করে বাজ করতে চাইছে, কিন্তু মাতাল হওয়ার কারণে ঠিক ভাবে পারছে না, এক সময়ে বিরক্ত হয়ে বলে
যা শালা বাড়ি গিয়ে বৌকে দিমু, বাড়ির দিকে রওনা হন ।
_____দৃতীয় দৃশ্য --------
কুদ্দুস আর শুক্কুর রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে যেতে যেতে বলছে
কুদ্দুস / জঙ্গি পামু কই স্যার যে বলল জঙ্গি জমা দিতে হবে,
শুক্কুর /-মহা বিপদে পড়ে গেলাম -
এমন সময়ে ওই পথে একজন যুবক যাচ্ছে
হাতে একটি ব্যাগ, পরনে পাঞ্জাবী, মুখে ছোট্ট ছোট্ট দাড়ি,
কুদ্দুস / পাইছি , পাইছিরে পাইছি---
শুক্কুর /কি পাইছো? কই পাইছো?
কুদ্দুস /জঙ্গি পাইছি ।বলেই ঝাপটা দিয়ে যুবকটিকে ধরে,
আর বলতে থাকে -শুক্কুর হ্যাংকাপ লাগা, হ্যাংকাপ লাগা।
যুবকটি কিছু বলার আগেই টানা হেঁচড়া করে নিয়ে যায়।
-----'''-'''-------তৃতীয় দৃশ্য ---------------
ওসি থানায় বসে বসে ঝিমাইতে ঝিমাইতে মাথা চুলকাচ্ছে
আর বলছে মহা বিপদে আছি প্রতি সপ্তাহে জঙ্গি নাটক
কোথায় পাবো কি করবো, দুই বেকুবকে পাঠালাম গতকাল
আজও কোনো খবর নাই,
আসলে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী দলিয় প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাইলে যোগ্যতার দরকার লাগে না ।
এমন সময়ে কুদ্দুস আর শুক্কুর প্রবেশ করে পিচ মোড়া করে বাঁধা যুবককে নিয়ে ।
কুদ্দুস /স্যার স্যার জঙ্গি ধরছি,
শুক্কুর/যুবক ছেলেটিকে উপুড় করে পেলে পিঠের উপরে একটি পা দিয়ে চেপে ধরে,
কুদ্দুস / ওসির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে
মাল সহ স্যার ।
(শুনেই ওসি ভয় পান )
ওসি /দূরে রাখ দূরে রাখ আমার কাছে না।
ওসি /এই বার আমার প্রমোশন ঠেকায় কে?
শুক্কুর তুমি শক্ত করে ধরে রাখ আমি উপরের ল্যাবেলের কাছে খবরটা পোঁছে দি।
আর কুদ্দুস তুমি মাল গুলো বের করে টেবিলে রাখো
একটা ছবি তুলতে হবে।
কুদ্দুস একটি পলিথিন পরে নে একটি হ্যামলেট মাথায় পরে
এই ফাঁকে ওসি টেলিফোনে কথা বলে সব জানিয়ে দেন উপরে বস কে।
ওসি /জ্বী স্যার, জ্বী স্যার, জ্বী রিমান্ডে নিলে আরো
তথ্য পাবো,
রাখি স্যার,
স্যার স্যার আমার ব্যাপার টা একটু দেখবেন স্যার ।
কুদ্দুস রেডি ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করতে ।
কুদ্দুস আস্তে আস্তে ব্যাগের ভেতর হাত দে
চমকে উঠে বলে স্যার মাল তো অনেক
অনেক শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা ছিল মনে হচ্ছে ।
স্যার রকেট লান্সার হবে মনে হচ্ছে,
শুনেই ওসি ভয়ে চেয়ারের উপর পা তুলে বসে ।
কুদ্দুস বের করে আনে একটি মুলা ।।
কুদ্দুস আবার হাত দে ,
এবার সে বলে স্যার কিরিচ পাইছি - স্যার ভয় পান
ওসি বলেন আর কিছু আছে কিনা দেখ
কুদ্দুস /আছে আছে স্যার একাত্তরে মুক্তি যুদ্ধারা যে ভাবে
অস্ত্র সাপ্লাই দিতো আমার মনে হচ্ছে এই বেটা ও সেই কায়দা করে অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছে ।
কুদ্দুস আবার হাত দে।
কুদ্দুস /স্যার গোল -
ওসি = গোল কি?
কুদ্দুস / গেনেট হবে মনে হচ্ছে,
ওসি ভয়ে টেবিলের নিছে উপরে পলাইবার উপক্রম
কুদ্দুস বের করে আনে ন পেয়াজ।
ওসি শান্ত হয়ে বসে
কুদ্দুস / স্যার আর একটা আছে, ঐটা মনে হচ্ছে বোম
ওসি/ সাবধানে কুদ্দুস সাবধানে,
কুদ্দুস আস্তে আস্তে বের করে নিয়ে আসে আলু ।
কিছুই না পেয় কুদ্দুস হতাশ ।
কুদ্দুস কিছু বলার আগেই ওসি বলেন সমস্যা নেই ।
লোক তো পাইছি
আগামী কাল আমরা কিছু পুরাতন অস্ত্র দিয়ে একটা
জঙ্গি নাটক সাজিয়ে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরবো
আর জনগণ আমাদের কথাই বিশ্বাস করবো ।
এখন জেলে বন্দি করে রাখ
কালকে দেখা যাবে,
সবাই চলে যায় ।
- - চতুর্থ দৃশ্য -----শেষ .--দৃশ্য - - - -
যুবকটি জেলে বন্দি পাশেই পায়চারি করছে কুদ্দুস আর শুক্কুর
যুবক /দাদা ও দাদা ভাই, পুলিশ ভাই এই যে -
শুক্কুর তাকাল ছেলে টি ইশারায় কাছে ডাকে
শুক্কুর / কুদ্দুস কে দেখিয়ে দিলেন
যুবক এবার কিছু টাকা দেখালো
শুক্কুর মুচকি হেসে ইশারায় অপেক্ষা করতে বলে
শুক্কুর / কুদ্দুস ভাই নাস্তা করছো ?
কুদ্দুস / না , কেন তুই করস নাই
শুক্কুর / করছি তৈ চা খাওয়া হয়নি
বলছিলাম তুমি যদি নাস্তা করতে যাও আমার জন্য একটা চা নিয়ে আসতে ।
কুদ্দুস / নাস্তা করার পয়সা নাইরে বৌয়ে সব টাকা লইয়া গেছে, প্রতিদিন এইদিক ঐদিক কইরা যা পাই রাতে বৌ সব নিয়া যায়।আমি জিরো প্রকেট।
শুক্কুর /ঠিক আছে আমি টেকা দিলাম তুমি নাস্তা করে আসার সময়ে আমার লাইগা এটা চা নিয়ে আসিও, ।
কুদ্দুস / ঠিক আছে তুই কিন্তু ঠিক মতো পাহারা দিবে ।
শুক্কুর /ঠিক আছে তুমি চিন্তা করিও না
কুদ্দুস চলে যায় শুক্কুর যুবকের কাছে যায় যুবকটি কিছু টাকা দে শুক্কুর টাকা পেয়ে অনেক খুশি
শুক্কুর / কি করতে হইবো ?
যুবক /আপনার টেলিফোন দিয়ে আমার মায়েরে একটা কল দিমু ।
শুক্কুর /ঠিক আছে বেশী কথা বলতে পারবা না
টাকা কম আছে , আর কুদ্দুস আসার আগেই শেষ করবা ।ছেলেটা ফোন করে
একটি গানের মতো করে নিজের কথা গুলো বলে।
জেল থেকে বলছি-
--মোহাম্মদ মিজান
জেল থেকে মা বলছি আমি
তোমার খোকন সোনা,
হয়তো মাগো তোমার সাথে
আর দেখা হবেনা //
লাশ টাও মা হয়তো তুমি
গ্রহন করবে না,
ওরা মারবে যখন সাজিয়ে
কোন জঙ্গি ঘটনা//
সেদিন মুখে ছিল ছোট্ট দাড়ি
গায়ে ছিল পাঞ্জাবী,
সেই অপরাধে আজকে আমি
মাগো হয়েছি জঙ্গি //
জানবে না কেউ আমার কথা
বুঝবে সবাই ভুল ,
মিথ্যে নাটকে ব্যস্ত সবাই
খুঁজবে না তার মুল //
বড্ড ধোঁকায় আছে দেশ জাতি
আছে যে অন্ধকারে ,
ভুল বুঝোনা মাগো আমায়
ঐ মরণের পরে //
কথা গুলো বলে শেষ করতেই ওসির প্রবেশ
ওসি /কি শুক্কুর খাঁ কুদ্দুস কই?
শুক্কুর / স্যার কুদ্দুস নাস্তা করতে গেছে এখনি আইয়া পরবো
ওসি /ঐ বেটা জঙ্গি উল্টা পাল্টা কিছু করছে নি ?
শুক্কুর / না স্যার
এমন সময়ে কুদ্দুস আসে চা হাতে
ওসি হাত বাড়িয়ে চা টা নিয়ে খেতে থাকে,
এমন সময়ে ডিসি প্রবেশ করে,
ডিসি কে দেখে সবাই মিলে স্যালুট করে
ডিসি/কি ওসি সাহেব আপনি নাকি জঙ্গি ধরেছেন ?
ওসি /জ্বী স্যার, ঐযে জেলে বন্দি করে রেখেছি ।
ডিসি ভালো করে তাকিয়ে দেখে
তার পর বলে কি নাম
ওসি/স্যার নাম ত জিজ্ঞেস করিনি ।
ডিসি ছেলেটা কে নাম জিজ্ঞাসা করে, ছেলেটি তার নাম শিমুল বিশ্বাস চন্দ্রপাল বলে,
সবাই অবাক
ডিসি ওসি কে বলে কি পেলেন সাথে ?
সবাই চুপ -শুক্কুর বলে উঠলো, মুলা আলু পেয়াজ আর
আর বলতে বলতে ওসি দমক দিয়ে থামিয়ে দে ।
ডিসি সাহেব ওসির দিকে তাকিয়ে একবার ছেলেটির কাছে গেলেন
ডিসি/তুমি বলো আসল ঘটনা কি?
যুবক / আমি বাজার থেকে বাজার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি
হঠাৎ দু জন পুলিশ আমাকে ধরে থানায় নিয়ে আসে ।
বলে আমি জঙ্গি আমার নামটি ও বলতে দিলো না ।
ডিসি / চোখ অগ্নি বর্ন করে এগিয়ে আসে ওসির দিকে
আপনার মতো 'আপনাদের মতো অসাধু কিছু পুলিশ কর্মকর্তার জন্য আজ গোটা পুলিশ বাহিনী সমাজে ঘৃণার পাত্র, রাজনৈতিক চাটুকার মতলব বাজ ধান্দা বাজ
ঘুষ খোর চাঁদাবাজি কি করেন না আপনারা ।
বর্তমানে জঙ্গি জঙ্গি খেলা দেখতে ওসি আপনাদের জুড়ি নেই । যে পুলিশ এগারো দিনের শিশু কে ডাকাতির মামলার প্রধান আসামী করে চার্জসীট দিতে পারে, বাপকে না পেয়ে এগারো মাসের বাচ্চা শিশু কে জেলে বন্দি করে রাখতে পারে তাদের দিয়ে আর যাই হোক দেশ সেবা হবেনা
আমরা দেশ স্বাধীন করলাম সরকারি পদে থেকে ও কিছু করতে পারছি না আপনাদের মত চাটুকারদের জন্য।
সময় থাকতে সাবধান হয়ে যান না হলে সামনে অনেক বিপদ আছে, জনগণ কে এতো বোকা ভাবেন না ।
সময় এলে কড়ায় গন্ডায় শোধ নেবে, -
এমন সময়ে শিমুল বিশ্বাস চন্দ্রপাল যুবকের বাবা নারায়ণ চন্দ্রপাল কাঁদতে কাঁদতে প্রবেশ করে
দাদা বাবু আমার ছেলে কই আমার? খোকন কই ?
ডিসি শিমুল কে তার বাবার কাছে নিয়ে হাতে তুলে দেন
---------সমাপ্ত --''---
(নাটকটি কাল্পনিক চরিত্র নিয়ে লিখা)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন