সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্মৃতির ডাইরি - মোহাম্মদ মিজান

----স্মৃতির ডাইরি
-----মোহাম্মদ মিজান ------
আমার একটি কবিতা ছিল
শিরোনাম হীন,
একটি গান ও ছিলো সুর বিহীন।
ডাইরীর পাতা ভরে ছিল
প্রতিদিনের স্মৃতি কথা,
ছিল অনেক প্রিয়জনের দেয়া ব্যথা ।
স্বতন্ত্র ভাবনা গুলো লিখে রাখতাম তাতে ,
নির্দিষ্ট কোনো সময় ছিলনা হাতে ।
সকাল বিকাল দুপুর কী মধ্যরাতে -
লিখতাম আমি মনের ব্যথা
জীবনের কথা -
না পাওয়ার বেদনা বিধুর হতাশা -ডাইরীটাতে।
আজ দুদিন হলো ডাইরীটা
খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,
টেবিলের উপরে রাখা গল্পের বই গুলো
তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি-
কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলনা ।
পাশের তাঁকে রাখা পুরনো বই গুলোতে
ধুলো জমে আছে ,
ভাবলাম পরিষ্কার করে দেই,
কিছু বই পরিষ্কার করা হলো,
কিন্তু একটি বইয়ের নাম দেখে চোখ আটকে গেল,
বইটির নাম ছিল (তোমার স্মৃতি )
বইটি পড়তে মনে অনেক কৌতুহল হচ্ছে,
ভুমিকা থেকে শুরু করে কয়েক পাতা পড়ে পেললাম,
একটি লেখা এমন ছিল যে চোখে জল এসে গেল ।
প্রতিটি কথা যেনো পরিচিত,
যেনো আমারি কথা,
নিজের অজান্তেই বসে গেলাম টেবিলের এক কোণে ,
বিরতিহীন ভাবে পড়ে যাচ্ছি,
শেষ অংশে এসে
একটি শুকনো বকুল ফুল
দেখতে পেলাম!
মনে হচ্ছে ফুল টি অনেক পুরোনো!
শুকনো বিবর্ণ ফুটিতে এখনো গন্ধ পাচ্ছি,
সাথে একটি চিরকুট।
(তোমার খোঁপা থেকে ঝরে পড়া বকুল টি রেখেদিলাম সযত্নে স্মৃতির পাতায় )
কিছুক্ষণের জন্য অবচেতন হয়ে গেলাম,
ভাবনার তরী এলোমেলো ভাবে ছুটোছুটি করতে লাগল।
সব কিছু মনে করার চেষ্টা করতে করে যাচ্ছি,
বয়স বাড়ার সাথে সাথে এখন অনেক কিছুই মনে করতে পারি না।
তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি,
এক সময় মনে পড়ল সব কিছু ।
দৌড়ে গিয়ে ছোট বোন সুমি কে জিজ্ঞেস করলাম -
আমার ঘরে কে এসেছিল ?
সে জবাব দিল ,ও! তোমাকে বলতে ভুলে গেছি
গতকাল বকুল আপু এসেছিল ,
ওনার একটি ডাইরি নাকি তোমার কাছে আছে,
ওনি তা নিয়ে গেছেন।
আমার বুঝতে মোটেও কষ্ট হলোনা -
যে আমার জীবন থেকে চলে গেছে
অট্টালিকার প্রাসাদ পেয়ে -
সে কি করে রেখে যাবে তার স্মৃতিচিহ্নি
সামান্য এই কৃষকের কুড় ঘরে?
অনেক চেষ্টা করেও দীর্ঘশ্বাস টা থামাতে পারলাম না ।
মনে মনে মনকে একটি শান্তনার বানী শুনালাম,
আমার কাছে থাকলে ডাইরি টা তে ধুলো বালি জমে যেত,
থাকনা ওটা ওর কাছে !
স্বর্ণ কমল অট্টালিকার প্রাসাদে-
দামী কোনো আলমারিতে ,
রচনাকাল : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীঃ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...