সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমি বিএনপির সমালোচনা করি কারণ আমি বিএনপিকে পছন্দ করি:

 আমি বিএনপির সমালোচনা করি কারণ আমি বিএনপিকে পছন্দ করি: 

খুবই কৌতূহলোদ্দীপক একটি ভাবনা তাই না! প্রিয় পাঠক আপনি হয়তো মনে মনে বলছেন যে আপনি বিএনপিকে (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) পছন্দ করেন, অথচ আপনি দলটির সমালোচনা করেন! 

এটি রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রে একটি পরিণত এবং জরুরি দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়।

​এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি কলাম নিচে দেওয়া হলো:

​ভালোবাসার অধিকার: প্রিয় দলের গঠনমূলক সমালোচনা কেন জরুরি

​রাজনীতিতে 'পছন্দ' বা 'সমর্থন' শব্দটি প্রায়শই অন্ধ আনুগত্যের সমার্থক হয়ে ওঠে। আমরা যখন কোনো দলকে 'ভালোবাসি', তখন তার ভুলত্রুটিগুলো চোখে দেখতে চাই না বা দেখলেও তা অস্বীকার করি। কিন্তু রাজনীতিতে প্রকৃত ভালোবাসা হলো গঠনমূলক সমালোচনার সাহস রাখা। সম্প্রতি আমার এক বন্ধু তেমনই এক সাহসী অবস্থান নিয়েছেন: তিনি বিএনপিকে পছন্দ করেন বলেই দলটির কঠোর সমালোচক। এই আপাত-বিরোধী অবস্থানটিই আসলে গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

​সমর্থন যখন সজাগ প্রহরী

​বিএনপি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এর বিশাল জনভিত্তি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এর আদর্শিক অবস্থান এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে এর সংগ্রাম সমর্থনের ভিত্তি তৈরি করে। কিন্তু ঠিক এই বিশালতা এবং ঐতিহ্যের কারণেই দলটির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

​সমালোচনার জন্ম তখন হয়, যখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় না। 

একজন প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী কখনোই চাইবেন না যে তার প্রিয় দল কেবল ইতিহাস ও আবেগের জোরে টিকে থাকুক। তিনি চাইবেন, দলটি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শক্তিশালী, ত্রুটিমুক্ত এবং কার্যকর হয়ে উঠুক।

​বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা, যেমন— নেতৃত্বের প্রশ্ন, সাংগঠনিক জড়তা, তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় যোগাযোগের ঘাটতি, কিংবা সাম্প্রতিককালে আন্দোলন-সংগ্রামে কৌশলের অভাব— যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন তার সমালোচনা করা একজন অনুরাগী সমর্থকের নৈতিক দায়িত্ব। 

এই সমালোচনা বহিরাগত আক্রমণ নয়, এটি হলো "ঘরের ভেতরের আয়না" দেখানো।

​পরিবর্তনের চালিকাশক্তি

​বাস্তবতা হলো, কেবল প্রতিপক্ষের আক্রমণ বা বাইরের চাপেই দলগুলো পরিবর্তিত হয় না। বরং, নিজেদের সমর্থকদের কঠিন প্রশ্নমালা ও কঠোর পর্যবেক্ষণ একটি দলকে আত্মসমালোচনা করতে বাধ্য করে।

​যে সমর্থক নিজের দলের দুর্বলতাকে আড়াল না করে সাহসের সঙ্গে বলেন, "আমি তোমাকে ভালোবাসি, তাই তোমার এই ভুল মেনে নিতে পারছি না," তিনিই আসলে দলের পুনর্গঠনের প্রথম বীজ বপন করেন। এই সমালোচনা বিএনপিকে সুযোগ দেবে

​জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে: 

কেবল বিবৃতি নয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিল রেখে কর্মসূচি তৈরি করতে।

​ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে: তারুণ্য ও যোগ্যতাকে সামনের সারিতে আনতে।

​কৌশলগত ভুল শুধরাতে: আন্দোলন বা নির্বাচনে তাদের কার্যপদ্ধতিকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকরী করতে।

​গণতান্ত্রিক ভালোবাসা:রাজনীতিতে 'পছন্দ' যেন ভালোবাসার মতোই—তা হতে হবে শর্তহীন নয়, বরং সজাগ শর্তসাপেক্ষ। বিএনপির প্রতি সমর্থন থাকার অর্থ এই নয় যে, এর সব সিদ্ধান্তকে চোখ বুজে সমর্থন দিতে হবে। এর মানে হলো, দলটি যাতে তার প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয় এবং জনগণের জন্য সেরা বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকে, সেই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

​তাই, আমার বন্ধুটির ভাবনাটি কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, এটি একটি গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের 'সমালোচনামূলক ভালোবাসা'ই পারে বিএনপিকে বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে আরও প্রাসঙ্গিক ও শক্তিশালী করে তুলতে।

​কারণ, যে দল নিজের ঘরের সমালোচনাকে স্বাগত জানাতে পারে, সেই দলই পারে বাইরের ঝড় সামলাতে।


আশাকরি বিএনপির দায়িত্বশীলেরা আমার কথা গুলো বুঝতে পারছেন।

এবং বিএনপির আগামী দিনের নেতারা জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে কল্যাণমূলক কাজে আরো বেশি ভূমিকা পালন করবে।

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি অনুসরণ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইলো

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০১ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?

 মসজিদে বসে রাজনৈতিক আলোচনা বা রাষ্ট্রীয় বিষয়ে কথা বলা যাবে কি?  ইদানিং আমাদের দেশের একটা দল বা গুষ্টি মসজিদের ভিতরে আলোচনা করা নিয়ে খুব ধার্মিকতা দেখাচ্ছে,  অথচ রাসূল (সাঃ)-এর যুগে এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের উত্তম যুগে মসজিদে বসেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আঞ্জাম দেওয়া হতো। ​মসজিদ, বিশেষ করে মসজিদে নববী, সেসময় শুধু নামাযের স্থান ছিল না। এটি ছিল মদিনা রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রাণকেন্দ্র। ​মসজিদে নববীর বহুমুখী ভূমিকা ​রাসূল (সাঃ)-এর সময় এবং পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মসজিদ প্রধানত নিম্নলিখিত কাজগুলোর কেন্দ্র ছিল: ​রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কেন্দ্র: খলিফারা মসজিদে বসেই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ সভা (শুরা) করতেন। এটি এক প্রকার কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মতো কাজ করত। ​বিচার বিভাগীয় কেন্দ্র: মসজিদ ছিল ন্যায়বিচার ও সালিশের প্রধান স্থান। খলিফা বা নিয়োজিত বিচারকগণ এখানেই জনগণের অভিযোগ শুনতেন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করতেন। শিক্ষাকেন্দ্র: নতুন মুসলিমদের দ্বীন শিক্ষা দেওয়া, কুরআন ও হাদিসের দারস প্রদান এবং জ্ঞানের চর্চার ...

তৃতীয় দৃষ্টি

 তৃতীয় দৃষ্টি  ----:---- খারাপ ছবি খারাপ ভিডিও খারাপ আমি জানি, গল্প কবিতায় খারাপ শব্দ খারাপ কজনে মানি? বেশ্যা শব্দ ভীষণ খারাপ বলবে সবাই নির্দ্বিধায়, সেই বেশ্যা পাড়ার মাটি দিয়ে দুর্গা মুর্তি তৈরী হয়। কাকে তুমি খারাপ বলবে খদ্দর নাকি পতিতা? তোমার চোখে খারাপ কে চিন্তা নাকি কল্পিতা?  লজ্জা তোমার কোথায় থাকে মনে নাকি চোখে?  কেন তোমার মনে কামনা জাগে শিশু খাদ্য দেখে?  প্রশ্ন করবে নিজেকে নিজে কি পরিবর্তন দরকার! চার এপাশের সমাজ ব্যবস্থা নাকি রাষ্ট্রের সরকার? --কুয়েত থেকে ১০ /০৫ /২০২৫