সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তিনটি কবিতা ভিন্ন স্বাদের

 

কবিতা :​প্রেম ও দেহ
(অক্ষরবৃত্ত ছন্দ)
​এ দেহ মাটির পাত্র, নশ্বর তার রূপ,
তবুও তাহাতে জাগে প্রাণের অফুরন্ত কূপ।
রক্তে মাংসে গড়া এই শরীরের সব ভাষা,
সেথায় লুকানো থাকে প্রেমের গভীর আশা।
​কামনার শিখা জ্বলে প্রদীপের মৃদু সজ্জায়,
সেখানেই খুঁজে ফেরে মন এক মুগ্ধ আশ্রয়।
তবু শুধু দেহ নয়, এ তো কেবলই আশ্রয়,
প্রেমের আসন পাতা হয় আত্মার নিলয়।
​দু'জনার পথ চলা, হাতে হাত রেখে চলা,
স্পর্শের উষ্ণতায় সব বাধা যায় টলা।
দেহ যদি হয় তরী, প্রেম তবে পাল তার,
নদীর গহীনে যায় বহুদূর পারাপার।
​রূপের মুগ্ধতা ভাঙে, বাড়ে শুধু ভালোবাসা,
যেখানে শরীর শুধু নয়, থাকে আত্মার ভাষা।
দেহ ও প্রেমের সেতুবন্ধ রহে অবিচল,
নশ্বর সে সীমা টানে, করে দেয় সুনির্মল।
​------কুয়েত থেকে - - -
✍️ মোহাম্মদ মিজান
০১/১০/২০২৫

আধ্যাত্মিক (Spiritual)  অক্ষরবৃত্ত ছন্দে একটি কবিতা //
​আত্মার সন্ধান:
:-:
​এ জীবন এক খেলা, নশ্বর তার কায়া,
তবুও কেন সে মায়া, টানে মিছে ছায়া?
ভিতরে লুকানো রত্ন, তার খোঁজ মেলে কই?
আপন মনটা জানে, সে-ই তো আসল সই।
​আলো-আঁধারের মাঝে, চলে যে আসা-যাওয়া,
এ জগৎ শুধু যেন এক ধোঁকারই হাওয়া।
কোথায় সে শূন্যের পার, সে অরূপের ধাম?
ডাকে শুধু নিরন্তর আত্মার অবিরাম নাম।
​সংসারের যত লীলা, সে তো শুধু ছলনা,
ভেঙে যায় একদিন, রয় শুধু বাসনা।
জ্ঞান-আলো যবে জ্বলে, কাটে সব অন্ধকার,
বুঝি, এ জগৎ-নদী, শেষে যেতে হবে পার।
​নিঃশ্বাসে খুঁজি তাঁকে, যিনি সকলেরই মূল,
জীবনের এ পারাবারে, ভাঙি ভুলভ্রান্তির কূল।
দেহ ছাড়ি প্রাণ ওঠে, সে তো কেবলই যাত্রা,
মহাশূন্যে বিলীন হওয়া, সে-ই জীবনের বার্তা।
​:::::-:::::
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
০১/১০/২০২৫

অক্ষরবৃত্ত ছন্দে একটি কবিতা :
​বিরহ-অনল:-
​হৃদয়েতে জ্বলে অনল, সে তো বিরহের শিখা,
দিনের আলোয় ঢাকা, রাতে রচে শুধু লিখা।
যে পথে চলার কথা ছিল, পাশে ধরে হাত,
সে পথ এখন ফাঁকা, নামে বিষণ্ণ রাত।
​আলো ছিল, ছায়া ছিল, ছিল হাসি মুখরা,
আজ সব মিছে হলো, চোখে নামে অশ্রুধারা।
স্মৃতির পাখিরা এসে করে শুধু আনাগোনা,
পুরোনো দিনের গান, আজ বাজে করুণ সুর-সোনা।
​একা ঘরে দেয়ালেরা শোনায় সে শূন্যতা,
যেখানে তোমার স্পর্শে ছিল সুখের পূর্ণতা।
জানি না এ দগ্ধতা কবে হবে অবসান,
জীবন তো চলে যায়, তবু থামে না এ গান।
​ফাগুনের সে বসন্ত, আজ কেন রুক্ষ অতি?
তোমার অনুপস্থিতি, এ-ই জীবনের গতি।
তবুও এ মন খোঁজে এক নতুন সে পরিচয়,
দু’জনের পথ শেষে হোক মিলন নিশ্চয়।
​-------:-----
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
০১/১০/২০২৫

প্রবাসীদের কষ্টের কথা নিয়ে চৌদ্দ পঙক্তির অক্ষরবৃত্ত ছন্দে একটি সনেট লেখার চেষ্টা করছি। আমি এখানে পেত্রার্কীয় ধাঁচ (প্রথম আট লাইন একভাবে, পরের ছয় লাইন অন্যভাবে) অনুসরণ করব।

​প্রবাসীর আর্তনাদ
​অষ্টক (Octave):
(মিলবিন্যাস: কখখক কখখক)
​দূরের আকাশে তারার আলো জ্বলে,

জন্মভূমি ফেলে এসে কত দিন হলো।

এ বুকেতে চাপা থাকে কষ্টের যে স্রোত,

বিদেশ বিভুঁইয়ে শুধু শ্রমিকের দল।

টাকা আসে, কিন্তু আসে না ঘরের সে সুর,

মন কাঁদে ফেলে আসা মায়ের আঁচল,

নিদ্রাহীন চোখে ভাসে স্মৃতি সুমধুর,

আজীবন বয়ে চলা এ এক গরল।

​ষটক (Sestet):
(মিলবিন্যাস: গঘগ ঘগঘ)
​সবুজের ঘ্রাণ নিতে মন করে যে হাঁসফাঁস,

এখানে তবুও চলে শুধু যন্ত্রের বিধান।

পরিশ্রমে ক্লান্ত দেহ, তবু কাটে বারো মাস।

বিনিময়ে পাই শুধু অর্থেরি সম্মান,

হৃদয়ের ভাষা বোঝে না এ শহরের বাতাস,

এ পরবাসে ঢাকা থাকে হৃদয়ের যত টান।

​-----:----
✍️মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
০১/১০/২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...