কবিতা :প্রেম ও দেহ
(অক্ষরবৃত্ত ছন্দ)
এ দেহ মাটির পাত্র, নশ্বর তার রূপ,
তবুও তাহাতে জাগে প্রাণের অফুরন্ত কূপ।
রক্তে মাংসে গড়া এই শরীরের সব ভাষা,
সেথায় লুকানো থাকে প্রেমের গভীর আশা।
কামনার শিখা জ্বলে প্রদীপের মৃদু সজ্জায়,
সেখানেই খুঁজে ফেরে মন এক মুগ্ধ আশ্রয়।
তবু শুধু দেহ নয়, এ তো কেবলই আশ্রয়,
প্রেমের আসন পাতা হয় আত্মার নিলয়।
দু'জনার পথ চলা, হাতে হাত রেখে চলা,
স্পর্শের উষ্ণতায় সব বাধা যায় টলা।
দেহ যদি হয় তরী, প্রেম তবে পাল তার,
নদীর গহীনে যায় বহুদূর পারাপার।
রূপের মুগ্ধতা ভাঙে, বাড়ে শুধু ভালোবাসা,
যেখানে শরীর শুধু নয়, থাকে আত্মার ভাষা।
দেহ ও প্রেমের সেতুবন্ধ রহে অবিচল,
নশ্বর সে সীমা টানে, করে দেয় সুনির্মল।
------কুয়েত থেকে - - -
✍️ মোহাম্মদ মিজান
০১/১০/২০২৫
আধ্যাত্মিক (Spiritual) অক্ষরবৃত্ত ছন্দে একটি কবিতা //
আত্মার সন্ধান:
:-:
এ জীবন এক খেলা, নশ্বর তার কায়া,
তবুও কেন সে মায়া, টানে মিছে ছায়া?
ভিতরে লুকানো রত্ন, তার খোঁজ মেলে কই?
আপন মনটা জানে, সে-ই তো আসল সই।
আলো-আঁধারের মাঝে, চলে যে আসা-যাওয়া,
এ জগৎ শুধু যেন এক ধোঁকারই হাওয়া।
কোথায় সে শূন্যের পার, সে অরূপের ধাম?
ডাকে শুধু নিরন্তর আত্মার অবিরাম নাম।
সংসারের যত লীলা, সে তো শুধু ছলনা,
ভেঙে যায় একদিন, রয় শুধু বাসনা।
জ্ঞান-আলো যবে জ্বলে, কাটে সব অন্ধকার,
বুঝি, এ জগৎ-নদী, শেষে যেতে হবে পার।
নিঃশ্বাসে খুঁজি তাঁকে, যিনি সকলেরই মূল,
জীবনের এ পারাবারে, ভাঙি ভুলভ্রান্তির কূল।
দেহ ছাড়ি প্রাণ ওঠে, সে তো কেবলই যাত্রা,
মহাশূন্যে বিলীন হওয়া, সে-ই জীবনের বার্তা।
:::::-:::::
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
০১/১০/২০২৫
অক্ষরবৃত্ত ছন্দে একটি কবিতা :
বিরহ-অনল:-
হৃদয়েতে জ্বলে অনল, সে তো বিরহের শিখা,
দিনের আলোয় ঢাকা, রাতে রচে শুধু লিখা।
যে পথে চলার কথা ছিল, পাশে ধরে হাত,
সে পথ এখন ফাঁকা, নামে বিষণ্ণ রাত।
আলো ছিল, ছায়া ছিল, ছিল হাসি মুখরা,
আজ সব মিছে হলো, চোখে নামে অশ্রুধারা।
স্মৃতির পাখিরা এসে করে শুধু আনাগোনা,
পুরোনো দিনের গান, আজ বাজে করুণ সুর-সোনা।
একা ঘরে দেয়ালেরা শোনায় সে শূন্যতা,
যেখানে তোমার স্পর্শে ছিল সুখের পূর্ণতা।
জানি না এ দগ্ধতা কবে হবে অবসান,
জীবন তো চলে যায়, তবু থামে না এ গান।
ফাগুনের সে বসন্ত, আজ কেন রুক্ষ অতি?
তোমার অনুপস্থিতি, এ-ই জীবনের গতি।
তবুও এ মন খোঁজে এক নতুন সে পরিচয়,
দু’জনের পথ শেষে হোক মিলন নিশ্চয়।
-------:-----
✍️ মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
০১/১০/২০২৫
প্রবাসীদের কষ্টের কথা নিয়ে চৌদ্দ পঙক্তির অক্ষরবৃত্ত ছন্দে একটি সনেট লেখার চেষ্টা করছি। আমি এখানে পেত্রার্কীয় ধাঁচ (প্রথম আট লাইন একভাবে, পরের ছয় লাইন অন্যভাবে) অনুসরণ করব।
প্রবাসীর আর্তনাদ
অষ্টক (Octave):
(মিলবিন্যাস: কখখক কখখক)
দূরের আকাশে তারার আলো জ্বলে,
ক
জন্মভূমি ফেলে এসে কত দিন হলো।
খ
এ বুকেতে চাপা থাকে কষ্টের যে স্রোত,
খ
বিদেশ বিভুঁইয়ে শুধু শ্রমিকের দল।
ক
টাকা আসে, কিন্তু আসে না ঘরের সে সুর,
ক
মন কাঁদে ফেলে আসা মায়ের আঁচল,
খ
নিদ্রাহীন চোখে ভাসে স্মৃতি সুমধুর,
খ
আজীবন বয়ে চলা এ এক গরল।
ক
ষটক (Sestet):
(মিলবিন্যাস: গঘগ ঘগঘ)
সবুজের ঘ্রাণ নিতে মন করে যে হাঁসফাঁস,
গ
এখানে তবুও চলে শুধু যন্ত্রের বিধান।
ঘ
পরিশ্রমে ক্লান্ত দেহ, তবু কাটে বারো মাস।
গ
বিনিময়ে পাই শুধু অর্থেরি সম্মান,
ঘ
হৃদয়ের ভাষা বোঝে না এ শহরের বাতাস,
গ
এ পরবাসে ঢাকা থাকে হৃদয়ের যত টান।
ঘ
-----:----
✍️মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
০১/১০/২০২৫
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন