সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর গোপন বিষয়:

 ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর গোপন বিষয়: 

(যেমন, তাদের মধ্যকার একান্ত ব্যক্তিগত আলাপ বা দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিবরণ) প্রকাশ করাকে হারাম (নিষিদ্ধ) এবং আমানতের খেয়ানত (বিশ্বাসঘাতকতা) হিসেবে গণ্য করা হয়।

​এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ, এবং হাদিসে এই কাজটিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষের কাজের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।

​আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে নিকৃষ্টতম মানুষ হবে ওই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে মিলিত হয়, অতঃপর সে তার স্ত্রীর গোপনীয়তা ফাঁস করে দেয়।" (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৩৭/৩৪৩৪)

​এই বিষয়ে কয়েকটি মূল কথা:

১. আমানত রক্ষা: দাম্পত্য জীবনের গোপন বিষয়গুলো স্বামী-স্ত্রীর কাছে আমানত (বিশ্বাস) স্বরূপ। তা রক্ষা করা উভয়ের জন্যই অপরিহার্য।

২. চরিত্রের ত্রুটি: অন্যের কাছে নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় ফাঁস করা শয়তানি আচরণ এবং নীচ মানসিকতার পরিচায়ক।

৩. ক্ষতি: গোপন বিষয় প্রকাশ পেলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, অবিশ্বাস এবং সম্পর্কের ক্ষতি হয়।

​অর্থাৎ, স্বামীর গোপন বিষয় প্রকাশ করা ইসলামে গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মহান আল্লাহ বলেন স্বামী আর স্ত্রী হলো একে অন্যের পোশাক স্বরূপ,

তারা একজন অন্য জনের ইজ্জত ঢেকে রাখবে।

ইদানিং সোস্যাল মিডিয়াতে স্ত্রী স্বামীর চরিত্র নিয়ে যেনতেন পোস্ট করছে!

অথচ সংসারের ভালো নারী এমন করে না, শুনেছি ঐ নারী একজন আলেমের স্ত্রী এবং ইসলামী ধর্মের বিধি বিধান জানা নারী।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন।

#আমীন

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

১৪ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...