সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জুলাই সনদ

 ​শিরোনাম: জুলাই সনদ: 

নতুন বাংলাদেশের পথে প্রথম পদক্ষেপ, নাকি কেবলই রাজনৈতিক সমঝোতা?

​ভূমিকা

​বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগসন্ধিক্ষণে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের (ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) পরে, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত হলো ঐতিহাসিক 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫'। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার ফসল এই সনদটি। ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্বাক্ষরিত এই দলিলে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সনদ কি সত্যিই একটি ‘নতুন বাংলাদেশের সূচনা’, নাকি ক্ষমতা ভাগাভাগির লক্ষ্যে দলগুলোর একটি কৌশলগত সমঝোতা মাত্র?


​সনদের মূলকথা: অঙ্গীকারনামা

​জুলাই সনদে মূলত সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কারে ঐকমত্য হয়েছে। এর কয়েকটি মূল প্রতিশ্রুতি হলো:

​বিপ্লবের স্বীকৃতি ও সুরক্ষা: জুলাই বিপ্লবে নিহতদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে ঘোষণা এবং আহতদের পূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।(যদিও তাদের পূর্নবাসন করার কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা এই সনদে উল্লেখ করা হয়নি) 


​গণতন্ত্র ও নির্বাচন কমিশন: সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া এবং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংস্কারের নিশ্চয়তা। 

(নির্বাচনকালীন কেমন সরকার গঠন করা হবে তা পরিষ্কার করা হয়নি) 


​রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার: দুর্নীতি দমন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট সংস্কারের প্রস্তাব।

​দায়বদ্ধতা: সকল স্বাক্ষরকারী দল পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত হলে এই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

​আশা ও উদ্বেগের দ্বান্দ্বিকতা

​প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই সনদে স্বাক্ষরকে 'নতুন বাংলাদেশের সূচনা' হিসেবে আখ্যায়িত করে আশার বাণী শুনিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলও এই ঐকমত্যকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছে।

​তবে, এই ঐকমত্যের বাইরেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে:


​অস্বাক্ষরকারীদের প্রশ্ন: অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই সনদে স্বাক্ষর করেনি। তাদের মতে, এটি কয়েকটি রাজনৈতিক দলের একত্র হওয়া—'জাতীয় ঐক্য' নয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, জনসম্পৃক্ততা ছাড়া এই সমঝোতা কতটুকু কার্যকর হবে? উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনই জুলাইয়ের আহতদের আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আহত করলো, জুলাই শহীদের পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। 


​বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: অতীতেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন অঙ্গীকার করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বিশাল রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দীর্ঘমেয়াদী ঐক্যের প্রয়োজন। নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা দল কি সনদের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখবে, নাকি নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী পরিবর্তন আনবে?


​ঐক্যের ভঙ্গুরতা: নানা মতাদর্শের দলগুলোর এই ঐক্য কি কেবল নির্বাচন পর্যন্ত স্থায়ী? গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে তারা কি মতপার্থক্য এড়িয়ে কাজ করতে প্রস্তুত?


যদিও স্বাধীনতার তিন বছর পর আমার জন্ম তবুও আমার এই ৫১ বছর জীবনে অনেক কিছুই আমি দেখেছি, রাজনৈতিক দলের নীতি ও আদর্শ বলতে কিছুই নেই। 

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই দল গুলো বাপের সাথেও বেইমানি করে। 


​উপসংহার

​জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি অন্তত এটুকু প্রমাণ করেছে যে, চরম রাজনৈতিক সংঘাতের পরেও একটি ন্যূনতম ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব। সনদটি সংস্কারের যে রোডম্যাপ দিয়েছে, তা অনুসরণ করা গেলে দেশের গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে।

​কিন্তু এই সনদের সাফল্য কেবল কাগজে-কলমে স্বাক্ষরের ওপর নির্ভর করে না। এর সাফল্য নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা, সদিচ্ছা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার ওপর। নতুন প্রজন্ম আশা করে, এই সনদ যেন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি না হয়, বরং তা যেন হয় একটি সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।

​✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান 

কুয়েত থেকে 

১৮ /১০ /২০২৫ 


(#জুলাই_সনদ, #বাংলাদেশ, #রাজনৈতিক_সংস্কার, #জুলাই_বিপ্লব) 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...