সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাস্তবতার আয়না

 


​বাস্তবতার আয়না:
লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান
:-
​এই আয়নায় কোনো সাজানো ছবি নেই, নেই কোনো মানুষের মুখশ্রী,
আছে শুধু রক্ত আর ধুলোর বিভীষিকা।
এই আয়নায় প্রতিবিম্বে হাসে না কোনো সুন্দর মুখ,
এর প্রতিবিম্বে কাঁদে এক ফিলিস্তিনি শিশু, তার চোখে জমা শত মৃত স্বপ্ন।
দেখ ​আয়নাটা আজ গাজার আকাশে ঝোলে,
ভাঙা দেওয়াল ঝোলে, পোড়া স্মৃতি আর লাশের স্তূপে।
গাজার প্রতিটি ফাটলে প্রতিধ্বনিত হয়—
ইহুদীদের ছোড়া বোমার শব্দ, মায়ের আর্তনাদ,
আর নিরুপায় এক বাবার নীরব হাহাকার।
না ​এ কোনো কাঁচের টুকরো নয়, এ যেন এট ইতিহাসের সাক্ষী,
যেখানে প্রতি মুহূর্তে রচিত হচ্ছে এক একটি নতুন শোকগাঁথা।
সভ্যতার চোখে ছাই দিয়ে, তারা দেখায় গণহত্যার নগ্ন রূপ, জীবনের মূল্যহীতা।
প্রতিবার ঝলসে ওঠে যখন কোনো বিকট বিস্ফোরণ,
আয়নাটি জানায়—এটাই হলো ক্ষমতার বাস্তব খেলা।
​এখানে হাসি নেই, এখানে গান নেই,
আছে শুধু বাঁচার জন্য লড়ে যাওয়া প্রাণ।
যখন রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ চলে যায়,
আয়নাটি শুধু ছায়া দেখে, সে ছায়া মৃত্যুর ছায়া।
​আমরা যারা দূর থেকে দেখি, আর চোখ মুছি,
গাজার এই আয়না তাদের সামনেও ধরে রাখা হোক।
দেখো, পৃথিবীর মানুষ এই বাস্তবতা তোমাদের র মানবতাকেও প্রশ্ন করে—
তুমি কি শুধু দর্শক, নাকি তুমিও এই রক্তের অংশীদার?
আয়না কখনো মিথ্যা বলে না; এটি শুধু দেখায়,
নিরস্ত্রের উপর ক্ষমতাধরের নির্মমতার শেষ সীমা।
হে বিশ্ব, হে মানব সভ্যতার ফেরিওয়ালা, কোথায় তোমাদের মানবিক মূল্যবোধ আজ?
হে আরব তোমাদের এতো এতো সৈন্য
এতো যুদ্ধ জাহাজ,
তোমাদের গোলা বারুদ কি আজ মাজলুমের জন্য ব্যবহার করতে পারো না?
জেগে উঠো আর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দাড়িয়ে, বাস্তবতার আয়নায় নিজের চেহারা দেখো,
কল্পনা করো ইজরায়েলের বোমার আঘাতে নিজেকে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত
ফিলিস্তিনের শিশুটির জায়গায়।
------:-----
কুয়েত থেকে
০৫/১০/২০২৫

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...