সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে :

এই অভিযোগটি একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং স্পর্শকাতর বিষয়, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও জাতীয় উন্নয়নের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার "গভীর ষড়যন্ত্র" হচ্ছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যখন ওঠে, তখন তার পেছনে কিছু বাস্তব সমস্যা এবং বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।

​বিভিন্ন মহল থেকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং এর মান নিয়ে যে সমালোচনাগুলো উঠে আসে, সেগুলোকে এই 'ষড়যন্ত্রের' আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা যেতে পারে। নিচে সেই সমস্যা ও বিতর্কিত দিকগুলো তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হলো।


​বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা: দুর্বলতা ও বিতর্কের আবর্তে 'ষড়যন্ত্রের' প্রশ্ন

​১. শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ

​দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি প্রধান দুর্বলতা হলো শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন। যদিও প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীর ভর্তির হার প্রায় শতভাগ এবং পাসের হার বেড়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শিক্ষার্থীদের মৌলিক জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার প্রমাণ মিলেছে অহর-অহর ।

শিক্ষা ব্যবস্থার ​দুর্বল ভিত্তি: বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরের অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পড়ুয়াদের স্কুলে পড়ার মতো মৌলিক দক্ষতা নেই। এমনকি পঞ্চম শ্রেণি পাস করা অনেক শিক্ষার্থী গণিতের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

​পরীক্ষা ও সার্টিফিকেট নির্ভরতা: শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন ফলকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। GPA 5 বা উচ্চ ডিগ্রির সনদ অর্জনই মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু হাতে-কলমে জ্ঞান বা বাস্তব দক্ষতা অর্জিত হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন ।

​মেধা ও সৃজনশীলতার অভাব: মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা, গাইড বই, এবং কোচিং সেন্টারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সৃজনশীলতা এবং স্বাধীন চিন্তাভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

​২. শিক্ষকের সক্ষমতা ও মর্যাদা

​শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড হলেও, সেই মেরুদণ্ডকে যারা শক্তিশালী করেন—সেই শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং সক্ষমতা একটি গুরুতর সমস্যা।

অযোগ্য, অদক্ষ ও ​মানহীন শিক্ষক: সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সৃজনশীল শিক্ষক অপরিহার্য, কিন্তু মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষক এই পেশায় আকৃষ্ট হচ্ছেন না, কারণ শিক্ষকদের যথাযথ প্রণোদনা ও সামাজিক মর্যাদা কম।

এই বিষয়ে কিছু দিন পুর্বে শিক্ষকদের আন্দোলন প্রমাণ করে, 

শিক্ষকদের জীবন মান কতটা করুণ। 

​রাজনৈতিক প্রভাব ও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে রাজনীতিকীকরণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর ফলে যোগ্য শিক্ষকরা পিছিয়ে পড়েন এবং অযোগ্যরা ক্ষমতা লাভ করে।

​গবেষণায় অপ্রতুলতা: উচ্চ শিক্ষায় গবেষণার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অত্যন্ত কম। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের বার্ষিক বাজেটের খুবই সামান্য অংশ গবেষণায় ব্যয় করে, যা বৈশ্বিক জ্ঞানসূচকে (Global Knowledge Index) বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

​৩. শিক্ষানীতি ও পাঠ্যক্রমের বিতর্ক

​জাতীয় শিক্ষানীতি বা পাঠ্যক্রমে যখন কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তখন তা প্রায়শই বিতর্কের জন্ম দেয়। অনেকে এটিকে "পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ধ্বংসের" একটি অংশ হিসেবে দেখছেন।

শেখ হাসিনার সরকার আমলে পাঠ্যসূচিতে এমন অনেক কিছু সংযোজন করা হয়েছে যা অত্যন্ত বিতর্কিত ও অপ্রত্যাশিত অপ্রয়োজনীয়। 

​বহুধাবিভক্ত শিক্ষা: দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণ শিক্ষা, মাদ্রাসা শিক্ষা, ইংরেজি মাধ্যম (O/A Level) ইত্যাদি বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত, যার ফলে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে এবং গ্রাম-শহরের শিক্ষায় দৃষ্টিকটু বৈষম্য সৃষ্টি হয়। সকলের জন্য এক ও অভিন্ন শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের উদ্যোগ থাকলেও তাতে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা যায়।

​নতুন শিক্ষাক্রমের প্রভাব: ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে নবম ও দশম শ্রেণিতে বিভাগ না রাখা এবং পরীক্ষা পদ্ধতির মৌলিক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারো কারো মতে, এতে শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ কমবে, আবার অনেকে বলছেন—এতে শিক্ষার মান আরও কমবে এবং মৌলিক বিষয়ের জ্ঞান দুর্বল হবে।

​সাম্প্রদায়িকতা ও অসঙ্গতি: পাঠ্যপুস্তকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছে কিনা, কিংবা ইতিহাস বা ধর্মীয় বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে কিনা—এই সংক্রান্ত বিতর্ক ও অভিযোগও সময়ে সময়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

​৪. অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা

​বৈষম্যমূলক অবকাঠামো: গ্রামীণ ও দরিদ্র এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ঘাটতি থাকায় সেখানে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছু বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

এগুলো দেখার কেউ আছে বলে অন্তত আমার মনে হচ্ছে না। 

​নিয়ন্ত্রণের অভাব: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যত্রতত্র অনার্স কোর্স খোলার অনুমতি দেওয়া হয়, যা মানহীন শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করে কোচিং বাণিজ্যকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

​উপসংহার: ষড়যন্ত্র নাকি অব্যবস্থাপনা?

​বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান এই সমস্যাগুলোর সামগ্রিক ফল দেশকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সমস্যাগুলোকে যখন কোনো "গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্র" হিসেবে অভিযোগ করা হয়, তখন এর পেছনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগও থাকে যে, তাদের প্রতিপক্ষরা শিক্ষাকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে জাতিকে মেধাহীন করতে চাইছে।

​তবে, অধিকাংশ শিক্ষাবিদ মনে করেন—এটিকে সরাসরি 'ষড়যন্ত্র' না বলে অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নীতি নির্ধারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব, দুর্নীতি এবং শিক্ষাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ফল বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

​দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন ঘটাতে হলে এই সব সমস্যাকে অস্বীকার না করে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে তোলার জন্য শিক্ষাকে যেকোনো ধরনের সংকীর্ণ স্বার্থ বা রাজনীতিমুক্ত রেখে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।


এতক্ষণ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতা ও বিতর্কিত দিকগুলো আলোচনা করা হয়েছে, যা অনেকে 'ষড়যন্ত্রের' ফল হিসেবে অভিহিত করে থাকেন, 

এবার সেই আলোচনার সাথে শিক্ষা কিছু দিন ধরে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দ্বারা অন্য প্রতিষ্ঠানে বা অভ্যন্তরীণভাবে হামলার ঘটনাগুলো সংযুক্ত করে একটি তথ্যবহুল লেখা নিচে তুলে ধরা হলো। 

যদিও লেখটা বড় হয় যাচ্ছে তবুও শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের জন্য, আমার এই লেখাটি পড়ার অনুরোধ থাকলো। 


শিক্ষার্থীদের এই সংঘাত ও সহিংসতাগুলো শিক্ষাব্যবস্থার মান ও পরিবেশকে ধ্বংস করার অন্যতম প্রধান কারণ।

​বাংলাদেশের শিক্ষাব্যস্থা: দুর্বলতা, বিতর্ক ও সহিংসতার অভিশাপ

​বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিতে একটি গোষ্ঠী গভীর ষড়যন্ত্র করছে—এই অভিযোগটির মূল ভিত্তি হলো শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান হ্রাস, নীতিগত দুর্বলতা এবং শিক্ষাঙ্গনের ব্যাপক সহিংসতা ও অস্থিরতা। শিক্ষার মূল লক্ষ্য যখন জ্ঞান অর্জন ও নৈতিক মানবসম্পদ তৈরি, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংঘাত আর হানাহানির কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

​১. শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ ও নীতিগত দুর্বলতা (পূর্বের আলোচনার সারসংক্ষেপ)

​পরীক্ষা-সর্বস্বতা ও মানহীনতা: GPA 5-এর দৌড়ে শিক্ষার্থীরা ছুটছে, কিন্তু হাতে-কলমে বা বাস্তব জ্ঞান অর্জন থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

​শিক্ষক সংকট ও দুর্নীতি: যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।

​বহুধাবিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থা: গ্রাম-শহর ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে শিক্ষার সুযোগে ব্যাপক বৈষম্য বিদ্যমান। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

​২. শিক্ষাঙ্গনের সংঘাত ও সহিংসতার বাস্তবতা: ধ্বংসের দৃশ্যমান রূপ

​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের, বিশেষত ছাত্র রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা কর্মীদের দ্বারা অভ্যন্তরীণ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।

​ক. আন্তঃশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংঘাত

​ক্যাম্পাসের বাইরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর ঘটনা এখন নৈমিত্তিক।

বিশেষ করে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। 

​সাম্প্রতিক উদাহরণ: গণমাধ্যমে প্রায়ই ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (যেমন: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের খবর আসে, যেখানে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। এই সংঘাত শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনই নয়, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও বিঘ্নিত করে।

আন্তর্জাতিক মহলে ও এর বেশ প্রভাব বিস্তার করে, আমাদের দেশের সুনাম ক্ষুন্ন হয় ।

​বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ: অনেক সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানের বাইরের বহিরাগত বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ডেকে এনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়, যা সহিংসতাকে আরও ভয়াবহ রূপ দেয়।

​খ. অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও টর্চার সেলের সংস্কৃতি

​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে, বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার পরিবেশকে বিষিয়ে তুলেছে।

​রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই: সংঘাতের মূল কারণ হলো ছাত্র রাজনীতির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। এই আধিপত্যের মূলে থাকে হল দখল, সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মতো অর্থনৈতিক ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব।

​শিক্ষার্থী নির্যাতন: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে 'টর্চার সেল'-এর মতো নির্দিষ্ট কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এই নির্যাতনের শিকার হন মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

​নির্যাতনের কারণ: সিনিয়র নেতাকে 'যথেষ্ট সম্মান' না দেখানো, গেস্টরুমের মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকা, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে ব্যর্থ হওয়া, এমনকি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতি দেখানো বা সে সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টে লাইক দেওয়াই এই নির্যাতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

​গ. শিক্ষার পরিবেশের ওপর প্রভাব

​এই সহিংসতা বাংলাদেশের র শিক্ষার পরিবেশকে সরাসরি ধ্বংস করে দিচ্ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। 

​নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক: সংঘাত-সংঘর্ষের কারণে অনেক সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হয়, শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এতে তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

​মেধাবীদের বিচ্যুতি: যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, সেখানে তারা রাজনৈতিক দলের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে এবং সংঘাতের কারণে নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। অনেক মেধাবী ছাত্রের জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে।

​আদর্শিক অবক্ষয়: ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় অতীত থাকা সত্ত্বেও, বর্তমানে এর নেতিবাচক রূপ দেশের সচেতন মানুষকে চিন্তিত করছে। এটি ছাত্রদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের পরিবর্তে স্বার্থপরতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

​৩. উপসংহার: ধ্বংসের দায়ভার কার?

​বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের অভিযোগটি অমূলক নয়। যখন একটি শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞানের চেয়ে সনদ, শিক্ষকের চেয়ে ক্ষমতা এবং পড়ালেখার চেয়ে সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন সেই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পচনের দিকে ধাবিত হয়।

​শিক্ষাঙ্গনের এই ধারাবাহিক সংঘাত, দুর্বল নীতি, ও মানহীনতা প্রমাণ করে—হয় কোনো অশুভ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাহীন করতে চাইছে, অথবা সুশাসনের অভাব, রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল ও জবাবদিহিহীনতার কারণে শিক্ষাব্যবস্থা নিজেই তার ধ্বংস ডেকে আনছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ, ছাত্র রাজনীতির সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষাকে রাজনীতি ও দুর্নীতিমুক্ত করা অপরিহার্য বলে আমি মনে করি ।

___-___

✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

২৭ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...