সাম্প্রতিক রাজনীতির চালচিত্র:
ভা/রত, বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর সমীকরণ
সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ কিছু বিষয় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সমীকরণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভা/রতের আগ্রহ নিয়েও জল্পনাকল্পনা চলছে। বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ও রাজনৈতিক তৎপরতাকে এক সূত্রে গাঁথার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
তারেক রহমানকে ঘিরে ভা/রতের মনোযোগ
রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন, বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে ভা/রত বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন এবং তাকে ঠেকাতে মরিয়া। তবে এই 'মরিয়া ভাব'-এর কারণ বা এর পেছনে দি' ল্লির সুনির্দিষ্ট কৌশল কী, তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি'কে দুর্বল করা বা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ভারতীয় তৎপরতার অংশ হিসেবেই এই গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে।
বিএনপি'র 'অতি আত্মবিশ্বাস' ও বুমেরাং-এর আশঙ্কা
এদিকে, বিএনপি'র মধ্যে একটি 'অতি আত্মবিশ্বাস' কাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। তাদের আশঙ্কা, এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দলটির জন্য শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত জটিল হওয়ায়, যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বা অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি দলটিকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার ও জামায়াতপন্থিদের প্রভাব
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর আলোচনাগুলোর মধ্যে একটি হলো অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্ষেত্রে জামায়াতপন্থিদের প্রভাব বৃদ্ধি। অভিযোগ উঠেছে, সরকার যেন এই দুটি মন্ত্রণালয়কে প্রকারান্তরে জামায়াতপন্থিদের ইজারা দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রায় প্রতিটি সেক্টর ও বিভাগে জামায়াত-সমর্থকরা নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এটা দুটি কারণে হতে পারে :
১ /জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীদের মেধা ও সততা যোগ্যতার ভিত্তিতে তারা এই প্রতিষ্ঠান গুলোতে বিএনপি বা অন্য দলের নেতা কর্মীদের চেয়ে এগিয়ে আছে তাই এই পদ গুলো কি জামায়াত পেয়েছে।
২ / জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির নেতা কর্মীদের চাঁদাবাজি, খু'ন' ধর্ষণ,
অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্তঃকোন্দোল ও অনৈক্যের কারণে এই পদ গুলো পায়নি।
তার পরেও এই বিষয়টি সরকারের নিরপেক্ষতা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
জামায়াতকে কাজে লাগাতে ভারতের ভিন্ন কৌশল
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ভারত নাকি দেওবন্দের স্কলারদের কাজে লাগিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর প্রভাব কমাতে বা তাদের একটি নির্দিষ্ট ছাতার নিচে এনে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভারত এই কৌশল নিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এর ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
ইসলামী দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন এবং খেলাফত আন্দোলনের অবস্থান
এই পরিস্থিতিতে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটদলীয় ইসলামী সমমনা দল যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারা কয়েকটি অভিন্ন দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি দেওয়া হলেও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মাঠে নামেনি। তাদের মাঠে না নামাটা জোটের ঐক্য বা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এটি জোটের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য কিংবা বিশেষ কোনো রাজনৈতিক কৌশলের ফল হতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতি এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ভা+রত, বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী দলগুলোর কার্যকলাপ একে অপরের সঙ্গে এমনভাবে বিভাজনে জড়িয়ে যাচ্ছে যে, এর চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন।
তবে ভা*রত যেকোনো উপায়ে আওয়ামী লীগকে পূর্নভাসন করার চেষ্টা করবে এটা নির্ভূল সত্য,
সেটা বিএনপির ঘাড়ে ছড়িয়ে হোক নয় তো বা বিএনপির ঘাড়ধাক্কা দিয়ে হোক।
আমি মনে করি বিএনপি সহ বাংলাদেশের সচেতন জনগণকে আরো সতর্ক থাকা উচিত।
----:----
✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২১ /১০ /২০২৫
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন