সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইসলামে নির্বাচন (ভোট দেওয়া) জায়েজ বা বৈধ কিনাঃ-

 ইসলামে নির্বাচন (ভোট দেওয়া) জায়েজ বা বৈধ কিনাঃ-


এই বিষয়ে ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ থাকলেও, অধিকাংশ স্কলার ও সমসাময়িক ইসলামী চিন্তাবিদগণ এটিকে জায়েজ মনে করেন।


​নির্বাচনকে জায়েজ মনে করার পেছনে তাঁদের মূল যুক্তিগুলো হলো:

​১. খলিফা নির্বাচন: ইসলামের ইতিহাসে নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর হযরত আবু বকর (রা.)-কে সাহাবাদের পরামর্শ (শুরা) ও মতামতের ভিত্তিতে খলিফা নির্বাচিত করা হয়েছিল। নির্বাচন প্রক্রিয়া বা ভোট তারই একটি আধুনিক রূপ।

২. কল্যাণ ও অকল্যাণের নীতি: ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো "কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ দূর করা" (جلب المصالح ودرء المفاسد)। অনেক স্কলার মনে করেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন সৎ, যোগ্য ও ইসলাম-বান্ধব ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা সম্ভব হলে তা মুসলিম সমাজের জন্য বৃহত্তর কল্যাণ বয়ে আনে এবং সমাজের ক্ষতি বা অকল্যাণ দূর করতে সাহায্য করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নির্বাচনকে বৈধ বা ক্ষেত্রবিশেষে আবশ্যকও বলা হয়।

৩. আমানত ও সাক্ষ্য: ভোট দেওয়াকে অনেক স্কলার সুপারিশ বা সাক্ষ্য হিসেবে দেখেন। একজন ভোটার যাকে ভোট দেন, তিনি সাক্ষ্য দেন যে এই ব্যক্তি নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যোগ্য। আর ক্ষমতা বা নেতৃত্ব হলো এক বিশাল আমানত, যা যোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া ইসলামের নির্দেশ।

​তবে, যারা নির্বাচনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেন বা এটিকে জায়েজ মনে করেন না, তাদের যুক্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

​বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতিগুলো পুরোপুরি ইসলামী শরিয়াহ-ভিত্তিক নয়, বরং মানব-সৃষ্ট আইনের ওপর ভিত্তি করে চলে।

​অনেক ক্ষেত্রে এটি শিরক বা কুফরের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যদি কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো আইনকে আল্লাহর আইনের চেয়ে উত্তম মনে করে।

​ইসলামের মূলনীতি হলো আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা, আর গণতান্ত্রিক নির্বাচন সেই লক্ষ্য থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।


​সারসংক্ষেপ:

​আধুনিক প্রেক্ষাপটে, মুসলিম দেশগুলোতে এবং অমুসলিম দেশগুলোতে বসবাসরত মুসলিমদের অধিকার রক্ষায়, বেশিরভাগ স্কলার এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য সৎ, যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও ইসলাম-সম্মত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা এবং সমাজের কল্যাণ করা হয়, তবে তা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হিসেবেও গণ্য হতে পারে, যেখানে ভোটারদের নিয়ত ও নির্বাচিত প্রার্থীর কার্যকলাপের উপর সওয়াব ও গুনাহ নির্ভর করে।

​তবে সর্বাবস্থায়, প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং খোদাভীতি ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

----:----

✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

১৬ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সময়ের উক্তি : ✍️মোহাম্মদ মিজান

সময়ের উক্তি ((((লেখক✍️মোহাম্মদ মিজান)))) বিবস্ত্রকে নির্লজ্জ বললে কিবা যায় আসে ! যাঁকে দেখে লজ্জা শরম মিটমিটিয়ে হাসে! হিংসুটেরা মহা খুশি আজ মাজারে করবে ফুর্তি, তাড়িয়ে ছাড়ল কুরআন পাখি দিয়ে ভ্রান্ত যুক্তি । অন্ধের দেশে   কুরআন আয়না          বেচতে এলেন                   আজহারী,             গাঁজার কোলকি           হাতে নিয়ে    তাড়িয়ে ছাড়ল মাজারী। (মোহাম্মদ মিজান) কে মাজারী?কে বাজারি? চিনিয়ে দিল আজহারী, বুঝে গেছেন এ যুবসমাজ কুরআন বেশি দরকারি। (মোহাম্মদ মিজান) নর্তকী আর হরতকি কদিন থাকে শাখে? ভালো মানুষেরা এ তেল গায়ে কি আর মাখে? (((মোহাম্মদ মিজান))) ঝর্ড় বৃষ্টি কিছুই নেই তবু হুজুরের       জনপ্রিয়তার সংকট , বর্তমান যুবসমাজ সচেতন তাই        শুরু হয়েছে বয়কট। (((মোহাম্মদ মিজা...

প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস

  ​প্রবাসের দীর্ঘশ্বাস: নাজমুলের গল্প ​নাজিমুল—একটি নাম, যার শুরু হয় ছব্বিশ বছরের ক্লান্তিহীন সংগ্রাম। ​কুয়েতের তপ্ত বালিতে তার জীবন কেটেছে। সূর্য ওঠার আগে শুরু হওয়া কাজ আর গভীর রাতে ফেরা—এই ছিল তার দৈনন্দিন রুটিন। কোনোদিন রাজমিস্ত্রির জোগালি, কোনোদিন দোকানের কর্মচারী, কখনও বা ছোটখাটো নির্মাণ কাজ। সেলাইয়ের কাজ। বিদেশী হোটেলে চা কফি বার্গার বানানো মতো কাজ । প্রতিটি ইটের কণার মতো হালাল উপার্জনের প্রতিটি টাকা ছিল তাঁর কপাল বেয়ে ঝরে পড়া নোনা জলের ফসল। এই কষ্ট তিনি হাসিমুখে সয়েছেন, কারণ প্রতিটি দিনশেষে তাঁর মনে হতো, এই টাকাটা হাজার মাইল দূরে থাকা তাঁর পরিবারের মুখের হাসি হয়ে ফিরবে। ​টাকা জমলেই তিনি পাঠিয়ে দিতেন দেশে। মনে শান্তি পেতেন, ভাবতেন তাঁর ভাই-বোনেরা হয়তো তাঁর কষ্টের কথা মনে রেখে এই টাকা দিয়ে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ছে। ​কিন্তু দীর্ঘ ছাব্বিশ বছর পর, যখন প্রবাস জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি স্বদেশের মাটিতে পা রাখতে চাইলেন, তখন আসল চিত্রটা তাঁর সামনে এল। ​দেশে এসে তিনি দেখলেন, তাঁর পাঠানো টাকা দিয়ে কেনা জমি বা বাড়ি কিছুই সুসংগঠিত নেই। বরং তাঁর ভাই-বোনেরা সেই কষ্টের টাকা নিজেদে...

যদি এমন হয়!!!

 যদি এমন হয়!!!  ✍️ মোহাম্মদ মিজান ............ 🇧🇩 ........  #আইচ্ছা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যদি বলেন চার বাহীনির প্রধান এখন থেকে আমি এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেই আমি এই পদ গুলো ছেড়ে দেব, তখন কি করবেন? #আগামী কাল ঘুম থেকে উঠে যদি শুনেন প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া বিতর্কিত ব্যক্তি শাহাব উদ্দিন চুপ্পুকে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন! এবং তিনি ঘোষণা করেছেন যে আগামীতে যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে তারাই একজন যোগ্য লোককে নতুন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিবে সবার মতামতের ভিত্তিতে, তখন কারো কিছু করার থাকবে কী?  #আজকে কেন জানি আমার মনে হচ্ছে যদি নির্বাচন কমিশন এমন একটা আইন জারি করে যে আগামী নির্বাচনে যেই দল যে আসনে প্রার্থী ঘোষণা করবে সেখানে যদি ঐ দলেরই কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়ায় তবে ঐ দলের কেউ ঐ আসনে আর নির্বাচন করতে পারবে না, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এমন আইন করতেই পারে তখন দল গুলোর অবস্থা কেমন হবে?  #সর্ব শেষ একটা কথা বলি - য...