ডাকসুর মাদক বিরোধী অভিযান:
হয় ডাকসু, নয় মাদক সিন্ডিকেট - জিএস ফরহাদের হুঁশিয়ারি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদক ব্যবসা ও মাদকের অপব্যবহার নির্মূলে সাম্প্রতিক সময়ে যে কঠোর অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তাতে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদের জোরালো ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মাদকের বিরুদ্ধে এই আপোষহীন অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— "হয় ডাকসু থাকবে, নতুবা অবৈধ ব্যবসা-মাদক সিন্ডিকেট থাকবে; দুটো একসাথে চলতে দেবো না।"
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষাবর্ষ নিশ্চিত করা ডাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বহিরাগতদের আনাগোনা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। শিক্ষার্থীরা প্রায়শই ক্যাম্পাসের অরক্ষিত স্থানগুলোতে মাদকাসক্তদের বিচরণ এবং অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগ করে আসছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই ডাকসুর উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এই মাদক বিরোধী অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ মাদকের আস্তানা এবং অবৈধ সিন্ডিকেটগুলো ভেঙে দেওয়া।
এস এম ফরহাদের দৃঢ় অঙ্গীকার:
ডাকসুর জিএস হিসেবে এস এম ফরহাদ শুরু থেকেই মাদক এবং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজন কেবল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বহিরাগত হকার বা মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য ক্যাম্পাসে কোনো স্থান নেই। তাঁর এই বক্তব্য সেইসব প্রভাবশালী মহলের দিকে ইঙ্গিত করে, যারা ক্যাম্পাসে মাদক ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হয় ডাকসু তার মূল উদ্দেশ্য এবং পবিত্রতা বজায় রাখবে, নয়তো মাদক ও অবৈধ ব্যবসার সিন্ডিকেট ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করবে— এই দুইয়ের সহাবস্থান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাঁর এই বক্তব্য ক্যাম্পাসের মাদকবিরোধী আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সমালোচনা ও বিতর্ক:
এই অভিযানের ফলে ক্যাম্পাসে ভবঘুরে ও ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ শুরু হলে এর পক্ষে-বিপক্ষে কিছু সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। কিছু মহল উচ্ছেদ অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বা এটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। তবে জিএস ফরহাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, যাদের পুরনো মাদক ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের সিন্ডিকেট এই অভিযানের ফলে ভেঙে যাচ্ছে, তারাই এই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ডাকসু স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তাদের অভিযান মাদকমুক্ত ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে, কোনো মানবিক সংকটের উদ্দেশ্য নেই।
উপসংহার:
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদের "হয় ডাকসু থাকবে, নয় অবৈধ ব্যবসা-মাদক সিন্ডিকেট" মন্তব্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। এই অভিযান কেবল মাদক ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ নয়, বরং ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ডাকসুর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ক্যাম্পাসের পবিত্রতা ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে ডাকসুর এই কঠোর পদক্ষেপ শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
-:-✍️ এআই মোহাম্মদ মিজান
কুয়েত থেকে
২৬ /১০/২০২৫
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন