সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

​সুবিধাবাদী বসন্তের কোকিলেরা:

 

​সুবিধাবাদী বসন্তের কোকিলেরা: 

সংগ্রামীর অশ্রুতে সিক্ত দলীয় প্রাঙ্গণ

​সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে যে 'জুলাই বিপ্লবের মধ্যেদিয়ে যে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরতে পরতে আজ একটি প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে—ত্যাগীদের স্থান কোথায়? নাকি, সংগ্রাম আর জেল-জুলুমের পথ পেরিয়ে যারা দল ধরে রেখেছিলেন, তাদের বদলে এখন সুবিধাভোগী ও নব্য-নেতাদের জয়জয়কার?


​দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের কঠিন জুলুম অত্যাচার দুর্শাসনে বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলোর ওপর নেমে এসেছে সীমাহীন নির্যাতন। কিন্তু এই নির্যাতনের চিত্র সবার জন্য এক ছিল না। একদল নেতা-কর্মী যখন মিথ্যা মামলা, অর্থনৈতিক বিপর্যয় চাকরিচ্যুত এবং শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, আরেক দল তখন সুকৌশলে নিজেদেরকে প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে রেখেছিলেন। এই দ্বিতীয় দলটিই হলো সেই অংশ, যারা তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও তার সরকার মহলের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক’ বজায় রেখে নির্বিঘ্নে নিজেদের ব্যবসা ও অবস্থান সুরক্ষিত রেখেছেন।


আজ ​কোনঠাসা সেই সব নির্যাতিত পোড়-খাওয়া নেতারা ​আওয়ামী লীগ আমলে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকেছেন, মাসের পর মাস কারাভোগ করেছেন,দেশান্তরী হয়ে ছিল বছরের পর বছর, আজ তারাই দলের ভেতরে সবচেয়ে বেশি কোনঠাসা। তাদের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ আজ যেন মূল্যহীন। তাদের আর্থিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় যোগাযোগে ঘাটতি, অথবা বড় কোনো আর্থিক লবিংয়ের ক্ষমতা না থাকাই তাদের কাল হয়েছে।


​বিপ্লবের পর নতুন কমিটি বা নতুন কার্যক্রমে যখন ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হওয়ার কথা ছিল, তখন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। তাদের বদলে সেই সব ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ বা সুযোগ দখল করছেন, যারা কঠিন সময়ে নিশ্চুপ ছিলেন দলের পক্ষে মিছিল মিটিং তো দূরের কথা ফেসবুকের মতো সোস্যাল মিডিয়াতে একটা পোস্টও করেনি । 


অথচ ত্যাগী কর্মীরা নীরবে-নিঃশব্দে, হয়তো পুরোনো মামলার বোঝা নিয়ে, অথবা চরম হতাশা নিয়ে দলের প্রান্তিক অবস্থানে দিন কাটাচ্ছেন।

​সুবিধাবাদীদের নীরব জয়

​অন্যদিকে, যারা মামলা-মোকদ্দমা এড়িয়ে চলতেন, দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকতেন, সেই 'বসন্তের কোকিলেরা' এখন মঞ্চের সামনের সারিতে। তারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিজেদের যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে আরও সুরক্ষিত অবস্থানে চলে এসেছেন। 

স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর ও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে মিলেমিশে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করছে। 

এই কুসুম কুসুম বিএনপি নেতাদের জন্য 'জুলাই বিপ্লব' যেন নতুন করে সুযোগ এনে দিয়েছে নিজেদের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করার।

​এতে দলের মধ্যে এক ভয়াবহ দ্বৈততা তৈরি হয়েছে। 

কর্মীদের মনে প্রশ্ন জাগছে—সংগ্রামের ফল কি তবে ত্যাগীরা নয়, বরং সুবিধাবাদীরা ভোগ করবে? যদি তাই হয়, তাহলে আগামী দিনে আবার যখন কঠিন সময় আসবে, তখন কর্মী বাহিনী আর নেতৃত্বকে স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন জানাতে এগিয়ে আসবে কি?


​উপসংহার

​দলকে শক্তিশালী করতে হলে এই আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে, একটি রাজনৈতিক দলের আসল শক্তি হলো সেই সব কর্মী, যারা ঝড়েও শিকড় আঁকড়ে ধরেছিল। ত্যাগীদের অশ্রু আর সুবিধাভোগীদের বিজয় দিয়ে কোনো আন্দোলন সফল হতে পারে না। যদি ন্যায্যতার ভিত্তিতে দলের মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারিত না হয়, তবে এই ক্ষোভ ও হতাশা ভবিষ্যতে দলের জন্য আরও বড় সাংগঠনিক সংকটের জন্ম দেবে।

বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিবে, ইতিমধ্যে অনেকেই জামায়াত শিবিরের মতো দলে যোগদান করতে শুরু করেছে। 

​এখনই সময় এসেছে, দলের ভেতর থেকে এই বৈষম্য দূর করে, ত্যাগী নেতাদের সম্মান ও মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার। কারণ, তারাই যেকোনো কঠিন সময়ে দলের আসল ঢাল।


আমি নিজেই এই বৈষম্যের শিকার হয়েছি, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের আমলে অন্যায় অবিচার দূর্শাসন জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে কবিতা, গল্প গান উপন্যাস লিখে প্রতিবাদ করে বাড়ি ঘর সব হারিয়েছি, এমন কি দশ বছর দেশান্তরী ছিলাম।


আজকে কিছু হাইব্রিড বিএনপি নেতা কর্মী আওয়ামী লীগের মতো আমাকে হুমকি ধমকি দিচ্ছে॥

বিএনপির ত্যাগী মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্যারের পরিবার থেকে চাঁদা নিতে বিএনপির নেতা কর্মীদের বিবেকে বাধলো না!

আফসোস এই বিএনপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে একদিন প্রিয় এই দলটিও আওয়ামী লীগের মত বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

দল ঠিক করার জন্য।॥


✍️ মোহাম্মদ মিজান

কুয়েত থেকে

০৮ /১০ /২০২৫ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

তৃণমূলের এই দূর্দশা

 তৃণমূলের এই দূর্দশা লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  -----:----- দিনের বেলায় জিয়ার সৈনিক রাতের বেলায় গরু চোর, দলের পদ-পদবীতেও আছে  এই সমস্ত গাঁজাখোর। সেল্ফি তুলে নেতার সাথে দেখায় জনে জনে, গাও গ্রামের সাধারণ মানুষ তাকেও নেতা মানে। আসলে এরা সুবিধাভোগী ক্ষমতা লোভী চরম, আদপ লেহাজ মোটেও নাই নাই লজ্জা শরম । এরাই সমাজের বিষফোঁড়া দল ও জাতির কলঙ্ক,  তবুও কেনো এরা দলে আছে বুঝলাম না এই অংক!  দলীয় হাইকমান্ড কি দেখে না তৃণমূলের এই দূর্দশা,  দিনে দিনে বিএনপির উপর থেকে  উঠে যাচ্ছে ভরসা।  -----:---- কুয়েত থেকে  ০৭ /১০ /২০২৫ 

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি

কবিতা :- অবহেলার ঋণ ও শেষ বিকেলের প্রাপ্তি লেখক ✍️ মোহাম্মদ মিজান  :::::---::::: ​সময়ের পিঠে চড়ে যৌবন যখন শেষের স্টেশনে থামে, তখন মানুষ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হারানো দিনগুলো খোঁজে। যে নারী আজ শেষ বয়সে খিটখিটে মেজাজে স্বামীর প্রতি বিরক্তি ঝাড়ে, লোকে হয়তো তাকে 'অলক্ষ্মী' বলে গালি দেয়— কিন্তু কেউ তার সেই পুরনো ক্ষতগুলো খুলে দেখার চেষ্টা করে না। ​আসলে, শেষ বয়সে এসে এই অযাচিত অভিযোগগুলো হুট করে জন্ম নেয়নি তার মাঝে। এগুলো সেই বিষাক্ত অবহেলার ফল— যা তিনি পেয়েছিলেন তার পূর্ণ রূপবতী যৌবনের দিনগুলোতে। যখন তার একটু ভালোবাসার তৃষ্ণা ছিল আকাশচুম্বী, তখন তাকে দেয়া হয়েছিল নিদারুণ অবজ্ঞা আর একাকীত্বের বিষ। ​হয়তো সেদিন তার অভিমানগুলো কোনো এক অন্ধকার কোণে ডুকরে কেঁদেছিল, কিন্তু আজ সেই কান্নাই কণ্ঠে ধারালো ভাষা হয়ে ফিরে এসেছে। ​অথচ বাস্তবতা বড় সহজ হতে পারত— যদি যৌবনের সেই উত্তাল সময়ে স্ত্রীর হাতের তালুতে একটু যত্নের ছোঁয়া থাকত, যদি ক্লান্ত বিকেলে এক গ্লাস জলের সাথে উপহার দেয়া হতো সামান্য কৃতজ্ঞতা, তবে শেষ বয়সের এই ধূসর গোধূলি বেলাতে— সেই নারীই হতেন পরম নির্ভরতার এক শীতল বৃক্ষ। ​যৌবনে স্ত্রীকে ...

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের কবিতা 👉 অন্য বসন্তের গান

 অন্য বসন্তের গান লেখক ✍️ —মোহাম্মদ মিজান  সবাই যখন জেনেশুনে নির্দিষ্ট ছকে জীবনের নাম লেখে— বাবা কিংবা মা, ভাই কিংবা বোন— তখন জন্মেই কারো গায়ে সেঁটে যায় 'উপেক্ষা'র এক নিষ্ঠুর লেবেল। প্রকৃতি তাকে এঁকেছিল অন্য কোনো রঙের তুলিতে— কোমল, বিরল, অপূর্ব এক আলোয়। অথচ পৃথিবীর ব্যাকরণ তাকে চিনতেই ভুলে গেল। আয়নার সামনে দাঁড়ালে কোনো বিভাজন চোখে পড়ে না তাদের— শুধু থাকে এক জোড়া তৃষ্ণার্ত চোখ, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, ডানা মেলার গভীর আকুতি। কিন্তু রাজপথে যখন তারা নামে, মানুষের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিগুলো তলোয়ারের মতো বিঁধতে থাকে বুকের ঠিক মাঝখানে। প্রতিটি পদক্ষেপ হয়ে ওঠে একটি নীরব যুদ্ধ। তালি বাজানো সেই হাতগুলোর আড়ালে কত যে না-বলা হাহাকার জমে আছে— তার হিসেব কেউ কোনোদিন রাখেনি। তারাও তো চেয়েছিল কোনো এক দপ্তরে কলম ধরতে, বইয়ের পাতায় নিজের নাম লিখতে। চেয়েছিল প্রিয়জনের উষ্ণ হাত ধরে গোধূলির আলোয় নিভৃতে কথা বলতে। অথচ সমাজ তাদের শিখিয়ে দিল— বেঁচে থাকা মানে টিটকিরি আর করুণার মিশেলে এক অন্তহীন, ক্লান্তিকর যুদ্ধ। মাঝরাতে যখন দূর থেকে ট্রেনের বাঁশি ভেসে আসে, কিংবা নির্জন বস্তির ক...